ঢাকা , সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
‎আমিরাতে রক্তদান কর্মসূচিতে প্রবাসীদের ভিন্ন আয়োজন এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সে মালয়েশিয়ার উদ্যোগে চেরাস এ বাংলাদেশি ভোটারদের কাছে Postal Vote BD App এর ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রচারনা এবং নিবন্ধন সহায়তা সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও গভীর শোক প্রকাশ করছে এক্স-ফোর্সেস এসোসিয়েশন খোকসায় গভীর শ্রদ্ধায় পালিত শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস নোয়াখালী আধুনিক শপিং কমপ্লেক্সের এম ডি হাসান খান এর সাথে সৌদি আরব রিয়াদ প্রবাসী ব্যাবসায়িদের আলোচনা সভা রাণীশংকৈলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত। ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন ওসমান হাদীর ওপর হামলার প্রতিবাদে প্রতাপনগরে বিক্ষোভ ও সমাবেশ জুলাইয়ের কন্ঠস্বরকে টার্গেট কিলিংয়ের চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন জুলাই বিপ্লব পরিষদ এবং এবং জুলাই ঐক্য লম্বা ছুটিতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ব্যাংকে জমানো টাকায় হজ করলে আদায় হবে কি?

সাংবাদিক

হ্যাঁ, ব্যাংকে টাকা জমিয়ে সেই টাকায় হজ করলে হজ আদায় হবে এবং তা বৈধ। যেহেতু টাকা হালাল উপায়ে উপার্জন করা হয়েছে এবং হজ করার সামর্থ্য তৈরি হয়েছে, তাই এই টাকায় হজ করা জায়েজ।

তবে ব্যাংকে টাকা জমিয়ে হজ করাকে আল্লাহ তাআলা ফরজ করেননি। মানুষের স্বাভাবিক গতিতে যখন হজ করার সামর্থ্য হবে তখন সে ব্যক্তি হজ করবে। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) হজ করার উদ্দেশে ধারাবাহিকভাবে টাকা জমানোর কথা বলেননি। বরং যার শারীরিকভাবে এবং আর্থিকভাবে হজ করার সামর্থ্য হবে তাকেই হজ করতে হবে, একথা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন। হজের ব্যাপারে কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَ لِلّٰهِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡهِ سَبِیۡلًا

‘আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশে ওই ঘরের হজ করা তার জন্য ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ৯৭)

হজ করার জন্য টাকা জমা করা, এটি সঠিক চেতনা নয়। যদি আপনার অর্থ থাকে তাহলে আপনি হজ করবেন। আর যদি আপনার অর্থ না থাকে তাহলে আপনি হজ করবেন না। আপনি কষ্ট করে টাকা জমিয়ে হজ করবেন- এই বিধান রাসুল (সা.) আমাদের জন্য কোথাও দেননি। আপনার সামর্থ্য নেই, এজন্য আল্লাহ আপনার কাছে ব্যাপারটি সহজ করে দিয়েছেন। আপনি নিজের ওপর হজকে ফরজ করার জন্য টাকা জমাবেন না। কিন্তু যদি আল্লাহ মেহেরবানি করে আপনাকে টাকা দেন, তাহলে আপনি হজ করবেন।

তবে হ্যাঁ, আপনি যদি আবেগপ্রবণ হয়ে কষ্ট করে টাকা জমিয়ে তারপর হজ করেন, তাহলে হজের জন্য টাকা জমানো তার জন্য নিষিদ্ধ নয়। আর যদি ওই টাকা দিয়ে তিনি হজ করেন, তাহলে কোনো সন্দেহ নেই যে, কাজটি উত্তম হবে। তিনি এটা করতে পারবেন।

আরও কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য—

জাকাত: হজের জন্য জমা করা টাকার ওপর জাকাত দিতে হবে, যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ এক বছর জমা থাকে।

হজে যাওয়ার সামর্থ্য: হজ ফরজ হওয়ার জন্য শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়া জরুরি। ব্যাংকে টাকা জমানোর উদ্দেশ্য যদি এই সামর্থ্য অর্জন করা হয়, তবে তা বৈধ।

বিকল্প ব্যবস্থা: যদি কেউ বদলি হজ করার জন্য টাকা জমা করে থাকে এবং পরবর্তীতে নিজে হজ করার সামর্থ্য অর্জন করে, তবে তাকে নিজের হজ আদায় করতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
৫৭৩ Time View

ব্যাংকে জমানো টাকায় হজ করলে আদায় হবে কি?

আপডেটের সময় : ০৪:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

হ্যাঁ, ব্যাংকে টাকা জমিয়ে সেই টাকায় হজ করলে হজ আদায় হবে এবং তা বৈধ। যেহেতু টাকা হালাল উপায়ে উপার্জন করা হয়েছে এবং হজ করার সামর্থ্য তৈরি হয়েছে, তাই এই টাকায় হজ করা জায়েজ।

তবে ব্যাংকে টাকা জমিয়ে হজ করাকে আল্লাহ তাআলা ফরজ করেননি। মানুষের স্বাভাবিক গতিতে যখন হজ করার সামর্থ্য হবে তখন সে ব্যক্তি হজ করবে। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) হজ করার উদ্দেশে ধারাবাহিকভাবে টাকা জমানোর কথা বলেননি। বরং যার শারীরিকভাবে এবং আর্থিকভাবে হজ করার সামর্থ্য হবে তাকেই হজ করতে হবে, একথা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন। হজের ব্যাপারে কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَ لِلّٰهِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡهِ سَبِیۡلًا

‘আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশে ওই ঘরের হজ করা তার জন্য ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ৯৭)

হজ করার জন্য টাকা জমা করা, এটি সঠিক চেতনা নয়। যদি আপনার অর্থ থাকে তাহলে আপনি হজ করবেন। আর যদি আপনার অর্থ না থাকে তাহলে আপনি হজ করবেন না। আপনি কষ্ট করে টাকা জমিয়ে হজ করবেন- এই বিধান রাসুল (সা.) আমাদের জন্য কোথাও দেননি। আপনার সামর্থ্য নেই, এজন্য আল্লাহ আপনার কাছে ব্যাপারটি সহজ করে দিয়েছেন। আপনি নিজের ওপর হজকে ফরজ করার জন্য টাকা জমাবেন না। কিন্তু যদি আল্লাহ মেহেরবানি করে আপনাকে টাকা দেন, তাহলে আপনি হজ করবেন।

তবে হ্যাঁ, আপনি যদি আবেগপ্রবণ হয়ে কষ্ট করে টাকা জমিয়ে তারপর হজ করেন, তাহলে হজের জন্য টাকা জমানো তার জন্য নিষিদ্ধ নয়। আর যদি ওই টাকা দিয়ে তিনি হজ করেন, তাহলে কোনো সন্দেহ নেই যে, কাজটি উত্তম হবে। তিনি এটা করতে পারবেন।

আরও কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য—

জাকাত: হজের জন্য জমা করা টাকার ওপর জাকাত দিতে হবে, যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ এক বছর জমা থাকে।

হজে যাওয়ার সামর্থ্য: হজ ফরজ হওয়ার জন্য শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়া জরুরি। ব্যাংকে টাকা জমানোর উদ্দেশ্য যদি এই সামর্থ্য অর্জন করা হয়, তবে তা বৈধ।

বিকল্প ব্যবস্থা: যদি কেউ বদলি হজ করার জন্য টাকা জমা করে থাকে এবং পরবর্তীতে নিজে হজ করার সামর্থ্য অর্জন করে, তবে তাকে নিজের হজ আদায় করতে হবে।