26 November, 2020
শিরোনাম

জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের ভার্চুয়াল আলোচনা সভা

 09 Nov, 2020   55 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

জেলহত্যা দিবস ও জাতীয় ৪ নেতা স্মরণে ‘জেলহত্যা দিবস ও মৃত্যুঞ্জয়ী চার জাতীয় নেতা’ শীর্ষক সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৫ টায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এম. নজরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান। সঞ্চালনায় তাকে সহযোগিতা করেন, সুইডেন আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার হেদায়েতউল ইসলাম শেলী।

 অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর অন্যতম সদস্য এবং ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র, বর্ষীয়ান জননেতা আমির হোসেন আমু, এমপি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য, জননেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীর বিক্রম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্পমন্ত্রী জননেতা নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, এমপি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য জননেতা জাহাঙ্গীর করির নানক। জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম-পুত্র মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ সাফায়েত ইসলাম। জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদ-এর কন্যা সিমিন হোসেন রিমি, এমপি।এই ভার্চুয়াল সভায় অতিথিবৃন্দ ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক দিলওয়ার হোসেন কয়েছ, সুইডেন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর করির ও সাধারণ সম্পাদক ডা. ফারহাদ আলী খান, ইতালি আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইকবাল, জার্মান আওয়ামী লীগ নেতা বসিরুল আলম চৌধুরী সাবু, আব্বাস আলী চৌধুরী ও মাসুম মিয়া, স্পেন আওয়ামী লীগের সভাপতি এস আর আই রবিন ও সাধারণ সম্পাদক রিজভী আলম, অস্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার হাফিজুর রহমান নাসিম ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম কবির, নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা জামান ও মুরাদ খান, আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগের আহব্বায়ক বেলাল হোসেন ও সদস্য সচিব ইকবাল আহমেদ লিটন, গ্রীস আওয়ামী লীগের সভাপতি মান্নান মাতব্বর ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল হাওলাদার, পর্তুগাল আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম জসিম, সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল খান, বেলজিয়াম আওয়ামী লীগ নেতা খোকন শরীফ, ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম, মালটা আওয়ামী লীগের সভাপতি মশিয়ার রহমান, নরওয়ে আওয়ামী লীগের সহ-সভপতি মোস্তাফিজুর রহমান, ইতালি বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খোন্দকার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জনাব আমির হোসেন আমু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় এটা কোনো ব্যক্তিগত হত্যাকাÐ নয়, বাঙালিদের নেতৃত্বশূন্য করে স্বাধীন বাংলাদেশকে আবার নব্য পাকিস্তানে রূপান্তর করাই ছিল স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক চক্রের মূল লক্ষ্য।’ জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে ১৯৭৫ সালে জাতীয় চার নেতার সঙ্গে একই কারাগারে থাকা আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা স্মৃতিচারণে এসব কথা বলেন। আমির হোসেন আমু বলেন, ‘ওইদিন রাত ২টা ২০ মিনিটে প্রথম ব্রাশ ফায়ারের শব্দ শুনতে পাই। ২০ মিনিট পর আবারো ব্রাশ ফায়ার। ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর কাতরানোর শব্দ শুনে জাতীয় সব নেতার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঘাতকরা আবারো ব্রাশ ফায়ার করে এবং বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। জেলের ভিতরে এমন নির্মম হত্যাকাÐ বিরল ঘটনা।’ তিনি বলেন, পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন, বিভিন্ন দূতাবাসে পদায়ন এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে তার আসল চেহারা উম্মোচন করে। যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব না থাকা সত্তে¡ও তাকে দেশে এনে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয় জিয়াউর রহমান।’ ‘বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে বাংলাদেশকে যারা নব্য পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র করেছিল সেই শত্রæর মুখে ছাই দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল্যবোধকে আবার প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার যোগ্য নেতৃত্বেই সব সংকট উত্তরণ করে উন্নয়ন আর অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’

 মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ৩রা নভেম্বরের রাত একটি কলঙ্কিত রাত। আমরা যারা সেদিন জেলখানায় ছিলাম এই রাত তাদের ভুলার নয়। আমরা জানি জেলখানা একটা নিরাপদ স্থান আর সেই জায়গায় বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে যারা মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলো সেই জাতীয় বীরদের নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। জাতীয় চার নেতা আসলেই জাতীয় বীর। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে বিশ্বাস করে আজীবন লড়াই করেছে এবং জীবন দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে তারা বঙ্গবন্ধুর সাথে কখনো বেইমানী করেনি। অন্যায়ের সাথে তারা কখনো আপোষ করেনী। বীরের সাথে তারা সেদিন মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলো। আমার সৌভাগ্য যে সেসময় জাতীয় চার নেতার সাথে জেলখানায় একসাথে কাজ করতে পেরেছি। ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার আট দিনের মাথায় জাতীয় চার নেতার সাথে আমিও গ্রেপ্তার হই। ৩রা নভেম্বর বিকাল পর্যন্ত আমরা একসাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করি তারা তখন কেমন যেন বিচলিত ছিলো। হয়ত তারা সেদিন একটা কিছু আঁচ করতে পেরেছিলো।’

 নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, ‘১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সহপরিবারে হত্যা ৩ নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যার মূল নায়কদের অন্যতম জেনারেল জিয়াউর রহমান। সে বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় কলঙ্ক।’

জাহাঙ্গীর করির নানক বলেন, ‘১৫ আগষ্ট সেদিন জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যার মধ্যদিয়ে বাঙ্গালী জাতির ভাগ্যকাশে যে অমানিশার অন্ধকার নেমে এসেছিলো তা আরো ঘনিভ‚ত করতে ৩রা নভেম্বর সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম কলঙ্ক জনক এই পরিকল্পিত হত্যাকান্ড ঘটানো হয়।’

মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ সাফায়েত ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাকে এবং শেখ জামালকে বললেন যে তোমাদের আর্মিতে যোগ দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমরা দুজনে আর্মিতে যোগ দেই। আমি দেশে এবং জামাল বিদেশে ট্রনিংয়ে যোগদান করি। আমাকে প্রথমে এক বছরের জন্য সিলেটে ট্রনিংয়ে পাঠানো হয় এবং জামালকে ছয় মাসের জন্য বিদেশে পাঠানো হয়। জামাল ট্রনিং শেষ করার আগেই দেশে ফিরে আসে এবং আমাকে সিলেট থেকে কুমিল্লায় পাঠানো হয়। আমাকে কেন সিলেট থেকে কুমিল্লা পাঠানো হলো এমন কি ১৫ আগষ্টের হত্যাকাÐ সম্পর্কেও আমি কিছুই জানতাম না। পরে অক্টোবরের শেষের দিকে ঢাকায় এসে আম্মার কাছে সব কিছু জানতে পারি। সেই সময় কারা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে আব্বার সাথে আমি আর আম্মা দেখা করার সুযোগ পাই। আব্বা তখন আম্মার সাথে বেশ হাসিখুশি ভাবেই কথা বলছিলো। একসময় আমাকে ডেকে বললো যে, ‘আমাদের তো মেরে ফেলবে’।আমি আব্বার কথায় আশ্চর্য হলাম, আব্বা তখন বললো যে আমাদের যে সব প্রলোভন দেখানো হয়েছিলো আমরা তা গ্রহন করিনি। আর আমরা জেলে থেকে কিছুই করতে পারছিনা। যার ডাকে সারাজীবন রাজনীতি করলাম ঘাতকরা তাকে স্বপরিবারে হত্যা করেছে, আর আমাদের বেঁচে থেকে লাভ কি।’

সিমিন হোসেন রিমি বলেন, ১৫ আগষ্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা ধুলিসাৎ করে দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঠিক আড়াই মাসের মাথায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে। মূলত জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার ষড়যন্ত্র করেছিল। আমরা দেখেছি, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীকে বিভিন্ন সময়ে হামলা করে হত্যার চেষ্টা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির উপর বিভিন্ন সময়ে যে সব ভয়ঙ্কর আঘত করা হচ্ছে তার সব কিছুই একই সূত্রে গাথা।ঘাতক চক্র এখনো থেমে নেই, তারা দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার পায়তারা এখনো চালিয়ে যাচ্ছে।’

 অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এম. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনে যেহেতু মরণোত্তর বিচারের পদ্ধতি নেই, সেই কারণে আমাদের দাবি বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জাতীয় চার নেতা হত্যায় জেনারেল জিয়াউর রহমানের ভ‚মিকা কী ছিল তা তদন্ত করে জাতির সামনে তুলে ধরা হোক। এতে করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের হত্যাকান্ডে কুখ্যাত জিয়াউর রহমানের ভ‚মিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড থাকবে। আগামী প্রজন্ম জানবে যে, জিয়াউর রহমান, এক নৃশংস ঘাতক।’ অনুষ্ঠানটির কারিগরি সহযোগিতায় ছিল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সি.আর.আই.)।

 

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ