ঢাকা , বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধানে সংশোধনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাংবাদিক

সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সংবিধানে অংশগ্রহণমূলক ও ‘ইনক্লুসিভ’ সংশোধনী আনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত। সংশ্লিষ্ট সবাইকে কমিটিতে যুক্ত হয়ে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রণয়নের চেষ্টা করা হবে।

তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সামাজিক শক্তি, সংগঠন ও ব্যক্তির পাশাপাশি গত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার এবং জীবিত ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হবে। পরে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। বিল উত্থাপনের পরও সংসদের ভেতরে ও বাইরে মতামত নেওয়ার সুযোগ থাকবে। আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী আনার লক্ষ্য রয়েছে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি একক রাষ্ট্র এবং সংবিধানে দেশকে ‘ইউনিটারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট সুভারেন রিপাবলিক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ব্যবস্থা না থাকায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনার একটি প্রস্তাব বৈঠকে এসেছে।

তবে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এগিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি, প্রক্রিয়া ও কাঠামো নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মতামত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রয়োজন। যেসব প্রস্তাব আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু বলে বিবেচিত হবে, সংসদ সেগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৭ Time View

সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধানে সংশোধনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটের সময় : ০৪:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সংবিধানে অংশগ্রহণমূলক ও ‘ইনক্লুসিভ’ সংশোধনী আনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত। সংশ্লিষ্ট সবাইকে কমিটিতে যুক্ত হয়ে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রণয়নের চেষ্টা করা হবে।

তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সামাজিক শক্তি, সংগঠন ও ব্যক্তির পাশাপাশি গত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার এবং জীবিত ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হবে। পরে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। বিল উত্থাপনের পরও সংসদের ভেতরে ও বাইরে মতামত নেওয়ার সুযোগ থাকবে। আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী আনার লক্ষ্য রয়েছে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি একক রাষ্ট্র এবং সংবিধানে দেশকে ‘ইউনিটারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট সুভারেন রিপাবলিক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ব্যবস্থা না থাকায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনার একটি প্রস্তাব বৈঠকে এসেছে।

তবে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এগিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি, প্রক্রিয়া ও কাঠামো নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মতামত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রয়োজন। যেসব প্রস্তাব আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু বলে বিবেচিত হবে, সংসদ সেগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।