ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রোজার আগেই সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ৭ নভেম্বর বন্ধ থাকবে দেশের সব ব্যাংক ইহুদিদের ভোট দিতে দিচ্ছেন তাগাদা/ভোটকেন্দ্রে আরব ভোটারদের উপস্থিতি বেশি, ভীত নেতানিয়াহু ও তার মিত্ররা সাত বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা কর্মচারীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ব্যাংকের প্রায় ৬৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ, জাবেদসহ আসামি ১৫ এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন ভোটার তালিকার ভুল সংশোধনে ১৫০ কর্তৃপক্ষ নিয়োগ ইসির অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর টুপটুপ রিসোর্ট থেকে আরও এক মরদেহ উদ্ধার গাজীপুরে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজট সীতাকুণ্ডে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে লরির ধাক্কা, নিহত ৫

কর্মচারীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ব্যাংকের প্রায় ৬৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ, জাবেদসহ আসামি ১৫

সাংবাদিক

জালিয়াতির মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবলী রোড শাখা থেকে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আরামিট গ্রুপের এক কর্মচারীকে ব্যবসায়ী ও পণ্য সরবরাহকারী সাজিয়ে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ২৭টি বাই-মুরাবাহা বিনিয়োগ চুক্তির বিপরীতে এই অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন। ওই দিন এক ব্রিফিংয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের কর্মচারী ও মামলার আসামি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ব্যবসায়ী ও পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে দেখানো হয়। এ ছাড়া নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান ক্লাসিক ট্রেডিংকে পণ্য সরবরাহকারী এবং আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডকে পণ্য গ্রহণকারী হিসেবে দেখানো হয়।

এজাহার অনুযায়ী, কোনো পণ্য সরবরাহ না করেই পণ্য সরবরাহের ভুয়া তথ্যসংবলিত কাগজপত্র তৈরি করে ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখায় জমা দেওয়া হয়। পরে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ২৭টি ভুয়া বাই-মুরাবাহা চুক্তির বিপরীতে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। পরে ওই অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ, আত্মসাৎ করা অর্থ সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে আসামিরা মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী বুকমীলা জামান, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মোহাম্মদ শাহ আলম, এজিএম একেএম মারুফ, ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের কথিত মালিক ও আরামিট সিমেন্টের এজিএম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবলী রোড শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মহিউদ্দীন, প্রিন্সিপাল অফিসার (বিনিয়োগ) মোহাম্মদ আখতার হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার ও জেনারেল ব্যাংকিং ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুল হক, ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আবদুল কাদের, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আবদুল করিম, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ মো. শহিদুল্লাহ, এফএভিপি ও ম্যানেজার অপারেশন মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, এসডিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ এবং এসপিও রিদওয়ানুল হক মামলার আসামি।

এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০১, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১০:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
৫০৮ Time View

কর্মচারীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ব্যাংকের প্রায় ৬৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ, জাবেদসহ আসামি ১৫

আপডেটের সময় : ১০:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

জালিয়াতির মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবলী রোড শাখা থেকে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আরামিট গ্রুপের এক কর্মচারীকে ব্যবসায়ী ও পণ্য সরবরাহকারী সাজিয়ে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ২৭টি বাই-মুরাবাহা বিনিয়োগ চুক্তির বিপরীতে এই অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন। ওই দিন এক ব্রিফিংয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের কর্মচারী ও মামলার আসামি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ব্যবসায়ী ও পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে দেখানো হয়। এ ছাড়া নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান ক্লাসিক ট্রেডিংকে পণ্য সরবরাহকারী এবং আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডকে পণ্য গ্রহণকারী হিসেবে দেখানো হয়।

এজাহার অনুযায়ী, কোনো পণ্য সরবরাহ না করেই পণ্য সরবরাহের ভুয়া তথ্যসংবলিত কাগজপত্র তৈরি করে ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখায় জমা দেওয়া হয়। পরে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ২৭টি ভুয়া বাই-মুরাবাহা চুক্তির বিপরীতে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। পরে ওই অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ, আত্মসাৎ করা অর্থ সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে আসামিরা মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী বুকমীলা জামান, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মোহাম্মদ শাহ আলম, এজিএম একেএম মারুফ, ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের কথিত মালিক ও আরামিট সিমেন্টের এজিএম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবলী রোড শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মহিউদ্দীন, প্রিন্সিপাল অফিসার (বিনিয়োগ) মোহাম্মদ আখতার হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার ও জেনারেল ব্যাংকিং ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুল হক, ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আবদুল কাদের, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আবদুল করিম, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ মো. শহিদুল্লাহ, এফএভিপি ও ম্যানেজার অপারেশন মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, এসডিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ এবং এসপিও রিদওয়ানুল হক মামলার আসামি।

এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০১, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।