অভিনয় জগতে সফর, নিজের মতো করে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস
‘আমি মানুষের গল্প বলতে চাই। কাল্পনিকের পাশাপাশি চাই বাস্তব চরিত্রে সমানভাবে কাজ করতে; যাতে করে, বয়সের সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে দিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারি।’ অর্চিতা স্পর্শিয়ার এ কথা থেকে বোঝা যায়, নানা রকম গল্প আর চরিত্র পর্দায় তুলে ধরার মধ্য দিয়ে সফর করতে চান অভিনয় জগতে।
আরও একবার তাঁর প্রমাণ পাওয়া গেল, ‘লালপরী’ নাটকে। বাস্তবতা, মতিভ্রম ও অতিপ্রাকৃত গল্পের মিশেলে নির্মিত এ নাটকে স্পর্শিয়ার দেখা মিলেছে কেন্দ্রীয় চরিত্রে। এতে দর্শক এই তারকা অভিনেত্রীকে আবিষ্কার করছেন নতুন অবয়বে।
অভিনয়ের জন্য নির্মাতা জোবায়ের আবীর পিয়ালের এ নাটকটি বেছে নেওয়া প্রসঙ্গে স্পর্শিয়ার ভাষ্য, বহমান এই সময়ে আমাদের সমাজের যে চরিত্রগুলো নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে গল্পে রূপান্তরিত হয়, সেই গল্প ও চরিত্রের প্রতি তাঁর আলাদা এক ধরনের দুর্বলতা আছে। অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সেসব চরিত্র দর্শকের কাছে বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে ধরার যে চ্যালেঞ্জ, সেই চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি সব সময় প্রস্তুত।
অভিনয় নিয়ে অর্চিতা স্পর্শিয়ার যে চিন্তাধারা, তা সমসাময়িক অনেকের সঙ্গে মেলানো যায় না। হয়তো সে কারণে আমরা তাঁকে দেখি, জনপ্রিয়তার দৌড়ে অংশ না নিয়ে নিজের মতো করে কাজ করে যেতে। যা এই আভাস দেয়, ভিন্নরকম গল্প ও চরিত্রে পর্দায় উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে তিনি হাঁটছেন পরিণত শিল্পী হওয়ার পথে।

পর্দায় স্বতন্ত্র উপস্থিতি আর সাবলীল অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনে ছাপ ফেলে চলেছেন। তাই নাটক, টেলছবি থেকে শুরু করে ওয়েব সিরিজ ও সিনেমাতেও রাখতে পেরেছেন সাফল্যের স্বাক্ষর। অবশ্য স্পর্শিয়াকে নিয়ে নতুন করে এ কথাগুলো না বললেও চলে, কারণ দর্শকের কাছে তিনি বহুমুখী অভিনয়ের জন্য পরিচিত। সেই পরিচিতি গড়ে তুলতে পাড়ি দিতে হয়েছে দেড় দশকের দীর্ঘ পথ। যদিও যাত্রা শুরু হয়েছিল বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে।
বিজ্ঞাপন থেকে ছোটপর্দার নির্মাতাদের নজর কাড়তে খুব একটা সময় লাগেনি। অর্চিতা স্পর্শিয়া নামে তরুণীর মাঝে যে একজন অভিনেত্রীর বসবাস–তা বুঝতেও নির্মাতাদের বেগ পেতে হয়নি। যে কারণে দু-তিনটি নাটকে কাজ করার পর থেমে থাকার অবকাশ ছিল না। দিন দিন বেড়ে চলেছে তাঁর কাজের তালিকা।
যেখানে চোখ রাখলে স্পষ্ট হয়ে উঠে ‘ঘূর্ণিপাক’, ‘দূরত্ব’, ‘অসহায়’, ‘এলগরিদম’, ‘লাভ স্টোরি’, ‘এই গল্পের নাম কী’, ‘জার্নি বাই রোমান্স’, ‘লাভ উইন টার্ন’, ‘সুবর্ণপুর বেশি দূরে নয়’, ‘নূর’, ‘সুইট ফ্যামিলি’, ‘চিরকুট’, ‘মন ছুঁয়ে’, ‘মায়ের বিয়ে’, ‘লাল মাংসের ঝোল’, ‘গুন্ডা’, ‘ক্রেজি লাভার’, ‘ক্রিটিসাইজ’, ‘যদি আমার না হও’, ‘জুতা নিজ দায়িত্বে রাখবেন’, ‘শেষটা তুমি’, ‘মিরাকল অব লাভ’, ‘প্রতিদান’, ‘এক্স বয়ফ্রেন্ডস ওয়েডিং’, ‘রংবাজ’, ‘কী কথা তাহার সাথে’, ‘মাই ব্যাড বয়’, ‘দ্য ফ্যামিলি’, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’, ‘পথের সাথীকে চিনে নিও’ থেকে শুরু করে ‘লালপরী’ পর্যন্ত প্রতিটি নাটকে নতুন রূপে নিজেকে তুলে ধরার প্রয়াস ছিল অর্চিতা স্পর্শিয়ার।

এর বাইরেও সিনেমা ‘এখানে নোঙর’, ‘ছক’, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘কাঠবিড়ালি’ ও ‘নবাব এলএলবি’-এ অভিনয় করে প্রমাণ করেছেন, অভিনয়ের ভুবনে আরও অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়ার আছে তাঁর।
স্পর্শিয়ার কথায়, বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে অভিনয় জগতে পা রেখেছিলাম। তখনও জানা ছিল না, অভিনয় জগতের সফরটা কতটা দীর্ঘ হবে। সত্যি এটাই, শুরুর কাজগুলো হয়ে উঠেছিল ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। যে কারণে আর পিছু তাকাতে হয়নি। সুযোগ এসেছে নাটক, সিনেমা সব মাধ্যমে কাজ করার। তা করতে গিয়ে কখন যে দেড় দশক পথ পাড়ি দিয়ে ফেলেছি, বুঝতে পারিনি। সাধারণ দর্শক হয়তো জানেন না, এই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকাটা বড় চ্যালেঞ্জ। যে টিকে থাকতে পারে, সেই জয়ী। আমি যে এখনও টিকে আছি, সেটিই আমার কাছে বড় সাফল্য।’
না, শুধু টিকে থাকা নয়, অনিন্দ্য অভিনয় দিয়ে দর্শক প্রশংসা কুড়ানোর মধ্য দিয়ে পথচলাকে মসৃণ করে তুলতে পেরেছেন স্পর্শিয়া। তা সম্ভব হয়েছে, সস্তা জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে বাছবিচারের মাধ্যমে ভালো কিছু কাজ বেছে নিতে পারায়। মানসম্পন্ন কাজ পর্দায় তুলে ধরার লক্ষ্যে দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দেখাতে পেরেছেন, সেটি ছিল আজকের অর্চিতা স্পর্শিয়া হয়ে ওঠার অন্যতম শক্তি। তাই ছোটপর্দার লালপরীকে আরও নতুন অবয়বে আবিষ্কারের সুযোগ পাওয়া যাবে–সেটুকু আশা দর্শক করতে পারেন।




























রাজধানীতে নির্মাণ শ্রমিককে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা: ৯ লাখ টাকায় আপস