ঢাকা , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিসের ডিসেম্বর, বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সাংবাদিক

পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি। কর্মসূচিকে ঘিরে রথখলা থেকে কালিবাড়ী মোড় পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়কগুলোতে তৈরি হয় সরব রাজনৈতিক আবহ। মিছিলের অগ্রভাগ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেছনে যুক্ত হতে থাকেন দলীয় নেতাকর্মীরা। স্লোগানে ব্যস্ত নগরীর চেনা দৃশ্যপটও কিছু সময়ের জন্য বদলে যায়।

রথখলা এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালিবাড়ী মোড়সংলগ্ন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আয়োজিত সমাবেশে নেতারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে বক্তব্য দেন। পাশাপাশি নৈরাজ্য ও সহিংসতার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করেই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে হবে। কোনো ধরনের পরিকল্পিত সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতার মাধ্যমে সেই পরিবেশ ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি। রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে আমরা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার ও উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখা হবে।’’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘ডিসেম্বর নয়, বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন। টেক্কা দিতে চান? বুকের রক্ত নিয়েছেন, আমাদের মা-বোনদের বুক খালি করেছেন। আসেন! ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার জন্য আসেন।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করার জন্য ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তাদের ফ্যাসিবাদ ভেঙে দিয়েছি। কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না।’’

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার যে কোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলায় বিএনপি নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে থাকবে বলে উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘‘দুটি বাস পুড়িয়ে কিংবা একটি চক্রের মাধ্যমে জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না। যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, তাদের সাবধান করে দিতে চাই; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সৈনিকেরা জনগণকে নিয়ে যেভাবে আপনাদের দেশ থেকে তাড়িয়েছে, প্রয়োজনে তাদেরও দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না।’’

বিচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘‘আইনের আওতায় এনে জনগণ বিচার করবে। বিচারের জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না। এই মুহূর্তেই বিচারের আহ্বানে আপনারা আসবেন।’’

এর আগে দুপুরে শহরের রথখলা এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মিছিলে অংশ নেন। বিভিন্ন স্লোগানে মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালিবাড়ী মোড়সংলগ্ন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ।

সমাবেশে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বক্তব্য দেন। তাঁরা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং জনগণের ভোটাধিকার সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে নৈরাজ্য, সহিংসতা ও জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থার আওতায় আনার আহ্বান জানান তাঁরা।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে বুধবার কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রথখলা থেকে কালিবাড়ী মোড় পর্যন্ত মিছিলের কারণে শহরের রাজপথ অনেকটা মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের মতামত ও ভোটাধিকারই প্রধান ভিত্তি। তাই কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা পরিকল্পিত সহিংসতার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

এ সময় জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১১:৫৮:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৩ Time View

কিসের ডিসেম্বর, বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেটের সময় : ১১:৫৮:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি। কর্মসূচিকে ঘিরে রথখলা থেকে কালিবাড়ী মোড় পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়কগুলোতে তৈরি হয় সরব রাজনৈতিক আবহ। মিছিলের অগ্রভাগ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেছনে যুক্ত হতে থাকেন দলীয় নেতাকর্মীরা। স্লোগানে ব্যস্ত নগরীর চেনা দৃশ্যপটও কিছু সময়ের জন্য বদলে যায়।

রথখলা এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালিবাড়ী মোড়সংলগ্ন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আয়োজিত সমাবেশে নেতারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে বক্তব্য দেন। পাশাপাশি নৈরাজ্য ও সহিংসতার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করেই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে হবে। কোনো ধরনের পরিকল্পিত সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতার মাধ্যমে সেই পরিবেশ ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি। রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে আমরা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার ও উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখা হবে।’’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘ডিসেম্বর নয়, বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন। টেক্কা দিতে চান? বুকের রক্ত নিয়েছেন, আমাদের মা-বোনদের বুক খালি করেছেন। আসেন! ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার জন্য আসেন।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করার জন্য ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তাদের ফ্যাসিবাদ ভেঙে দিয়েছি। কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না।’’

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার যে কোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলায় বিএনপি নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে থাকবে বলে উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘‘দুটি বাস পুড়িয়ে কিংবা একটি চক্রের মাধ্যমে জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না। যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, তাদের সাবধান করে দিতে চাই; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সৈনিকেরা জনগণকে নিয়ে যেভাবে আপনাদের দেশ থেকে তাড়িয়েছে, প্রয়োজনে তাদেরও দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না।’’

বিচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘‘আইনের আওতায় এনে জনগণ বিচার করবে। বিচারের জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না। এই মুহূর্তেই বিচারের আহ্বানে আপনারা আসবেন।’’

এর আগে দুপুরে শহরের রথখলা এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মিছিলে অংশ নেন। বিভিন্ন স্লোগানে মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালিবাড়ী মোড়সংলগ্ন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ।

সমাবেশে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বক্তব্য দেন। তাঁরা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং জনগণের ভোটাধিকার সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে নৈরাজ্য, সহিংসতা ও জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থার আওতায় আনার আহ্বান জানান তাঁরা।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে বুধবার কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রথখলা থেকে কালিবাড়ী মোড় পর্যন্ত মিছিলের কারণে শহরের রাজপথ অনেকটা মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের মতামত ও ভোটাধিকারই প্রধান ভিত্তি। তাই কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা পরিকল্পিত সহিংসতার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

এ সময় জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন।