বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন
অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
বিডিনিউজের স্পেশাল অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর রাজীব নূর সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। লন্ডন স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। পরিবার জানিয়েছে, ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে ছিলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। সেখানে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
১৯৬৭ সালের ১৪ জুন তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জন্ম। তার সাংবাদিকতার সূচনা ১৯৮৯ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতোকত্তোর শেষ করে তিনি যোগ দেন সানডে এক্সপ্রেস পত্রিকায়। তিনি প্যারিসের জার্নালিস্টস ইন ইউরোপ ফাউন্ডেশন এবং জাপান ফরেন প্রেস সেন্টারের ফেলো হিসেবে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতায় বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন।
বর্ণাঢ্য পেশাজীবনে তিনি দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাংবাদিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত তিনি লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কাজ করেন। সেখানে তিনি সংবাদ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অনুষ্ঠান প্রযোজনা ও উপস্থাপনা করার পাশাপাশি বহুল আলোচিত ‘ডিবেট’ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতেন।
বিবিসিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার এবং দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।
১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি ডেইলি স্টারের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক এবং উইকেন্ড এডিশনের বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি একই পত্রিকার বিজনেস এডিটর (১৯৯৭-১৯৯৮) এবং কূটনৈতিক প্রতিবেদক (১৯৯১-১৯৯৩) হিসেবেও কাজ করেন।
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে তিনি সহকারী সম্পাদক ও সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট হিসেবে কাজ করার সময় কূটনীতি, বাণিজ্য, রাজনীতি ও দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন করেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ডিজিটাল মিডিয়ায় ভূমিকার জন্যও তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন। ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সাউথ-টু-সাউথ মিডিয়া ডায়ালগে এশিয়া-প্যাসিফিক, ল্যাটিন আমেরিকা এবং পশ্চিম এশিয়ার ‘১৪ জন শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল মিডিয়া উদ্ভাবক’ এর একজন হিসেবে তিনি স্বীকৃতি পান।
২০১৭ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবসে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে বাংলাদেশ সরকারের তরফে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।
২০১৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি সভাপতিত্ব করেন। ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেন পর্যবেক্ষক হিসেবে।
২০১০, ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে তিনি জার্মানির বনে গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে অংশ নেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ রাইজিং’ শীর্ষক কনফারেন্সে তিনি প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি দেশের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছেন। অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যালোচনার জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির (২০১২ ও ২০১৫) সদস্য ছিলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির শোক
সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, ‘দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, সজ্জন ও বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে হারাল। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
রাষ্ট্রপতি তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, ‘তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু আমার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’






















বাংলামোটরে মারধর-গুলি/ ৫০ হাজার টাকা চাঁদার দাবি থেকে ঘটনার সূত্রপাত