করোনাভাইরাসের মহামারিতে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ মারা গেছেন। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ১৯ লাখে। এতে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৪১ কোটি ৫৭ লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৮ লাখ ৫৫ হাজার।

বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯ হাজার ৯৮১ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় তিন হাজার। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬৩২ জনে।

একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ১৭২ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫ লাখ। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ কোটি ৫৭ লাখ ৭৪ হাজার ৮১৫ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে জার্মানিতে। এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫১৫ জন এবং মারা গেছেন ২১৪ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে ইউরোপের এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ৪২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১ লাখ ২০ হাজার ৯২৪ জন মারা গেছেন।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯১ হাজার ৪৮৬ জন এবং মারা গেছেন ২ হাজার ১২৮ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৭ কোটি ৯৬ লাখ ২৫ হাজার ৭৩২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৯ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ জন মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭০৪ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৩১ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার ৫৯৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার ৬৩৫ জনের। একই সময়ের মধ্যে স্পেনে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ হাজার ৩৮০ জন এবং মারা গেছেন ৩১০ জন।

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯০৯ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৮২৭ জন। অপরদিকে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮২২ জনের।

করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান তৃতীয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫১৫ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ২৮ হাজার ৯০২ জন। মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৪ কোটি ২৭ লাখ ২১ হাজার ৮৪৫ জন এবং মারা গেছেন ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৩ জন।

যুক্তরাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬ হাজার ১৮৬ জন এবং মারা গেছেন ২৩৪ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৯ জন মারা গেছেন। একই সময়ের মধ্যে ইউক্রেনে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯ হাজার ৭২৪ জন এবং মারা গেছেন ৩০৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় তুরস্কে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৪ হাজার ৭৩০ জন এবং মারা গেছেন ৩০৯ জন। একই সময়ে ইতালিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ হাজার ৮৫২ জন এবং মারা গেছেন ৩৮৮ জন।

এছাড়া গত একদিনে ফ্রান্সে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ২৫৩ জন এবং মারা গেছেন ৩৯০ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৫৫৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৭৯ জন মারা গেছেন। গত একদিনে কলম্বিয়ায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৩১ জন এবং মারা গেছেন ১৩৮ জন।

এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় কানাডায় ৯৯ জন, আর্জেন্টিনায় ২৩৬ জন, গ্রিসে ৮১ জন, ইরানে ১৬৭ জন, জাপানে ১৩৫ জন, রোমানিয়ায় ১৯৫ জন, চিলিতে ৩২ জন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৮১ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ১৩৪ জন, হাঙ্গেরিতে ১২৩ জন এবং ভিয়েতনামে ৮৫ জন মারা গেছেন। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মেক্সিকোতে মারা গেছেন ১৪৬ জন। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার এই দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ১২ হাজার ৯৬৫ জনের।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x