রাঙ্গুনিয়ার ‘মাদক সম্রাট’ আঞ্জুয়ে: ২৫ বছরেও অধরা, নেপথ্যে শক্তিশালী এক অদৃশ্য হাত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলির ত্রাস হিসেবে পরিচিত আমির হামজা ওরফে আঞ্জুয়ে। গত ২৫ বছর ধরে মাদক সাম্রাজ্যের একক অধিপতি হিসেবে রাজত্ব করলেও রহস্যজনকভাবে তিনি থেকে গেছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে। দেশীয় মদ দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে তিনি এই অঞ্চলের ইয়াবা সিন্ডিকেটের মূল হোতা।
🛑মদ থেকে ইয়াবা: আনঞ্জুয়ের উত্থান।।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আঞ্জুয়ে মাদক ব্যবসার হাতেখড়ি হয় প্রায় দুই যুগ আগে দেশীয় মদ ও গাঁজা দিয়ে। এরপর হিরোইন ও ফেন্সিডিলের পথ ধরে ২০১০ সাল থেকে তিনি মরণনেশা ইয়াবার পাইকারি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে গবাদি পশুর (গরু ও মহিষ) আড়ালে ইয়াবার বড় বড় চালান নিয়ে আসছেন তিনি। এই ইয়াবা রাঙ্গুনিয়ার রানীরহাট, ধামাইরহাট, গোডাউন, চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার ফেরিঘাটসহ কাপ্তাই, বড়ইছড়ি ও ঘাগড়ার বিভিন্ন স্থানে পাইকারি সরবরাহ করা হয়।
🛑আওয়ামী লীগ আমলে ‘সুরক্ষা’ ও ওমরাহ পালন:
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের মাসোহারা দিয়ে এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আঞ্জুয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।
২০১৮ সালে মাদক নির্মূলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণার পর সেই আত্মগোপনে চলে যান। অভিযোগ আছে, সে সময় চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার সহায়তায় নোয়াখালী হয়ে ওমরাহ পালনের নামে সৌদি আরবে পালিয়ে যান আঞ্জুয়ে। পরিস্থিতি শান্ত হলে দেশে ফিরে পুনরায় দ্বিগুণ উৎসাহে শুরু করেন মাদক ব্যবসা।
🛑পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট:
এখনকার খুঁটির জোর কোথায়?
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও বদলায়নি আঞ্জুয়ের ভাগ্য। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে তিনি তথাকথিত কিছু সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় অবাধে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি গত ঈদে এক প্রভাবশালী নেতার কর্মীদের পাঞ্জাবি উপহার দিয়ে এলাকায় নিজের আধিপত্যের জানান দিয়েছেন সেই।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ নেতাদের তুষ্ট করে চললেও, বর্তমানে কাদের আশকারায় সেই এখনো বেপরোয়া?
🛑জনদাবি ও আশঙ্কা:
এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, চন্দ্রঘোনা থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে এই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক নেতা বলেন, “বিগত সরকারের পাপের বোঝা যেন বর্তমান প্রশাসনের ওপর না চাপে, সেজন্য দ্রুত আঞ্জুয়ের মতো রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।”
এখন প্রশ্ন হলো, প্রশাসন কি পারবে ২৫ বছর ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এই ‘মাদক সম্রাট’কে খাঁচায় বন্দি করছে না কেন? নাকি অদৃশ্য সেই ‘ম্যানেজ’ প্রক্রিয়ায় আবারও পার পেয়ে যাবেন আঞ্জুয়ে?
এর উত্তর সময়ের হাতে।






















