ঢাকা , রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাজবাড়ীতে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল চালকের সাইবার ঝুঁকিতে বন্ধের পর চালু বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মীপূজা আজ ইরানে আজই হামলা হতে পারে, চুক্তির পথও খোলা রাখলেন ট্রাম্প ‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’, ফেসবুকে পোস্ট এসিল্যান্ডের আলাস্কায় নির্বাচনের ফলাফল আটকে দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার ৩ মেসিকে পুরস্কৃত করল স্প্যানিশ রাজপরিবার, বার্সেলোনার আবেগঘন বার্তা ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬ ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৩ স্বেচ্ছাসেবী, সবার বাড়ি মাগুরা

ইরানে আজই হামলা হতে পারে, চুক্তির পথও খোলা রাখলেন ট্রাম্প

সাংবাদিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন চাইলে আজ রোববারই ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে হতে পারে।

গতকাল শনিবার ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনস কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।

ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা কতটা এগিয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভাবছি এবং হতে পারে কালকেই (রোববার) তা হতে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি হামলা করব কি না, তা কি আসলেই আপনাদের আগে থেকে বলে দেব?’

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছালে ইরান এখনো সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে পারে। তবে তেহরান শেষ পর্যন্ত চুক্তির শর্ত মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু মূল সমস্যা হলো তারা কি সেই চুক্তিতে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে?’

ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে চালানো অভিযান দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে। আর একমাত্র সে কারণেই আমি পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

এ সময় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন না করেই ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ও জাহাজ চলাচল বেড়েছে।

তবে ইরান বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি। সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক আলোচনা—দুই পথই খোলা রেখেছেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, ‘আমাকে হয়তো বিষয়টি শেষ করতে হবে, অথবা তারা হয়তো একটি চুক্তি করবে। তবে আমি এখনো নিশ্চিত নই। যে পথেই যাক না কেন, জয় আমাদেরই হবে।’

অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আমেরিকানদের ‘ভীতু’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তারা ‘সবকিছু এলেমেলো করে দিয়েছে’। তবে পরিস্থিতি জটিল হলেও তেহরানের চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিত বলে মত দিয়েছেন তিনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাত বন্ধে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো অধরা। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নতুন করে হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১০:৪৯:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
৫০৩ Time View

ইরানে আজই হামলা হতে পারে, চুক্তির পথও খোলা রাখলেন ট্রাম্প

আপডেটের সময় : ১০:৪৯:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন চাইলে আজ রোববারই ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে হতে পারে।

গতকাল শনিবার ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনস কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।

ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা কতটা এগিয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভাবছি এবং হতে পারে কালকেই (রোববার) তা হতে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি হামলা করব কি না, তা কি আসলেই আপনাদের আগে থেকে বলে দেব?’

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছালে ইরান এখনো সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে পারে। তবে তেহরান শেষ পর্যন্ত চুক্তির শর্ত মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু মূল সমস্যা হলো তারা কি সেই চুক্তিতে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে?’

ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে চালানো অভিযান দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে। আর একমাত্র সে কারণেই আমি পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

এ সময় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন না করেই ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ও জাহাজ চলাচল বেড়েছে।

তবে ইরান বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি। সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক আলোচনা—দুই পথই খোলা রেখেছেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, ‘আমাকে হয়তো বিষয়টি শেষ করতে হবে, অথবা তারা হয়তো একটি চুক্তি করবে। তবে আমি এখনো নিশ্চিত নই। যে পথেই যাক না কেন, জয় আমাদেরই হবে।’

অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আমেরিকানদের ‘ভীতু’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তারা ‘সবকিছু এলেমেলো করে দিয়েছে’। তবে পরিস্থিতি জটিল হলেও তেহরানের চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিত বলে মত দিয়েছেন তিনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাত বন্ধে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো অধরা। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নতুন করে হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।