আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু:

সাড়ে তিন দশকে যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক সংবাদপত্রের সার্কুলেশন প্রায় অর্ধেকরও বেশি কমেছে। বর্তমানে ২ কোটি ৪২ লাখে দাঁড়িয়েছে দৈনিক সংবাদপত্রের সার্কুলেশন।

১৯৮৭ সালে দৈনিক সংবাদপত্রের পেইড সার্কুলেশন বা মূল্য পরিশোধিত সার্কুলেশন ছিল ৬ কোটি ২৮ লাখের বেশি। অর্থাৎ ৩ কোটি ৮৫ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক ৩৫ বছরের মধ্যে মুদ্রিত সংবাদপত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

সার্কুলেশন প্রথমত হ্রাস পেতে শুরু করেছিল টেলিভিশন সাংবাদিকতার বিকাশের ফলে, যা গত প্রায় দুই দশক আগে থেকে আরও কমেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন মিডিয়ার ব্যাপক সম্প্রসারণে। ২০০৪ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৭১টি দৈনিক, ২,১৯৬টি সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন বন্ধ হয়ে গেছে অথবা অন্য কোনো প্রকাশনার সঙ্গে সমন্বিত হয়েছে। (পোস্টের সঙ্গে দু’টি ছক থেকেও ধারণা করা যেতে পারে যে দৈনিক সংবাদপত্রগুলোর পেইড সার্কুলেশন কীভাবে হ্রাস পেয়েছে। একটি ছক ২০০৭ এর, আরকেটি ২০১৭ সালের।)

১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত দৈনিকের সংখ্যা ছিল ১,৭৪৮টি, যা বর্তমানে ১,২৭৯টি। যুক্তরাষ্ট্রের সকল বড় বড় সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা থেমে যায়নি। ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে শিকাগো ট্রিবিউনের সার্কুলেশন ৪ লাখ ৩৮ হাজার থেকে ২ লাখ ৩৮ হাজারে নেমে এসেছে। অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান তাদের বিজ্ঞাপনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়ায় বিজ্ঞাপন খাতে থেকে সংবাদপত্রের আয় অনেক কমেছে। প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে ব্যয় সংকোচন করতে কর্মী ছাঁটাই করতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও অনেক সংবাদপত্র শেষ রক্ষা করতে পারেনি, বন্ধ হয়ে গেছে অথবা অন্য কোনো বড় সংবাদপত্রের সঙ্গে একীভূত হয়েছে।

এ পরিস্থিতি সত্ত্বেও বিশ্বে সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুখবর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমসের গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৯.১ মিলিয়ন বা ৯১ লাখে দাঁড়িয়েছে, এর মধ্যে তাদের “ডিজিটাল অনলি প্রডাক্ট” এর গ্রাহকই বেশি।

পত্রিকাটি তিন মাসে মুনাফা অর্জন করেছে ৬০.৯ মিলিয়ন ডলার। মুনাফার এই পরিমাণ গত বছরের প্রথম তিন মাসে অর্জিত মুনাফার চেয়ে ৬.৮ মিলিয়র ডলার কম। মুনাফা হ্রাসের কারণ গত ফেব্রুয়ারি মাসে নিউইয়র্ক টাইমস ৫৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যে কিনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অনলাইন ক্রীড়া সংবাদ পোর্টাল “দি অ্যাথলেটিক” এবং এটির পরিচালন ব্যয় মেটাতে টাইমসের মুনাফা কমেছে। ২০২১ সালে নিউইয়র্ক টাইমসের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার। ২৬টি সিটি থেকে মুদ্রিত নিউইয়র্ক টাইমস ২০২৭ সালের মধ্যে মুদ্রিত ও অনলাইন গ্রাহক সংখ্যা ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটিতে উন্নীত করবে বলে আশা করছে।

জানুয়ারি-মার্চ সময়ে গ্রাহক বৃদ্ধি ও বিজ্ঞাপন থেকে নিউইয়র্ক টাইমসের রাজস্ব আয় ১৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩৭.৪ মিলিয়ন ডলার, এবং এর মধ্যে শুধু বিজ্ঞাপন খাতে আয় বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। এদিকে পরিচালন ব্যয় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৯৬.৪ মিলিয়ন ডলারে ওঠেছে। ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী নিউইয়র্ক টাইমসের ওয়েসাইটের মাসিক ভিজিটর সংখ্যা ১৩ কোটি, যা ২০১৬ সালের চেয়ে ১০০ শতাংশ বেড়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতো জনপ্রিয় সংবাদপত্রের সার্কুলেশনেও নি:সন্দেহে ধস নেমেছে, যা ছোটখাট সংবাদগুলোর জন্য অশুভ বার্তা ছিল। কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমস সহ ছোটবড় সব সংবাদপত্র এখন প্রিন্ট সংস্করণ রাখছে ঐতিহ্য ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে এবং “ডিজিটাল অনলি প্রডাক্ট”কে শক্তিশালী করছে বাণিজ্যিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে আনতে।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x