24 November, 2020
শিরোনাম

মদিনা টাওয়ারে ইরফানের টর্চার সেলের সন্ধান

 26 Oct, 2020   124 বার দেখা হয়েছে

 নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের মদিনা আশিক টাওয়ারের ১৬ তলা ভবনের ছাদ থেকে ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমের টর্চার সেলের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। সেখানে এখন অভিযান চলছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর ইরফানের বাড়ির কাছাকাছি জায়গা মদীনা আশিক টাওয়ারে একটি রুম টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার হতো। ইরফানের দেয়া তথ্য অনুযায়ী সেখানে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ওই রুম থেকে দড়ি, হাতুড়ি, রড, মানুষের হাড়, গামছা, নেটওয়ার্কিংয়ের কাজে ব্যবহৃত ওয়াকিটকিসহ টর্চারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।

এর আগে সন্ধ্যায় র‌্যাবের মুখপাত্র লে. ক. আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের বাড়ির পাশে চকবাজারে আরো একটি টর্চার সেলের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব।

এসময় তিনি বলেন, হাজী সেলিমের ছেলে কাউন্সিলর ইরফান সেলিম এবং তার সহযোগী জাহিদুল ইসলামকে এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাদক ও অবৈধভাবে ওয়াকিটকি রাখার অপরাধে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের দুজনকে একবছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। হাজী সেলিমের বাড়ি থেকে উদ্ধার অস্ত্র ও মাদকের ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে দুটি মামলা করবে বলে জানিয়েছেন আশিক বিল্লাহ।

এর আগে সোমবার দুপুর ১টার দিকে লালবাগের সোয়ারিঘাটের দেবদাস লেনে হাজি সেলিমের বাড়িটি ঘেরাও করে র‌্যাব। এর কিছুক্ষণ পরে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়।

অভিযানের পর নয়তলা ওই ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ইরফান সেলিম থাকেন জানিয়ে র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, সেখানে ১টি বিদেশি পিস্তল, গুলি, ১টি এয়ারগান, ৩৭টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো লাইসেন্স নেই। আর ওয়াকিটকিগুলোও অবৈধ, কালো রঙের এসব ওয়াকিটকি শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করতে পারেন।

ধানমন্ডিতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিমের ছেলেসহ দুজনকে আটক করে র‌্যাব।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, গতকাল বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ নীলক্ষেত থেকে বই কিনে তার স্ত্রীসহ মোটরসাইকেলে করে ক্যান্টনমেন্টে যাচ্ছিলেন। একটি জিপ যার মধ্যে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো ছিল। ওই গাড়িটি পেছন থেকে মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। পরে মোটরসাইকেলটি থামিয়ে পরিচয় দেন লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ। তিনি ধাক্কা দেওয়ার বিষয়টি জানতে চান। একপর্যায়ে গাড়িতে থাকা লোকজনের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয় এবং উনি আহত হন।

এ নিয়ে রাতে জিডি করার পর সকালে তিনি ধানমণ্ডি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এটা মূলত মারধরের ঘটনা। মামলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পূর্বপশ্চিমবিডি

সম্পর্কিত খবর
সব খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | বাংলা৫২নিউজ.কম
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি এবং অপরাধ