ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কড়া নিরাপত্তায় পশ্চিমবঙ্গের ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে “সাভারের সিএন্ডবি আবাসিকে সরকারি সম্পদের মহালুট: গ্যাস লাইন থেকে গাছ—সবই বিক্রির হাটে!” ধান-চালের সরকারি দাম নির্ধারণ পরিবহণের নতুন ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার: মন্ত্রী প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাটজাত ব্যাগ এবং স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: মাহদী আমিন এসএসসির প্রথম দিনেই ভুল প্রশ্নপত্র, সাংবাদিকদের সঙ্গে কেন্দ্র সচিবের অসৌজন্যমূলক আচরণ খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়- এ কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে শোকজ সোলায়মান হক জোয়ারদারের সময়কার প্রভাবের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গায় চিকিৎসক দম্পতিকে ঘিরে বিতর্ক এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর বদলীর অর্ডারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো ঢাকাতে ফ্যাসিস্টের দোসর উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ-আল-মামুন

ডিভোর্সী স্ত্রীকে গাড়িতে তুলে জোরপূর্বক ধর্ষণ, স্পর্শকাতর স্থানে মোমবাতির আগুন

সাংবাদিক

ঝিনাইদহে এক নারীকে গাড়িতে তুলে পাশবিক নির্যাতন, ধর্ষন ও স্পর্শকাতর স্থানে সিগারেট ও মোমবাতির আগুন নিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তারই সাবেক স্বামী। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহ সদরে। ইতিমধ্যে নির্যাতনের স্বীকার হওয়া নারী শিউলি আক্তার বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,

গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার সময় হরিণাকুন্ডু রোডে অবস্থিত গিলাবাড়িয়া নবগঙ্গা ভোজন বাড়ি রেস্টুরেন্টে যান শিউলি আক্তার। সেখান থেকে ফেরার পথে রেস্টুরেন্টের পাশে রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এই সময় সাদা রঙের একটি হায়েস মাইক্রোবাস এসে তার পাশে দাঁড়ায় এবং তাকে জোরপূর্বক গাড়ির ভেতরে তুলে নেয়। শিউলি আক্তার জানান, গাড়িতে তিনজন ব্যক্তি অবস্থান করছিলো, তবে তাদের মুখ বাঁধা অবস্থায় থাকায় আমি কারও মুখ দেখতে পারিনি। তবে তিনি তার সাবেক স্বামী নাজমুল খন্দকারের কন্ঠস্বর শুনে চিনতে পেরেছেন বলেও জানান।শিউলি জানান,অন্য আর এক জনের কন্ঠস্বরও আমি চিনতে পেরেছি তিনি হলেন আমার সাবেক স্বামীর ছোটভাই মোঃ শওকত খন্দকার। আমার সন্দেহের আরও কারণ হলো, তিনি আমাকে নির্যাতনের এক পর্যায়ে আমার সাবেক স্বামীকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে বলেন, “ভাই, দেরি হয়ে যাচ্ছে”। মাইক্রোবাসে উপস্থিত তৃতীয় ব্যক্তিকে আমি চিনতে পারিনি, তবে বিশ্বাস করি মূল আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার পরিচয় পাওয়া যাবে।
শিউলি আক্তার মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করেন,
তারা আমাকে গাড়ির ভেতরে নেবার পর মুখ, হাত এমনভাবে বেঁধে ফেলে যে আমার নিশ্বাস নিতে যথেষ্ঠ কষ্ট হচ্ছিলো। আমাকে গাড়িতে তোলার পর নাজমুল বলে যে, আমি শেষবারের মতো ওকে ধর্ষণ করতে চাই। তারপর সে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এই সময় একজন আমার দুই হাত শক্তভাবে ধরে রাখে। এরপর গাড়িতে উপস্থিত অন্য দুইজন সিগারেট বা মোমবাদি দিয়ে আমার সারা শরীর নির্মমভাবে পুড়িয়ে দেয়। এই সময় তারা তাদের বিকৃত মানসিকতা চরিতার্থ করার জন্য আমার যৌনাঙ্গসহ সারা শরীর আগুনের ছেকা দেয় এবং নানা ধরনের নির্যাতন করে। তাদের এমন নির্যাতনে আমার রক্তপাত হতে থাকে। আনুমানিক এক বা দেড় ঘন্টা ধরে নির্যাতনের পর তারা আমাকে নবগঙ্গা ব্রিজের ওপর নিয়ে আসে এবং ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে হত্যা করার চেষ্টা করে, কিন্তু ভাগ্যসহায় ছিলো বিধায় সেই স্থান থেকে একটু দূরে রেস্টুরেন্টের সামনে তিনজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলো তারা আমার সাহায্যে এগিয়ে আসার কারনে আসামীরা সাথে সাথে সেখান থেকে পালয়ন করে। এরপর সেই তিনজন ব্যক্তি আমাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে আমি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছি।অভিযুক্ত
নাজমুল খন্দকার ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের কৃষকদল নেতা কামরুল খন্দকারের পূত্র। আর শিউলি আক্তার একই উপজেলার কবিরপুর গ্রামের বদিয়ার শেখের মেয়ে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সামসুল আরেফিন জানান, এ ব্যাপারে শিউলি আক্তার একটি অভিযোগ করেছেন। আসামীকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। আশা করছি আমরা খুব দ্রুতই তাকে গ্রেফতার করতে পারবো।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৭:১৮:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
৫৯২ Time View

ডিভোর্সী স্ত্রীকে গাড়িতে তুলে জোরপূর্বক ধর্ষণ, স্পর্শকাতর স্থানে মোমবাতির আগুন

আপডেটের সময় : ০৭:১৮:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

ঝিনাইদহে এক নারীকে গাড়িতে তুলে পাশবিক নির্যাতন, ধর্ষন ও স্পর্শকাতর স্থানে সিগারেট ও মোমবাতির আগুন নিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তারই সাবেক স্বামী। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহ সদরে। ইতিমধ্যে নির্যাতনের স্বীকার হওয়া নারী শিউলি আক্তার বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,

গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার সময় হরিণাকুন্ডু রোডে অবস্থিত গিলাবাড়িয়া নবগঙ্গা ভোজন বাড়ি রেস্টুরেন্টে যান শিউলি আক্তার। সেখান থেকে ফেরার পথে রেস্টুরেন্টের পাশে রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এই সময় সাদা রঙের একটি হায়েস মাইক্রোবাস এসে তার পাশে দাঁড়ায় এবং তাকে জোরপূর্বক গাড়ির ভেতরে তুলে নেয়। শিউলি আক্তার জানান, গাড়িতে তিনজন ব্যক্তি অবস্থান করছিলো, তবে তাদের মুখ বাঁধা অবস্থায় থাকায় আমি কারও মুখ দেখতে পারিনি। তবে তিনি তার সাবেক স্বামী নাজমুল খন্দকারের কন্ঠস্বর শুনে চিনতে পেরেছেন বলেও জানান।শিউলি জানান,অন্য আর এক জনের কন্ঠস্বরও আমি চিনতে পেরেছি তিনি হলেন আমার সাবেক স্বামীর ছোটভাই মোঃ শওকত খন্দকার। আমার সন্দেহের আরও কারণ হলো, তিনি আমাকে নির্যাতনের এক পর্যায়ে আমার সাবেক স্বামীকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে বলেন, “ভাই, দেরি হয়ে যাচ্ছে”। মাইক্রোবাসে উপস্থিত তৃতীয় ব্যক্তিকে আমি চিনতে পারিনি, তবে বিশ্বাস করি মূল আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার পরিচয় পাওয়া যাবে।
শিউলি আক্তার মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করেন,
তারা আমাকে গাড়ির ভেতরে নেবার পর মুখ, হাত এমনভাবে বেঁধে ফেলে যে আমার নিশ্বাস নিতে যথেষ্ঠ কষ্ট হচ্ছিলো। আমাকে গাড়িতে তোলার পর নাজমুল বলে যে, আমি শেষবারের মতো ওকে ধর্ষণ করতে চাই। তারপর সে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এই সময় একজন আমার দুই হাত শক্তভাবে ধরে রাখে। এরপর গাড়িতে উপস্থিত অন্য দুইজন সিগারেট বা মোমবাদি দিয়ে আমার সারা শরীর নির্মমভাবে পুড়িয়ে দেয়। এই সময় তারা তাদের বিকৃত মানসিকতা চরিতার্থ করার জন্য আমার যৌনাঙ্গসহ সারা শরীর আগুনের ছেকা দেয় এবং নানা ধরনের নির্যাতন করে। তাদের এমন নির্যাতনে আমার রক্তপাত হতে থাকে। আনুমানিক এক বা দেড় ঘন্টা ধরে নির্যাতনের পর তারা আমাকে নবগঙ্গা ব্রিজের ওপর নিয়ে আসে এবং ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে হত্যা করার চেষ্টা করে, কিন্তু ভাগ্যসহায় ছিলো বিধায় সেই স্থান থেকে একটু দূরে রেস্টুরেন্টের সামনে তিনজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলো তারা আমার সাহায্যে এগিয়ে আসার কারনে আসামীরা সাথে সাথে সেখান থেকে পালয়ন করে। এরপর সেই তিনজন ব্যক্তি আমাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে আমি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছি।অভিযুক্ত
নাজমুল খন্দকার ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের কৃষকদল নেতা কামরুল খন্দকারের পূত্র। আর শিউলি আক্তার একই উপজেলার কবিরপুর গ্রামের বদিয়ার শেখের মেয়ে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সামসুল আরেফিন জানান, এ ব্যাপারে শিউলি আক্তার একটি অভিযোগ করেছেন। আসামীকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। আশা করছি আমরা খুব দ্রুতই তাকে গ্রেফতার করতে পারবো।