নিষিদ্ধ সময়েও আলীকদমে দেদারছে বাঁশ পাচার, জড়িত বন বিভাগের একাংশ
আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:- বান্দরবানের আলীকদমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে নির্বিচারে বাঁশ কাটা ও পাচার। বাঁশের বংশ প্রজনন এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রতি বছর জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাস বাঁশ কাটা, আহরণ এবং বিপণনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অথচ এই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লামা বনবিভাগের আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কেটে পাচার করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ। আইন অনুযায়ী বাঁশ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও, খোদ বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই পাচার কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি আইন বাস্তবায়নকারী সংস্থা হয়েও বন বিভাগ নিজেই বাঁশ পরিবহনের জন্য ট্রান্সপোর্ট পারমিশন বা টিপি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই টিপি দেখিয়েই একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নির্বিচারে কাঁচা বাঁশ পাচার করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। বন আইন অনুযায়ী, বর্ষাকাল বাঁশের বংশবিস্তারের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত সময়। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বাঁশের চারা বা কোড়াল জন্ম নেওয়ার এ সময়ে বাঁশের বেড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাখতে কাটা ও পরিবহন সম্পূর্ণ বেআইনি। আলীকদমের পাহাড়ি অঞ্চলে মিতিঙ্গা, মুলি, নলী ছোটিয়া, বাজালি, গুঁড়া ও উলুসহ বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ উৎপাদিত হয়। বর্তমানে দেশ ও বিদেশে এসব বাঁশের ব্যাপক চাহিদা থাকায় অসাধু চক্র আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
সড়কপথের পাশাপাশি কর্তনকৃত বাঁশের বড় একটি অংশ নদীপথ ব্যবহার করে গন্তব্যে পাচার করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১ জুলাই আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তারাবুনিয়া এলাকায় রাস্তার পাশে এবং তৈন রেঞ্জ বিটের অভ্যন্তরে দেদারছে কাটা হচ্ছে মিতিঙ্গা প্রজাতির বাঁশ। এসব বাঁশ চাঁদের গাড়ি ও ট্রাকে বোঝাই করে পাচার করা হলেও চালকরা কোনো বৈধ টিপি দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে চৈক্ষ্যং তৈন রেঞ্জ বিট কর্মকর্তা মো. ইসমাইল বাঁশ পাচারের বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি করেন।
অপরদিকে চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের তৈন রেঞ্জ বিটের অপর কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দীন দাবি করেন, তার অধীন বিটে কোনো বাঁশ কাটা হচ্ছে না। অথচ সংরক্ষিত বন থেকে বাঁশ কেটে তা এক জায়গায় জড়ো করে ট্রাকে তোলার দৃশ্য এলাকায় সচরাচর দেখা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চৈক্ষ্যং রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফুল হকের অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সংযোগ পাওয়া যায়নি। এছাড়া, লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারি ও সদিচ্ছার অভাবেই সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই চঞ্চলতা চলছে। অবিলম্বে অবৈধ বাঁশ কাটা ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে এবং এর সাথে জড়িত অসাধু বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।






















