ঢাকা , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরও ৪১৫ জন আটক

সাংবাদিক

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানে আরও ৪১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানার পুলিশ ইউনিট ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ একযোগে এ অভিযান চালায়।

রাত দেড়টার দিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান ক্ষুদে বার্তায় সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ জেলার প্রতিটি থানার আওতাধীন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। বিশেষ করে কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে-এমন স্থানগুলোকে অভিযানের আওতায় নেওয়া হয়। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অভিযানে সরাসরি অংশ নেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, অভিযানে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত বুধবার রাতে কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। পরে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনকে আদালতে পাঠানো হয়।

এ ছাড়া শনিবার রাতের অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪৬ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিভিন্ন অভিযোগে ১০৮ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম নিখোঁজ হন। পরদিন দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশের লালমাই শালবন এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই হত্যাকাণ্ডে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), মো. কামরুল হাসান (১৬) ও মো. সিয়াম (১৯) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে সিয়াম ছাড়া অন্য তিনজন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর কুমিল্লায় বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর এসব গ্যাংয়ের সদস্যদের আটক করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

পুলিশের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, কুমিল্লা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:২৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫১৩ Time View

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরও ৪১৫ জন আটক

আপডেটের সময় : ০৪:২৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানে আরও ৪১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানার পুলিশ ইউনিট ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ একযোগে এ অভিযান চালায়।

রাত দেড়টার দিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান ক্ষুদে বার্তায় সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ জেলার প্রতিটি থানার আওতাধীন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। বিশেষ করে কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে-এমন স্থানগুলোকে অভিযানের আওতায় নেওয়া হয়। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অভিযানে সরাসরি অংশ নেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, অভিযানে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত বুধবার রাতে কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। পরে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনকে আদালতে পাঠানো হয়।

এ ছাড়া শনিবার রাতের অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪৬ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিভিন্ন অভিযোগে ১০৮ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম নিখোঁজ হন। পরদিন দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশের লালমাই শালবন এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই হত্যাকাণ্ডে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), মো. কামরুল হাসান (১৬) ও মো. সিয়াম (১৯) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে সিয়াম ছাড়া অন্য তিনজন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর কুমিল্লায় বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর এসব গ্যাংয়ের সদস্যদের আটক করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

পুলিশের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, কুমিল্লা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।