ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস চীনের দুর্নীতিতে শীর্ষে পাসপোর্ট অফিস, দ্বিতীয় বিআরটিএ যাকাতভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থার অনন্য দৃষ্টান্ত: ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন এর জীবিকা চাঁদপুর প্রকল্পের ৫ম পর্যায়ের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আজ এসিল্যান্ডসহ কোনো কর্মীর ‘দেখা পাননি’ সচিব, ৮ জনকে শোকজ হিউম্যান রাইটস এলাইভ বরিশাল জেলা শাখার উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জিয়ানগরে উপজেলার নাম পরিবর্তন না করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ আশুলিয়ায় গভীররাতে দোকানসহ বাসাবাড়িতে আগুন সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

ন্যায়বিচার সবার জন্য, তবু গ্রামীণ দরিদ্ররা এখনো বঞ্চিত

ইয়াছির আরাফাত, স্টাফ রিপোর্টার

সংবিধান বলে, ন্যায়বিচার সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বাস্তবে দেশের প্রান্তিক গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী এখনো সেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। সরকারি লিগ্যাল এইড কার্যক্রম থাকলেও সেবার সীমাবদ্ধতা, জনবল ঘাটতি ও আইনি জটিলতার কারণে বহু মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না।

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “একটা জমি নিয়ে ঝামেলা ছিল। শুনলাম সরকার বিনা পয়সায় আইনজীবী দেয়। কিন্তু কোথায় গেলে পাবো, কাকে বলবো—কেউ জানায় নাই। তিন মাস ঘুরেও বিচার পাই নাই।”

তার অভিজ্ঞতা গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের বাস্তব চিত্রই তুলে ধরে। তথ্য-অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতা অনেককে ন্যায়বিচার থেকে দূরে রাখছে।

জামালপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার আল-মামুন বলেন, “আমরা দরিদ্র জনগণের জন্য বিনা খরচে আইনজীবী সরবরাহ করি। কিন্তু জনবল ও বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। তাছাড়া অনেক মানুষ জানেই না তারা এই সেবা পেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

জামালপুর আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট লতিফা সুলতানা লাকি বলেন,“গ্রামীণ নারীরা সামাজিক ভয় ও লজ্জার কারণে মামলা করতে দ্বিধা করে। আদালতের ভাষা ও প্রক্রিয়া তাদের কাছে কঠিন মনে হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা সহায়তা কাঠামো দরকার।”
তিনি মনে করেন, আদালত ও থানায় নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক কাউন্টার চালু করা উচিত।

জামালপুর আইন কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল করিম চটন বলেন,“আইনের ভাষা ও প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের জন্য অনেক জটিল। গ্রামীণ মানুষ আইনজীবীর কথাই ঠিকমতো বুঝে না। তাই আইনি ভাষা সহজ করতে হবে, পাশাপাশি আইনি শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে।”

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ হিট ফাউন্ডেশনের পরিচালক অপারেশন বাংলাদেশ মুশফিকুর রহিম রনি বলেন,“আমরা প্রতি মাসে গ্রামে আইনি সচেতনতা সভা করি। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় না থাকায় অনেক সময় মানুষ সেবার সুযোগ হারায়।”

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
৭৬৪ Time View

ন্যায়বিচার সবার জন্য, তবু গ্রামীণ দরিদ্ররা এখনো বঞ্চিত

আপডেটের সময় : ০৪:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

সংবিধান বলে, ন্যায়বিচার সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বাস্তবে দেশের প্রান্তিক গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী এখনো সেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। সরকারি লিগ্যাল এইড কার্যক্রম থাকলেও সেবার সীমাবদ্ধতা, জনবল ঘাটতি ও আইনি জটিলতার কারণে বহু মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না।

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “একটা জমি নিয়ে ঝামেলা ছিল। শুনলাম সরকার বিনা পয়সায় আইনজীবী দেয়। কিন্তু কোথায় গেলে পাবো, কাকে বলবো—কেউ জানায় নাই। তিন মাস ঘুরেও বিচার পাই নাই।”

তার অভিজ্ঞতা গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের বাস্তব চিত্রই তুলে ধরে। তথ্য-অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতা অনেককে ন্যায়বিচার থেকে দূরে রাখছে।

জামালপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার আল-মামুন বলেন, “আমরা দরিদ্র জনগণের জন্য বিনা খরচে আইনজীবী সরবরাহ করি। কিন্তু জনবল ও বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। তাছাড়া অনেক মানুষ জানেই না তারা এই সেবা পেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

জামালপুর আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট লতিফা সুলতানা লাকি বলেন,“গ্রামীণ নারীরা সামাজিক ভয় ও লজ্জার কারণে মামলা করতে দ্বিধা করে। আদালতের ভাষা ও প্রক্রিয়া তাদের কাছে কঠিন মনে হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা সহায়তা কাঠামো দরকার।”
তিনি মনে করেন, আদালত ও থানায় নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক কাউন্টার চালু করা উচিত।

জামালপুর আইন কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল করিম চটন বলেন,“আইনের ভাষা ও প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের জন্য অনেক জটিল। গ্রামীণ মানুষ আইনজীবীর কথাই ঠিকমতো বুঝে না। তাই আইনি ভাষা সহজ করতে হবে, পাশাপাশি আইনি শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে।”

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ হিট ফাউন্ডেশনের পরিচালক অপারেশন বাংলাদেশ মুশফিকুর রহিম রনি বলেন,“আমরা প্রতি মাসে গ্রামে আইনি সচেতনতা সভা করি। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় না থাকায় অনেক সময় মানুষ সেবার সুযোগ হারায়।”