তিন মাস পর খুলেছে সুন্দরবন
তিন মাস বন্ধ থাকার পর পর্যটক, জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রথম দিনে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে পর্যটকের সংখ্যা কম ছিল। একই কারণে অনেক পর্যটক বনে ঢুকতে পারেননি।
বাগেরহাট সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, প্রথম দিনে প্রায় ৩০০ দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবনে ঘুরতে এসেছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকের সংখ্যা কম ছিল।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক মশিউর রহমান বলেন, প্রথম দিন দুপুর ২টা পর্যন্ত ১৫৯টি নৌযানের পাস ইস্যু করা হয়েছে। এসব নৌযানে চার শতাধিক জেলে-বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে এ মৌসুমে মাছ ধরা ও ইকোট্যুরিজমের জন্য দুই হাজার ৯৩৮টি বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) নবায়ন করা হয়েছে। কলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রও পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন এবং বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রতিবছর ১ জুন থেকে ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশ, মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ ও পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকে। সেই নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে আবারও সুন্দরবনে এসব কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে প্রথম দিন সকাল থেকেই বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস থাকায় অনেক পর্যটক বনে যেতে পারেননি।
সাতক্ষীরার মুন্সীগঞ্জ এলাকার কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় পর্যটকদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। রিসোর্টগুলোতে অতিথি থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকে বনের ভেতরে যেতে পারেননি।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মুনিয়া ও ইমরান হোসেন বলেন, সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখতে তারা এসেছেন। কিন্তু বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে প্রথম দিন বনে যেতে পারেননি। আবহাওয়া ভালো হলে তারা পরদিন বনে যাওয়ার আশা করছেন।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, বনের ভেতরে জেলে ও বনজীবীদের নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যৌথ টহল চলছে। দস্যুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বাগেরহাটের সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার তিন মাসে বনে মানুষের আনাগোনা ও নৌযান চলাচল কম থাকায় বন্যপ্রাণী তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ পেয়েছে। নদী-খালে মাছের প্রজনন ও বন্যপ্রাণীর বিচরণেও মানুষের চাপ কম ছিল।
বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুন থেকে অগাস্ট পর্যন্ত তিন মাসে সুন্দরবনে ৬৩টি অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে বন অপরাধের ঘটনায় ৩৯টি মামলা হয়েছে এবং ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে ১২টি ট্রলার, ৫০টি নৌকা, ৫৫টি মাছ ধরার জাল, ২৮ বোতল ও দুই লিটার তরল বিষ এবং ৬ হাজার ২৯০টি হরিণ শিকারের ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৮৬ কেজি বিষযুক্ত মাছ, ৭৩৬ কেজি কাঁকড়া, এক হাজার ৫৬২টি চারু, দুহাজার বড়শি, ১৭০ কেজি মধু এবং দুই বস্তায় থাকা পাঁচ কেজি শুঁটকি মাছ উদ্ধার করা হয়।
বনবিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য বৈধ পাস-পারমিট দেওয়া, নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বনজীবীদের প্রবেশ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা চালু হয় ২০১৯ সালে। তখন ১ জুলাই থেকে ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ রাখা হত। পরে ২০২২ সালে নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়িয়ে ১ জুন থেকে ৩১ অগাস্ট করা হয়।
















