ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জাতীয় দলের শেষ ম্যাচের আগে মেসির হৃদয়ছোঁয়া বার্তা কানাডায় উচ্চশিক্ষায় নারীদের অগ্রগতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ৭১ শতাংশ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাথালিয়া ইউনিয়নে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসংস্থানের দাবিতে রাতভর অবস্থান, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটরা হঠাৎ বন্ধ ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা, জানেই না বাংলাদেশ ব্যাংক ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা থাইল্যান্ডকে হারিয়ে আসিয়ান কাপের প্রথম চ্যাম্পিয়ন ইন্দোনেশিয়া ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি, তার আগের শনিবার অফিস খোলা ১১ দলীয় ঐক্যের জরুরি সভা, লংমার্চ নিয়ে এলো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

হঠাৎ বন্ধ ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা, জানেই না বাংলাদেশ ব্যাংক

সাংবাদিক

নিরাপত্তা জোরদার ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন শুরু হলেও এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সাধারণ গ্রাহকদের আগাম জানানো হয়নি। এর ফলে একযোগে ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কিউক্যাশ নেটওয়ার্কভুক্ত এটিএম, কার্ড ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই সেবা বিঘ্ন আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে দেশজুড়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন ও সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারিগরি কাজের কারণে সাময়িকভাবে এসব সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর সেবা দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখার মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজেদের উদ্যোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টিকে নেতিবাচক ও গর্হিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন করা যেতে পারে। তবে এত বড় পরিসরে সেবা বন্ধের আগে ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো উচিত ছিল। একই সঙ্গে গ্রাহকদেরও আগাম সতর্কবার্তা বা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানোর প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, আগাম কোনো ঘোষণা না থাকায় হঠাৎ করে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং ব্যাংকগুলোর এমন একক সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে সেবা বন্ধ হওয়ার পর রোববার থেকেই কয়েকটি ব্যাংক গ্রাহকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে সীমিত সেবার বিষয়টি জানাতে শুরু করে। এসব বার্তায় বলা হয়, কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কার্ড ও লেনদেন সেবা বন্ধ থাকবে।

এই সময়ে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাধীন এটিএম বুথ, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম) এবং পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) টার্মিনাল ব্যবহার করা যাবে না। তবে ব্যাংকগুলোর দাবি, অন্যান্য ব্যাংকের এটিএম ও পিওএস, সাধারণ ডেবিট কার্ড লেনদেন, বাংলা কিউআর এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে বিকাশ, নগদ, রকেট, ট্যাপ ও উপায়ে অর্থ স্থানান্তরের মতো বিকল্প সেবা চালু রয়েছে।

এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারিগরি কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। সাময়িক এই পরিস্থিতিতে জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে গ্রাহকদের বিকল্প ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ বা নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে কোনো সেবা সীমিত রাখা অস্বাভাবিক নয়। তবে একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের কার্ডভিত্তিক সেবা প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিতে আগেই বিষয়টি জানানো প্রয়োজন ছিল।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগাম নোটিশ ছাড়াই দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের জন্য যেমন দুর্ভোগ তৈরি করেছে, তেমনি ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১০:২৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
৫১৬ Time View

হঠাৎ বন্ধ ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা, জানেই না বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেটের সময় : ১০:২৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

নিরাপত্তা জোরদার ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন শুরু হলেও এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সাধারণ গ্রাহকদের আগাম জানানো হয়নি। এর ফলে একযোগে ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কিউক্যাশ নেটওয়ার্কভুক্ত এটিএম, কার্ড ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই সেবা বিঘ্ন আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে দেশজুড়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন ও সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারিগরি কাজের কারণে সাময়িকভাবে এসব সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর সেবা দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখার মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজেদের উদ্যোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টিকে নেতিবাচক ও গর্হিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন করা যেতে পারে। তবে এত বড় পরিসরে সেবা বন্ধের আগে ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো উচিত ছিল। একই সঙ্গে গ্রাহকদেরও আগাম সতর্কবার্তা বা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানোর প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, আগাম কোনো ঘোষণা না থাকায় হঠাৎ করে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং ব্যাংকগুলোর এমন একক সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে সেবা বন্ধ হওয়ার পর রোববার থেকেই কয়েকটি ব্যাংক গ্রাহকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে সীমিত সেবার বিষয়টি জানাতে শুরু করে। এসব বার্তায় বলা হয়, কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কার্ড ও লেনদেন সেবা বন্ধ থাকবে।

এই সময়ে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাধীন এটিএম বুথ, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম) এবং পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) টার্মিনাল ব্যবহার করা যাবে না। তবে ব্যাংকগুলোর দাবি, অন্যান্য ব্যাংকের এটিএম ও পিওএস, সাধারণ ডেবিট কার্ড লেনদেন, বাংলা কিউআর এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে বিকাশ, নগদ, রকেট, ট্যাপ ও উপায়ে অর্থ স্থানান্তরের মতো বিকল্প সেবা চালু রয়েছে।

এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারিগরি কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। সাময়িক এই পরিস্থিতিতে জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে গ্রাহকদের বিকল্প ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ বা নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে কোনো সেবা সীমিত রাখা অস্বাভাবিক নয়। তবে একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের কার্ডভিত্তিক সেবা প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিতে আগেই বিষয়টি জানানো প্রয়োজন ছিল।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগাম নোটিশ ছাড়াই দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের জন্য যেমন দুর্ভোগ তৈরি করেছে, তেমনি ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।