13 April, 2021
শিরোনাম

স্বল্পোন্নত থেকে উত্তরণে নৌ-পরিবহনের গুরুত্ব অপরিসীম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 07 Apr, 2021   55 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

‘মুজিববর্ষের শপথ, নিরাপদ রবে নৌপথ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২১। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২১ পালিত হবে।

বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২১’ এর উদ্বোধন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি এর উদ্বোধন করেন।

অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল নিরাপত্তা, নির্বিঘ্ন ও নিরবচ্ছিন্ন করাসহ যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নৌ পরিবহন অধিদপ্তর প্রতিবছর এই সপ্তাহ পালন করে আসছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত থেকে উত্তরণে নৌ-পরিবহনের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের এ অর্জনকে সুসংহত ও টেকসই করতে হবে।

 

নৌ দুর্ঘটনা কমে আসছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় নৌপথ সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। দুর্ঘটনা মুক্ত নদীপথ গড়ে তোলা নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান দায়িত্ব। আমাদের নৌ-দুর্ঘটনাগুলো হ্রাস পাচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে- নৌযানের ডিজাইন ও নৌপথ নিরাপদ করার জন্য যা করণীয় তা করা হচ্ছে। আপনাদের যথেষ্ট তৎপরতা আছে বলেই আমার মনে হয় এগুলো কমেছে। প্রতিবছর যখনই কোন ছুটি আসে তখন আমরা দেখতাম একটা বড় দুর্ঘটনা ঘটত। সেগুলো একদম চলে গেছে বলব না, হ্রাস পেয়েছে।

মন্ত্রী নৌ-খাতের আরও উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি কালবৈশাখী ঝড়ের সময়ে নদীপথে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি যাত্রীসাধারণের প্রতি সতর্কতার সাথে চলার অনুরোধ জানান।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়, বিশেষ করে নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা, বিআইডাব্লিউটিএ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ এবং জনসাধারণের সচেতনতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ফলে যাত্রীবাহী নৌযানের দুর্ঘটনা অনেক কমে এসেছে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার নৌ সেক্টরের উন্নয়নের লক্ষ্যে নৌপথের সংরক্ষণ ও নৌপরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের সকল নদীকে দখলমুক্ত করা এবং নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে নদীসমূহকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে এবং পাশাপাশি নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে সামাজিক ভাবেও সোচ্চার ও কঠোর হতে হবে । এক্ষেত্রে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই পঞ্চাশের দশক থেকে নদী ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ভাবতেন। তিনি সদ্য স্বাধীন মাতৃভূমির শাসনভার হাতে নিয়েই নদীমাতৃক বাংলাদেশের নৌচলাচল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নৌপথের পলি অপসারণ ও নদী খননের জন্য স্বাধীন দেশে ৭টি ড্রেজার আমদানির মতো সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নদীর প্রতি তার ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হতে চলেছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায়  নৌ শিল্পের বিকাশ তথা নৌপথের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বাজেটে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে এবং নিরাপদ নৌযান নির্মাণ ও নৌযানে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করে নৌপথের যাত্রীদের মধ্যে আমরা আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর এ জেড এম জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি (ভার্চুয়ালি), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম (ভার্চুয়ালি), বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক (ভার্চুয়ালি), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুল আলম চৌধুরী (ভার্চুয়ালি)।

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ