অপ্রতিম হত্যা : আসামিদের পক্ষে মামলা না লড়ার সিদ্ধান্ত আইনজীবীদের
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে মামলা না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কুমিল্লা বারের আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেন কুমিল্লা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কায়ইমুল হক রিংকু।
এ সময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফুল করিম, কুমিল্লার সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট তারেক আবদুল্লাহসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবীরা জানান, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও স্পর্শকাতর। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে আইনগত সহায়তা না দেওয়ার বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তবে আসামিপক্ষের আইনগত অধিকার এবং আদালতে আত্মপক্ষ সমর্পণের সুযোগ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বহাল থাকবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান সে। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজের জিডি করেন। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিলিং মিশনে অংশ নেন চারজন। সবাইকে শনাক্ত করে আটক করেছে পুলিশ। পরে অপ্রতিমের বাবার দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে সিয়াম ছাড়া বাকী তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।






















অপ্রতিম হত্যা : আসামিদের পক্ষে মামলা না লড়ার সিদ্ধান্ত আইনজীবীদের