আজ মঙ্গলবার,ফেব্রুয়ারি,২২,২০২২ খ্রি. তারিখে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে জানিপপ কর্তৃক আয়োজিত বর্ষকালব্যপী জুম ওয়েবিনারে আলোচনা সভার ২০৫তম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। জানিপপ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন ইউএন ডিজএ্যাবিলিটি রাইটস্ চ্যাম্পিয়ন আবদুস সাত্তার দুলাল এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন শিক্ষা ক্যাডারের সহযোগী অধ্যাপক ও বঙ্গবন্ধু গবেষক আবু সালেক খান, নীলফামারীর জলঢাকা থেকে পিএইচডি গবেষক ফাতেমা তুজ-জোহরা লিমা ও ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক কাজী ফারজানা ইয়াসমিন।

সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন কুমিল্লার চান্দিনা থেকে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা খোরশেদ আলম এবং মুখ্য আলোচক হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন পঞ্চগড় থেকে খাদেমুল ইসলাম। সভাপতির বক্তৃতায় ড. কলিমউল্লাহ বলেন, বঙ্গবন্ধু মানব চরিত্রের অজস্রতায় বিশ্বাসী ছিলেন।তিনি সাম্যতায় বিশ্বাসী ছিলেন। আবদুস সাত্তার দুলাল বলেন,রাজনীতিবিদ এবং ব্যক্তি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর মহানুভবতা, আদর্শিক সংগ্রাম, কষ্ট স্বীকার ও আত্মত্যাগ বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। একটি পরাধীন জাতির স্বাধীনতা অর্জনে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুকে আজীবন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে প্রাতঃস্মরণীয় করে রাখতে এই একটি কারণই যথেষ্ট। গবেষক আবু সালেক খান বলেন, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় শামিল হয়ে আমরা যেন আমাদের আত্মার বাঙালি সংস্কৃতিকে ভুলে না যাই, বাঙালি সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বসবাস করেই আমরা বৈজ্ঞানিক উন্নতির গন্তব্যে পৌঁছে যেতে চাই।

খোরশেদ আলম বলেন,সুজলা-সুফলা-শ্যামল বাংলার মাটিকে তামায় পরিণত করেছিল পাক হানাদাররা। সেই অবস্থা থেকে দেশ গঠনের চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গবেষক ফাতেমা তুজ-জোহরা লিমা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র এক বছরের মধ্যে পৃথিবীর অন্যতম সুলিখিত সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন জাতিকে। দিপু সিদ্দিকী বলেন,বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও মুক্ত মানুষ তৈরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে তাদের বিবেক ও বুদ্ধির কাছে দায়বদ্ধ করে অবতারণা ঘটিয়েছিলেন ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ এর।

সভায় বক্তারা বলেন,বঙ্গবন্ধু ৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির মিছিলে এবং মিছিল শেষে সভায় অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির যে দৃঢ় প্রত্যয় ঘােষণা করেছিলেন, তারই সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়েছিলেন মাত্র দু’বছরের মধ্যেই। সারাদেশে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির নবধারার সৃষ্টি করেছিলেন, যার পরিণতি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে, যার ফসল স্বাধীন বাংলাদেশ; বাহাত্তর সালে বাংলাদেশের সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি ঘোষণা, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির নির্বাসন। সভাটি সঞ্চালনা করেন রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা’র সহযোগী অধ্যাপক,বিভাগীয় প্রধান ও ডেইলি প্রেসওয়াচ সম্পাদক দিপু সিদ্দিকী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x