আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি মা-ছেলের মৃত্যু
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার প্রবাসী স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন স্বরূপ বিশ্বাস।
সোমবার রাতে আবুধাবির উপকণ্ঠে আল ওয়াথবা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্বরূপ বিশ্বাসের ছোট ভাই পিকলু বিশ্বাস।
নিহত দুজন হলেন অসীমা বিশ্বাস (৪৮) ও তার ছেলে অরিত্র বিশ্বাস (১৫)। তাদের গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার মধ্যম কধুরখীল গ্রামে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্বরূপ বিশ্বাস উপজেলার পুরান সুধীর ডাক্তারের বাড়ির প্রয়াত ক্ষেত্র মোহনের ছেলে। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তাদের গ্রামের বাড়ি কধুরখীলে হলেও তারা চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগ এলাকায় বসবাস করতেন। পূজা-পার্বণ বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে তারা গ্রামের বাড়িতে আসতেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।
পিকলু বিশ্বাস সমকালকে বলেন, বিয়ের প্রায় এক বছর পরই স্বরূপ পরিবার নিয়ে প্রবাসে চলে যান। পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার স্বরূপ দুবাইয়ে ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। গত বছর মায়ের মৃত্যু-পরবর্তী ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে তিনি পরিবার নিয়ে দেশে এসেছিলেন।
পিকলু বলেন, ‘দুর্ঘটনায় বৌদি ও ভাতিজার মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের সবাই বাক্রুদ্ধ হয়ে গেছি। দাদা এখন শঙ্কামুক্ত আছেন বলে জানতে পেরেছি।’
দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে পিকলু জানান, স্বরূপ নিজের গাড়িতে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আল ওয়াথবা যাচ্ছিলেন। পথে আবুধাবি-আল আইন সড়কের আল ওয়াথবা এক্সিট-৪৭ এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি নিশান সাফারি গাড়ি তাদের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এতে তাদের গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই অসীমা বিশ্বাস ও অরিত্র বিশ্বাসের মৃত্যু হয়। আহত স্বরূপকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত হওয়ায় তাকে বাসায় নেওয়া হয় বলে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন পিকলু।
নিহত অসীমা বিশ্বাসের খালাতো ভাই নবজিত চৌধুরী রানা বলেন, ‘দিদি ও ভাগনের মৃত্যুর খবর কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।’ তিনি জানান, অসীমার মেয়ে শ্রুতি বিশ্বাস অনার্সে পড়ছেন। তিনি বাড়িতে থাকায় বাবা-মা ও ভাইয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যাননি।
অসীমা বিশ্বাসের বাবার বাড়ি রাউজান উপজেলার আঁধার মানিক গ্রামের হরেন্দ্র উকিলের বাড়িতে। তার বাবা প্রয়াত অমর কৃষ্ণ চৌধুরী। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে অসীমা ছিলেন বড়। তার ভাই মাকে নিয়ে ভারতে বসবাস করেন।






















কুমিল্লা থেকে ‘নিখোঁজ’ চার স্কুলছাত্রী হবিগঞ্জে উদ্ধার নিয়ে যা জানাল পুলিশ