ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সুনামগঞ্জে ১৫ কেজি গাঁজার চালান, নারীসহ গ্রেপ্তার ২ জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জনকারী দেশগুলোর তালিকা করেছে ইসরায়েল দিনভর ভোগান্তির পর সন্ধ্যায় এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ১০৯ কোটি ঘনফুট অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়াল ব্রাজিল চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভেরিফিকেশনে বাদ, প্রতিবাদ জামায়াতের মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি, ১২ নির্দেশনা মাদারীপুরে দুই বাসের সংঘর্ষে ৩ প্রাণহানি, আহত অন্তত ২৫ মালয়েশিয়ার কাছে হারে আসিয়ান কাপ শুরু বাংলাদেশের সিংগাইরে রাতের আধারে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ

দিনভর ভোগান্তির পর সন্ধ্যায় এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ১০৯ কোটি ঘনফুট

সাংবাদিক

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার কমে যাওয়া এলএনজি সরবরাহ আজ শুক্রবার দ্রুত বেড়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় এলএনজি থেকে ৬৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলেও আজ রাত ৮টায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৯ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে সরবরাহ বেড়েছে ৪০ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। তবে সরবরাহ বাড়ার সুফল রাজধানীতে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছেনি।

শুক্রবার দিনভর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন আবাসিক গ্রাহক ও সিএনজিচালকরা।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, আজ রাত ৮টায় জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৬৯ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে ১৬০ কোটি ২০ লাখ এবং এলএনজি থেকে ১০৯ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট পাওয়া যায়। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় মোট সরবরাহ ছিল ২৩০ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট।

গতকাল মহেশখালীতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত এলএনজি কার্গো থেকে ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর ব্যাহত হয়। এতে এলএনজি সরবরাহ নেমে যায় ৬৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুটে। এর আগের কয়েক দিন সরবরাহ ছিল প্রায় ৯৯ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট।

আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে আজ সকাল সাড়ে ৭টায় সামিটের টার্মিনালে ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ কার্গো থেকে জাহাজ-থেকে-জাহাজ পদ্ধতিতে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা এই কার্গোটি টোটালএনার্জিসের কাছ থেকে স্পট ক্রয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।

দুপুর ২টায় এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ৯১ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুটে দাঁড়ায়। এ সময় জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ ছিল ২৫২ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় ১৬০ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট।

এরমধ্যে আজ বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এক্সিলারেটের টার্মিনালেও ‘ফেরোল নুটসেন’ কার্গো থেকে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা এই কার্গোটি অ্যারামকো সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে স্পট ক্রয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।

এতে রাত ৮টায় এলএনজি সরবরাহ ১০৯ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে পৌঁছে। দুপুর ২টার তুলনায় ছয় ঘণ্টায় সরবরাহ বেড়েছে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট। একই সময়ে মোট সরবরাহ বেড়ে দাঁড়ায় ২৬৯ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট।

সরবরাহ বাড়লেও আজ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম ছিল। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় সকালে চুলায় গ্যাসের আঁচ পাওয়া যায়নি বা খুব কম ছিল। অনেকে বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন ও সিলিন্ডার ব্যবহার করেন।

মগবাজারের বাসিন্দা রাহেলা খাতুন বলেন, ‘ছুটির দিন বলে একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠে দেখি চুলায় গ্যাস নেই। পরে রাইস কুকারে ভাত আর আলু চড়িয়ে সকালের খাবারের ব্যবস্থা করি। দুপুরেও চুলা জ্বলেনি। পরে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে আনতে হয়েছে।’

সিএনজি স্টেশনগুলোতেও ছিল দীর্ঘ সারি। রাজধানীর সাতরাস্তার মোড়ের সিএনজি স্টেশনে আজ দুপুরে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কম চাপের কারণে একটি গাড়িতে গ্যাস দিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগছিল।

আকবর হোসেন নামে এক চালক বলেন, ‘তিনটি স্টেশন ঘুরে এখানে গ্যাস নিতে এসেছি। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে লাইনে আছি। সামনে আরও ২০টি গাড়ি।’

মহেশখালী থেকে বাড়তি গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ঢোকার পর তা ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে সময় লাগে। ফলে সরবরাহ বাড়লেও রাজধানীতে এর প্রভাব পড়তে সময় হয়েছে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি শুরু হয়।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ থেকে ৪০০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে প্রায় ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। ফলে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি আগে থেকেই রয়েছে। এলএনজি সরবরাহে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটলে সেই ঘাটতি আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:২৯:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫১৬ Time View

দিনভর ভোগান্তির পর সন্ধ্যায় এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ১০৯ কোটি ঘনফুট

আপডেটের সময় : ০৪:২৯:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার কমে যাওয়া এলএনজি সরবরাহ আজ শুক্রবার দ্রুত বেড়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় এলএনজি থেকে ৬৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলেও আজ রাত ৮টায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৯ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে সরবরাহ বেড়েছে ৪০ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। তবে সরবরাহ বাড়ার সুফল রাজধানীতে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছেনি।

শুক্রবার দিনভর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন আবাসিক গ্রাহক ও সিএনজিচালকরা।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, আজ রাত ৮টায় জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৬৯ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে ১৬০ কোটি ২০ লাখ এবং এলএনজি থেকে ১০৯ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট পাওয়া যায়। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় মোট সরবরাহ ছিল ২৩০ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট।

গতকাল মহেশখালীতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত এলএনজি কার্গো থেকে ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর ব্যাহত হয়। এতে এলএনজি সরবরাহ নেমে যায় ৬৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুটে। এর আগের কয়েক দিন সরবরাহ ছিল প্রায় ৯৯ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট।

আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে আজ সকাল সাড়ে ৭টায় সামিটের টার্মিনালে ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ কার্গো থেকে জাহাজ-থেকে-জাহাজ পদ্ধতিতে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা এই কার্গোটি টোটালএনার্জিসের কাছ থেকে স্পট ক্রয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।

দুপুর ২টায় এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ৯১ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুটে দাঁড়ায়। এ সময় জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ ছিল ২৫২ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় ১৬০ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট।

এরমধ্যে আজ বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এক্সিলারেটের টার্মিনালেও ‘ফেরোল নুটসেন’ কার্গো থেকে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা এই কার্গোটি অ্যারামকো সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে স্পট ক্রয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।

এতে রাত ৮টায় এলএনজি সরবরাহ ১০৯ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে পৌঁছে। দুপুর ২টার তুলনায় ছয় ঘণ্টায় সরবরাহ বেড়েছে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট। একই সময়ে মোট সরবরাহ বেড়ে দাঁড়ায় ২৬৯ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট।

সরবরাহ বাড়লেও আজ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম ছিল। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় সকালে চুলায় গ্যাসের আঁচ পাওয়া যায়নি বা খুব কম ছিল। অনেকে বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন ও সিলিন্ডার ব্যবহার করেন।

মগবাজারের বাসিন্দা রাহেলা খাতুন বলেন, ‘ছুটির দিন বলে একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠে দেখি চুলায় গ্যাস নেই। পরে রাইস কুকারে ভাত আর আলু চড়িয়ে সকালের খাবারের ব্যবস্থা করি। দুপুরেও চুলা জ্বলেনি। পরে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে আনতে হয়েছে।’

সিএনজি স্টেশনগুলোতেও ছিল দীর্ঘ সারি। রাজধানীর সাতরাস্তার মোড়ের সিএনজি স্টেশনে আজ দুপুরে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কম চাপের কারণে একটি গাড়িতে গ্যাস দিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগছিল।

আকবর হোসেন নামে এক চালক বলেন, ‘তিনটি স্টেশন ঘুরে এখানে গ্যাস নিতে এসেছি। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে লাইনে আছি। সামনে আরও ২০টি গাড়ি।’

মহেশখালী থেকে বাড়তি গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ঢোকার পর তা ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে সময় লাগে। ফলে সরবরাহ বাড়লেও রাজধানীতে এর প্রভাব পড়তে সময় হয়েছে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি শুরু হয়।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ থেকে ৪০০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে প্রায় ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। ফলে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি আগে থেকেই রয়েছে। এলএনজি সরবরাহে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটলে সেই ঘাটতি আরও প্রকট হয়ে ওঠে।