ভোটারের এনআইডি ও মোবাইল নম্বর নিতে পারবেন না প্রার্থীরা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটারকে প্রভাবিত করতে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ ওই ভোটারের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর সংগ্রহ করতে পারবেন না। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বা এমএফএসে লেনদেনের জন্যও ভোটার কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না।
গত সোমবার স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান– ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য আলাদা আলাদা আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
পরিবেশবিরোধী পোস্টারে নিষেধাজ্ঞা
বিধিমালায় জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারেও পোস্টার চলবে না। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপাদান দিয়ে তৈরি প্রচারপত্র, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ব্যানার বা প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।
নির্বাচনী এলাকায় ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনা, সেতু, কালভার্ট, মেট্রোরেলের পিলার, ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী লাগানো যাবে না। এ ছাড়া নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য মিছিল করা যাবে না।
নির্বাচনী প্রচারে বিলবোর্ড ব্যবহার করা গেলেও, এবার আকার ও সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ আয়তন ১৬ ফুট বাই ৮ ফুট রাখা যাবে। কোনো প্রার্থী প্রতি ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। জনসাধারণের চলাচল, যানবাহন চলাচল বা পরিবেশের ক্ষতি করে বিলবোর্ড স্থাপন করা যাবে না।
এআই নিয়ে কঠোর বিধি
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের বেলায় মাধ্যম-সংশ্লিষ্ট তথ্য আগেই দিতে হবে। এসব প্ল্যাটফর্মে প্রার্থী বা তাঁর পক্ষের কেউ নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন কোনো ব্যক্তিগত কুৎসা, অপমানজনক বক্তব্য, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না। বিধিতে নিষিদ্ধ হয়েছে প্রচারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টও।
একইভাবে মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, ক্যায়াং বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো সরকারি অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রচারণা চলবে না। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনসাপেক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে বিস্ফোরক, বিস্ফোরক দ্রব্য, অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন করতে পারবেন না।
৬০ ডেসিবেলের বেশি নয়
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে মাইক ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়নি। আর উপজেলা নির্বাচনের ক্ষেত্রে উপজেলার অধীন একটি ইউনিয়ন বা পৌরসভায় একই সময়ে পথসভা বা নির্বাচনী প্রচারণার কাজে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান একটির বেশি মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না। নির্বাচনী এলাকায় দুপুর ১২টার আগে এবং সূর্যাস্তের পর মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী যন্ত্র ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো যাবে না। প্রচারে ব্যবহৃত মাইক বা শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্রের শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের বেশি হতে পারবে না।
শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ এবার
নতুন নিয়মে কোনো ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণ করা যাবে না। ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ঠিকানা, প্রতীক ও ভোট দেওয়ার সময়সংক্রান্ত তথ্য থাকতে পারবে। তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না, যাতে ভোটার বিভ্রান্ত হন। নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারের উদ্দেশ্যে ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে মিছিল বা শোভাযাত্রা করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবার।
বিধি না মানলে যা যা শাস্তি
আচরণবিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আবার আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রার্থী কিংবা তাঁর নির্বাচনী এজেন্টের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে ইসি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আগে দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতো। এখন নির্দলীয়ভাবে হবে। তাই নতুন করে আচরণবিধি করতে হচ্ছে। আগামী নভেম্বরের শেষার্ধ থেকে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন শুরু করতে চায় ইসি। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে নির্বাচন শুরু হতে পারে।’

























ব্যাটিং ব্যর্থতার পর বোলারদের নৈপুণ্যে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ