ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রী নিহতের পর আইআইইউসি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ, ১০ কিমি যানজট

সাংবাদিক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় উল্টে যাওয়া মিনিবাসের নিচে চাপা পড়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক ছাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও পথচারী-সেতু নির্মাণের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পাশের রেললাইনে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন ছাত্রী।

দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুটি লরি প্রতিযোগিতা করে চলছিল। এ সময় একটি লরি সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিনিবাসকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি কাত হয়ে উল্টে যায়। নিহত মাইশা সেটির নিচে চাপা পড়েন।

অবরোধে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফুল হক বলেন, দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তারা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পথচারী-সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদ ও পথচারী-সেতুর দাবিতে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক এলাকায় মিনিবাস থেকে ওই ছাত্রী নামেন। এর কিছুক্ষণ পর মিনিবাসটি তার ওপর উল্টে পড়ে। একই ঘটনায় বাসটির নিচে চাপা পড়ে আরও তিনজন আহত হন।

তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন লরি দুটি আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লরি দুটি ও মিনিবাসটি উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নিয়ে আসে। পরে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা মুনির চৌধুরী জানান, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বাস থেকে নামার সময় দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। আরেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বিষয়টি দেখভাল করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৩:২৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
৫০৩ Time View

ছাত্রী নিহতের পর আইআইইউসি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ, ১০ কিমি যানজট

আপডেটের সময় : ০৩:২৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় উল্টে যাওয়া মিনিবাসের নিচে চাপা পড়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক ছাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও পথচারী-সেতু নির্মাণের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পাশের রেললাইনে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন ছাত্রী।

দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুটি লরি প্রতিযোগিতা করে চলছিল। এ সময় একটি লরি সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিনিবাসকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি কাত হয়ে উল্টে যায়। নিহত মাইশা সেটির নিচে চাপা পড়েন।

অবরোধে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফুল হক বলেন, দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তারা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পথচারী-সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদ ও পথচারী-সেতুর দাবিতে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক এলাকায় মিনিবাস থেকে ওই ছাত্রী নামেন। এর কিছুক্ষণ পর মিনিবাসটি তার ওপর উল্টে পড়ে। একই ঘটনায় বাসটির নিচে চাপা পড়ে আরও তিনজন আহত হন।

তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন লরি দুটি আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লরি দুটি ও মিনিবাসটি উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নিয়ে আসে। পরে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা মুনির চৌধুরী জানান, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বাস থেকে নামার সময় দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। আরেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বিষয়টি দেখভাল করছেন।