ঢাকা , শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্পিকারের নাম প্রায় চূড়ান্ত, এই সপ্তাহেই ঘোষণা

সাংবাদিক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে পরবর্তী স্পিকার হিসেবে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এই পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ তারিখের মধ্যেই স্পিকারের নাম চূড়ান্তভাবে ঘোষণা হতে পারে। দলীয় ও সংসদীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, জয়নুল আবেদীনের দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতা ও সাংবিধানিক বিষয়ে গভীর জ্ঞান তাকে এই পদের দৌড়ে এগিয়ে রাখছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত এবং বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদীয় অভিজ্ঞতা ও আইনি দক্ষতার সমন্বয়ে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য যোগ্য মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, নরসিংদী-২ আসন থেকে চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নামও সমান গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেও প্রবীণ এই নেতা এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসেবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তাকে স্পিকার পদের জন্য অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদে অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ পরিচালনায় আইনি ব্যাখ্যা ও বিতর্ক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার বিষয়টিই চূড়ান্ত নির্বাচনে প্রধান বিবেচ্য হতে পারে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ভিন্নমুখী আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ হিসেবে জয়নুল আবেদীন সংসদ পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। আবার অনেকের মতে, প্রবীণ ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে ড. আবদুল মঈন খান স্পিকার পদে ভালো করবেন। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে দলীয় কৌশল ও সংসদীয় সমীকরণের ওপর।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংসদ সদস্যদের ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হবেন। সাধারণত বিদায়ী স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার নির্বাচনের বিধান থাকলেও এবার সেই প্রক্রিয়ায় কিছুটা ব্যতিক্রম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি এখন আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির দিকে, যেদিন নির্ধারিত হবে ত্রয়োদশ সংসদের অভিভাবক কে হচ্ছেন।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৫:৫৫:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫২৩ Time View

স্পিকারের নাম প্রায় চূড়ান্ত, এই সপ্তাহেই ঘোষণা

আপডেটের সময় : ০৫:৫৫:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে পরবর্তী স্পিকার হিসেবে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এই পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ তারিখের মধ্যেই স্পিকারের নাম চূড়ান্তভাবে ঘোষণা হতে পারে। দলীয় ও সংসদীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, জয়নুল আবেদীনের দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতা ও সাংবিধানিক বিষয়ে গভীর জ্ঞান তাকে এই পদের দৌড়ে এগিয়ে রাখছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত এবং বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদীয় অভিজ্ঞতা ও আইনি দক্ষতার সমন্বয়ে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য যোগ্য মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, নরসিংদী-২ আসন থেকে চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নামও সমান গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেও প্রবীণ এই নেতা এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসেবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তাকে স্পিকার পদের জন্য অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদে অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ পরিচালনায় আইনি ব্যাখ্যা ও বিতর্ক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার বিষয়টিই চূড়ান্ত নির্বাচনে প্রধান বিবেচ্য হতে পারে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ভিন্নমুখী আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ হিসেবে জয়নুল আবেদীন সংসদ পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। আবার অনেকের মতে, প্রবীণ ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে ড. আবদুল মঈন খান স্পিকার পদে ভালো করবেন। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে দলীয় কৌশল ও সংসদীয় সমীকরণের ওপর।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংসদ সদস্যদের ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হবেন। সাধারণত বিদায়ী স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার নির্বাচনের বিধান থাকলেও এবার সেই প্রক্রিয়ায় কিছুটা ব্যতিক্রম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি এখন আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির দিকে, যেদিন নির্ধারিত হবে ত্রয়োদশ সংসদের অভিভাবক কে হচ্ছেন।