ঢাকা , শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বাংলামোটরে মারধর-গুলি/ ৫০ হাজার টাকা চাঁদার দাবি থেকে ঘটনার সূত্রপাত টিএইচই র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শীর্ষে এআইইউবি বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন আশুলিয়ায় শ্রমিকদল নেতার বাসায় হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৬ সাভারে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মিরপুরে সরকারি আবাসিক ভবনের লিফট ছিঁড়ে শিশুসহ আহত ৩ ৯ গোলের হারের পর নাইটক্লাবে সাদ-সোহেলের ছবি নিয়ে প্রশ্ন বাজারে শীতের আগাম সবজিতে উত্তাপ, কাঁচা মরিচে স্বস্তি ঝড়-বৃষ্টির নতুন পূর্বাভাস, পাঁচ দিন থাকতে পারে বৃষ্টি মিড-এর প্রতিবেদন/ তিন মাসে ১৬২ সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার

আশুলিয়ায় শ্রমিকদল নেতার বাসায় হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৬

সাংবাদিক

শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে শ্রমিক দল নেতার বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইয়ারপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি সাঈদ হাসান মিঠু গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

আহতদের মধ্যে চায়ের দোকানদার ও তার ছেলেসহ ৩ জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে আশুলিয়ার কাঠালতলা, চিত্রশাইলের মানিকগঞ্জ পাড়া ও কামরুলের মোড় এলাকায় পৃথকভাবে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ববিরোধের জেরে আশুলিয়া থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের বাসায় একদল সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায়। এ সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাসায় গিয়ে গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন রবিউল ইসলাম।

হামলার একপর্যায়ে বাসার সিঁড়ির নিচে হামিম নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রাখা হয়। পরে ইয়ারপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি সাঈদ হাসান মিঠুকেও মাথা ও বাম হাতে কুপিয়ে এবং ডান হাতে গুলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নারীসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও সবার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার একপর্যায়ে পুলিশের সাইরেন শুনে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।

আশুলিয়া থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘হাবিব ও হাসান বাহিনীর লোকজন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার বাসায় এসে গুলি চালায় ও ভাঙচুর করে। আমাকে না পেয়ে আমার কর্মী হামিমকে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। আমি মাদকের বিরুদ্ধে মিছিল করায় তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালিয়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. হাবিব। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘এই হামলার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। বরং তারা আমার দুই ছেলেকে মারধর করেছে। আমি দূরে অবস্থান করায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখতেও পারিনি। আমি যদি সেখানে গিয়ে থাকি, তারা যদি তা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমার বিরুদ্ধে যে শাস্তি দেওয়া হবে, আমি তা মাথা পেতে নেব।’

এব্যাপারে জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রাশেদ বলেন, “পূর্বশত্রুতা ও স্থানীয় বিরোধের জেরে শ্রমিক দল নেতার বাসায় হামলার ঘটনায় জব্বার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১১:৩২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
৫১৭ Time View

আশুলিয়ায় শ্রমিকদল নেতার বাসায় হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৬

আপডেটের সময় : ১১:৩২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে শ্রমিক দল নেতার বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইয়ারপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি সাঈদ হাসান মিঠু গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

আহতদের মধ্যে চায়ের দোকানদার ও তার ছেলেসহ ৩ জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে আশুলিয়ার কাঠালতলা, চিত্রশাইলের মানিকগঞ্জ পাড়া ও কামরুলের মোড় এলাকায় পৃথকভাবে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ববিরোধের জেরে আশুলিয়া থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের বাসায় একদল সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায়। এ সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাসায় গিয়ে গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন রবিউল ইসলাম।

হামলার একপর্যায়ে বাসার সিঁড়ির নিচে হামিম নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রাখা হয়। পরে ইয়ারপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি সাঈদ হাসান মিঠুকেও মাথা ও বাম হাতে কুপিয়ে এবং ডান হাতে গুলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নারীসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও সবার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার একপর্যায়ে পুলিশের সাইরেন শুনে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।

আশুলিয়া থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘হাবিব ও হাসান বাহিনীর লোকজন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার বাসায় এসে গুলি চালায় ও ভাঙচুর করে। আমাকে না পেয়ে আমার কর্মী হামিমকে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। আমি মাদকের বিরুদ্ধে মিছিল করায় তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালিয়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. হাবিব। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘এই হামলার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। বরং তারা আমার দুই ছেলেকে মারধর করেছে। আমি দূরে অবস্থান করায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখতেও পারিনি। আমি যদি সেখানে গিয়ে থাকি, তারা যদি তা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমার বিরুদ্ধে যে শাস্তি দেওয়া হবে, আমি তা মাথা পেতে নেব।’

এব্যাপারে জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রাশেদ বলেন, “পূর্বশত্রুতা ও স্থানীয় বিরোধের জেরে শ্রমিক দল নেতার বাসায় হামলার ঘটনায় জব্বার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’