26 September, 2021
শিরোনাম

সরফভাটায় তিনশতাধিক গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা,থানায় অভিযোগ

 20 Mar, 2021   256 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে তিন শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা,খেলার মাঠ পূর্ণদ্ধার নামে এই তান্ডব চালানো হয় বলে দাবী করেন জায়গার মালিকরা৷৷ গত শুক্রবার(১৯ মার্চ) ভোরগত রাতের মধ্যে এসব গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ বাগান মালিকদের। সরফভাটা খেলার মাঠ দখলমুক্তের নামে মৌরশি জায়গায় লাগানো এসব গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন তারা। গাছ কাটার খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় সরফভাটায় একমাত্র খেলার মাঠ ছিল সরফভাটা ক্ষেত্রবাজার সংলগ্ন পোড়ামোড়া নামক এলাকায়। প্রায় ১০ কানি আয়তনের খেলার মাঠটি পরিতক্ত্য পরে থাকার ফলে ২০০৩ সালে জায়গার মালিক দাবিদাররা গাছ লাগিয়ে দিয়েছিল। জায়গাটি খেলার মাঠের জন্য ছেড়ে দিতে ১৫/১৬ বছর থেকে খেলার দাবি জানিয়ে আসছিল স্থানীয়রা। খেলার মাঠ দখলমুক্ত করতে স্থানীয়রা আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহন করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখনই একটি পক্ষ শুক্রবার ভোরগত রাতে মাঠের সবগাছ কেটে সাবাড় করে দেয়। গাছ কাটার ঘটনাটি সরফভাটা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ও সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুল ইসলাম সরফীর নির্দেশে হয়েছে বলে সরাসরি দাবী করেন সরফভাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আহসান হাবীব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে স্থানীয় ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা আহসান হাবীবের দেওয়া বিবৃতিটি পোষ্ট করলে এতে বলতে শোনা যায় রাত ১০ টার দিকে সরফভাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুল ইসলাম সরফীর ঘরে স্থানীয় ও বহিরাগত অনেকে সংঘবদ্ধ হতে দেখা যায়, রাত ১২ টার দিকে তিনি ও বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোক দা, কিরিচ ও গাছ কাটার সরঞ্জাম নিয়ে মাঠের সবগাছ কাটা শুরু করে। বাগান মালিকরা খবর পেয়ে পুলিশকে ফোন করলে রাত ২ টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাদের ধাওয়া করে। এসময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন খেলার মাঠ প্রয়োজন, তবে জায়গার মালিকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে কারও ক্ষতি না করে মাঠ দখলমুক্ত করা যেতো বলে তিনি মনে করেন। নুরুল আবছার নামের একজন বাগান মালিক দাবি করে বলেন, সম্পূর্ণ মাঠটি প্রায় ১০ কানি আয়তনের। যেখানে ৬টি খতিয়ানে ৭৬০০ দাগের আন্দরে একাধিক মালিক রয়েছেন,যার মধ্যে ৫২ শতক জায়গার মালিক তিনি নিজেই। এই জায়গার মধ্যে তিনি অন্যান্যদের মতো সেগুন গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়েছেন,কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা এসব গাছ কেটে দিয়ে বিরাট অন্যায় করেছে,কারা কেটেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন রাতের আঁধারে কাউকে না দেখলেও লোক মুখে জানতে পারেন বর্তমান ও সাবেক দুই ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় গাছ কাটার ঘটনাটি হয়েছে৷ রাতের আঁধারে কারা খেলার মাঠের গাছ কেটেছে জানেন না দাবি করে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বিভিন্ন গনমাধ্যমকে বলেন, যারা আমাকে ও সাবেক চেয়ারম্যানকে অভিযুক্ত করছেন তারা বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। রাজনীতি খেলার মাঠের গাছ কেটে অপবাদ দিয়ে নয়, রাজপথে করা উচিৎ। তবে খেলার মাঠের জায়গাটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও টিলা শ্রেণির ভূমিটিকে যুগ যুগ ধরে তার পূর্ববর্তী চেয়ারম্যানরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রকল্প দিয়ে খেলার মাঠের উপযোগী করেছিলেন বলে জানান তিনি। সরফভাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মাষ্টার আব্দুর রউফসহ স্থানীয় অনেকে ঘটনার দায় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক চেয়ারম্যানের বলে দাবী করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন৷৷ স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন খেলার মাঠ আমাদের দরকার,তাই বলে রাতের আঁধারে মাঠ দখল মুক্তের কথা বলে শতাধিক মূল্যবান গাছ কেটে দিতে হবে তা মোটেও ঠিক হয়নি,আর গাছ কাটার বিষয় নিয়ে পাল্টা পাল্টি বত্তব্য হুমকি ধমকি এটাও ঠিক নয়,সবকিছুতে রাজনীতিকে টেনে আনা মোটেও উচিত হচ্ছেনা দায়িত্বশীল জায়গাতে থেকে এমন কার্যক্রম সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে এমন ঘটনাকে যারা সমর্থন দিচ্ছে তারা আরেকটি অন্যায় কাজকে বৈধতা দিচ্ছেন,ভুল হতে পারে তার জন্য আলোচনা করে অনেকদিনের দাবী মাঠটি যাদের দখলে রয়েছে তাদের থেকে নেওয়া সম্ভব হবে,অন্যতায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বড় ধরণের সহিংসতা সৃষ্টির পথ খুলে দিবে৷৷ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুব মিল্কী জানান কারা গাছ কেটেছে তা জানা সম্ভব না হলেও মালিক পক্ষে একটি জিডি করা হয়েছে তার ভিত্তিতে জড়িতদের আটক করার অভিযান অব্যহত রয়েছে তার আগে রাতে একদল দুর্বৃত্ত গাছ কাটার বিষয়টি জানার পর পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ যাওয়ার খবরটি জেনে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ