02 December, 2020
শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে যা পাওয়া গেল

 11 Nov, 2020   51 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকেই ভোট নিয়ে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর নানা পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাসছে। কোনো তথ্যপ্রমাণ না দিলেও নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বক্তৃতা-বিবৃতিতে এরকম বেশ কয়েকটি পোস্টের কথা উল্লেখ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রচার শিবির।

এরকম প্রধান পাঁচটি অভিযোগ খতিয়ে দেখেছে বিবিসির রিয়েলিটি চেক টিম।

মিশিগানে কি মৃত ব্যক্তিদের নামে ভোট দেয়া হয়েছিল?

টুইটারে ভাইরাল হওয়া বার্তায় দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনের অন্যতম প্রধান একটি অঙ্গরাজ্য মিশিগানে মৃত ব্যক্তিদের নামে ভোট দেওয়া হয়েছে।

এসব দাবিকে ‘ভুল তথ্য’ জানিয়ে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে মিশিগান কর্তৃপক্ষ। তারা আরো জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তিদের নামে কোনো ভোট আসলে সেটা বাতিল করে দেওয়া হয়।

ভাইরাল টুইটগুলোয় এরকম কয়েকজন ব্যক্তির উল্লেখ করা হয়, যাদের নামে অ্যাবসেন্টি ব্যালট (ডাক যোগে দেওয়ার জন্য ভোট) পাঠানো হয়, যাদের জন্ম হয়েছিল শতবর্ষ আগে এবং তারা মৃত।

এরকম একটি টুইট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যার নাম সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তার বাবার নামের সাথে তাকে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। পলিটিফ্যাক্ট ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তার বাবার মৃত্যু হয়েছে। যদিও তাদের নাম এবং ঠিকানা এক। মিশিগানের কর্মকর্তারা ওই সাইটটিকে জানিয়েছে, ছেলের ব্যালট ভুলভাবে বাবার নামে ভোটিং সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

মৃত ব্যক্তিদের নামে ভোট দেওয়ার আরো কয়েকটি অভিযোগ খতিয়ে দেখে বিবিসি। এতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাবার এবং ছেলের নাম এক থাকায় এরকম বিভ্রান্তির তৈরি হয়েছে। আবার প্রযুক্তিগত ক্রুটির কারণেও এমন ঘটেছে। যেমন: অনেক সময় ভোটারদের একটি সাজানো জন্ম তারিখ দিতে বলা হয়েছিল, কারণ প্রাথমিকভাবে অনলাইনে তারা ভোটার রেজিস্ট্রেশন নম্বর খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র (যিনি নিজেও বাবার নাম ব্যবহার করেন) এবং ব্রেক্সিট পার্টি নেতা নাইজেল ফারাজের অ্যাকাউন্ট থেকেও এসব গুজব অনেকবার শেয়ার করা হয়েছে।

মিশিগানে কম্পিউটার সফটওয়্যারে ভুল ছিল না মিশিগানে কম্পিউটারের একটি সফটওয়্যারের ভুলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে জমা পড়া ভোট জো বাইডেনের নামে গণনা করা হয়েছে, অনলাইনে এমন একটি পোস্ট অসংখ্যবার শেয়ার করা হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজের একটি টুইট, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পও রিটুইট করেছিলেন, সেটির কারণে এটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বলা হয়, রাজ্যজুড়ে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে সমস্যা থাকতে পারে।

শুধুমাত্র একটি কাউন্টিতে (অঙ্গরাজ্যের একেকটি ছোট এলাকা) প্রাথমিকভাবে এরকম একটি সমস্যা হয়েছিল, যেখানে ভোট ভুল ক্রমে বাইডেনের নামে জমা পড়েছিল। তবে মিশিগানের সেক্রেটারি অব স্টেট জোসেলিন বেনসন জানিয়েছেন, খুব দ্রুত সেটা ধরা পড়ে এবং সংশোধন করা হয়। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিক এই ভুলটি মানুষের ভুল, কোনো সফটওয়্যারের নয়। ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয়, মিশিগানের অন্য ৪৭টি কাউন্টিতে একই ধরনের সমস্যার তৈরি হতে পারে, যেখানে একই সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। বেনসন বলেছেন, রাজ্যজুড়ে একই ভুল হয়েছে, এরকম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

‘শার্পি’ কালির ভোট বাতিল হয়নি আরেকটি ব্যাটেলগ্রাউন্ড অ্যারিজোনায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া গুজব ছিল, রিপাবলিকান ভোটারদের ভোট দেওয়ার সময় শার্পি কলম (পার্মানেন্ট মার্কারের একটি ব্রান্ড) দেওয়া হয়েছিল। ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একজন নারী দাবি করেন, এই ধরনের কালিতে দেওয়া ভোট মেশিনগুলো পড়তে পারে না। ক্যামেরার পেছনে থাকা একজন ব্যক্তি বলেন, এসব ভোট গণনা করা হচ্ছে না এবং ভোট নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই মানুষজনকে শার্পি পেন ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে আরো দাবি করা হয়, ভোটে জালিয়াতি করা হয়েছে এবং ট্রাম্প ভোটারদের অনেক ভোট এভাবে বাতিল করা হয়েছে।

অ্যারিজোনার সেক্রেটারি অব স্টেট কাটি হোবস টুইটারে নিশ্চিত করেছেন যে, যদি সশরীরে কেউ ভোট দিয়ে থাকেন, তাহলে ভোট গণনা করা হয়েছে। কী ধরনের কলম ব্যবহার হয়েছে (শার্পি হলেও), সেটা কোনো ব্যাপার নয়।

পরে তিনি সিএনএনকে বলেন, ‘যদি কোনো কারণে যন্ত্র কোনো ভোট গণনা করতে না পারে, তারপরেও আমাদের সেগুলো গণনার পদ্ধতি রয়েছে। সেগুলোও গণনা করা হবে। রিপাবলিকানদের ভোট বাতিল করার উদ্দেশ্যে এরকম ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, এরকম দাবির পেছনে আসলে কোনো ভিত্তি নেই।’

মিশিগানের ভুল ভোট মানচিত্র নির্বাচনের রাতে ছড়িয়ে পড়া মিশিগানের একটি ভোট মানচিত্রে দেখা যায়, হঠাৎ করে জো বাইডেনের জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার ভোট বেড়ে গেছে, কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য কোনো ভোট বাড়েনি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন খবর ভাইরাল হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও বিষয়টি শেয়ার করেন, যার ফলে ভোট জালিয়াতির আলোচনা আরো বেড়ে যায়।

ম্যাপটি যারা তৈরি করেছিল, সেই নির্বাচন পর্যবেক্ষক ওয়েবসাইট ডিসিশন ডেস্ক জানিয়েছে, এটা ছিল রাজ্যের তৈরি করা ফাইলের সাধারণ একটি ভুল, যা ম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। রাজ্য যখন ভুলটি শনাক্ত করে, তখন তারা আরেকটি আপডেটেড হিসাব পাঠিয়ে দেয়।

‘নির্বাচনের রাতে এ ধরনের ভুল ঘটতে পারে এবং আমাদের ধারণা, মিশিগানের অন্য যারা ভোটের হিসাব রেখেছেন, তারাও একই ভুল করেছেন এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মতো তারাও সংশোধন করেছেন’, জানায় সংস্থাটি।

এছাড়া এ নিয়ে যারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তাদের পোস্টের সঙ্গে টুইটার একটি করে লেবেল সেটে দিয়েছে। এতে লেখা, ‘এই টুইটে আংশিক বা পুরো তথ্য নিয়ে বিতর্ক আছে এবং তা নির্বাচন বা নাগরিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।’

ম্যাট ম্যাকোউইক, যার পোস্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিটুইটারে শেয়ার করেছিলেন, তিনি নিজেই পোস্টটি মুছে ফেলে ক্ষমা চেয়েছেন-যদিও ব্যাপকভাবে শেয়ার হওয়ার কারণে ছবিটি ইন্টারনেট দুনিয়ায় রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে মিশিগানের ব্যুরো অব ইলেকশন বলেছেন, তথ্য গরমিল নিয়ে তারা কোন মন্তব্য করবে না।

তালিকাভুক্ত ভোটারদের চেয়ে উইসকনসিনে বেশি ভোটার নেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি দাবি হলো, উইসকনসিনে মোট যতজন ভোটার তালিকাভুক্ত রয়েছেন, তাদের চেয়ে বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। একজন টুইটার ব্যবহারকারী লেখেন, ‘ব্রেকিং: উইসকনসিনে তালিকাভুক্ত ভোটারের চেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। তালিকাভুক্ত ভোটার-৩১ লাখ ২৯ হাজার অথচ ভোট পড়েছে ৩২ লাশ ৩৯ হাজার ৯২০টি। এটা জালিয়াতির সরাসরি প্রমাণ।’

কিন্তু ভোটার সংখ্যার তার তথ্যটি পুরোনো। ১ নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, উইসকনসিন রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭২৬ জন। গত কয়েক বছরের তুলনায় উইসকনসিনে ভোট পড়ার হার এই বছর বেশ বেশি। এই অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের দিনেও একজন নিজেকে ভোটার হিসাবে তালিকাভুক্ত করতে পারেন। এর মানে হলো তালিকাভুক্ত ভোটারের সর্বশেষ যে সংখ্যাটি পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচনের দিন সেই সংখ্যা আরো বাড়তেও পারে।

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ