নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চাঁদপুরের আখনঘাটে প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি—অভিযানের আশ্বাস প্রশাসনের
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত জাটকা সংরক্ষণ অভিযান চলমান থাকলেও চাঁদপুরে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী তা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যেই জাটকা ইলিশ বিক্রি করছেন।
চাঁদপুর সদরের আখনঘাট মৎস্য আড়তে প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে জাটকা কেনাবেচার রমরমা বাণিজ্য।
সরেজমিনে সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে আখনঘাট মৎস্য আড়তে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞার কোনো তোয়াক্কা না করেই আড়তজুড়ে জাটকা ইলিশ কেনাবেচা চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলমগীর, শাহ আলম, কালু বেপারী ও শহীদ শেখসহ কয়েকজন আড়তদার প্রকাশ্যে জাটকা ক্রয়-বিক্রিতে জড়িত। ভোর থেকে শুরু হয়ে সকাল প্রায় ৯টা পর্যন্ত চলে এই অবৈধ বাণিজ্য।
মৎস্যজীবীদের ট্রলার ও ছোট নৌকা থেকে জাটকাগুলো আড়তে নামানোর পর স্থানীয় পাইকাররা সেগুলো কিনে নিয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করছেন। ফলে জাটকা সংরক্ষণে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
উল্লেখ্য, ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রতি বছরের মতো এবারও গত ১ মার্চ থেকে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস নদী ও সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ সময়ে জাটকা ধরা, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, আখনঘাটে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল হলেই তারা সুযোগ নিয়ে জাটকা বিক্রি করে। এভাবে অবাধে জাটকা নিধন চলতে থাকলে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা সংরক্ষণে তারা নদীতে ২৪ ঘণ্টা পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে পোনা মাছ রক্ষায় কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আখনঘাট বাজারে জাটকা বিক্রির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় নৌ-পুলিশকে বিষয়টি পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে খুব দ্রুত ওই আড়তগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, দ্রুত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অসাধু এই চক্রকে আইনের আওতায় এনে ইলিশ সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।






















