ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নীতিমালার আওতায় অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে: সড়কমন্ত্রী প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে আটকে থাকার পূর্বাভাস, জরুরি সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের অটোরিকশাচালকদের বিক্ষোভ, অবরোধ লিজেন্ডস টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াল পাকিস্তান জাতীয় দলের শেষ ম্যাচের আগে মেসির হৃদয়ছোঁয়া বার্তা কানাডায় উচ্চশিক্ষায় নারীদের অগ্রগতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ৭১ শতাংশ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাথালিয়া ইউনিয়নে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসংস্থানের দাবিতে রাতভর অবস্থান, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটরা হঠাৎ বন্ধ ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা, জানেই না বাংলাদেশ ব্যাংক ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা

প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে আটকে থাকার পূর্বাভাস, জরুরি সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের

সাংবাদিক

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। জ্বালানি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং কম রাজস্ব আহরণে ২০২৩ সাল থেকে প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে আছে। আজ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এ বিশ্বব্যাংক এ কথা জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বিনিয়োগ কমেছে, রপ্তানি গতি হারিয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, বেড়েছে ব্যবসার খরচ। তবে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ উন্নত হওয়ায় বাহ্যিক খাত স্থিতিশীল ছিল। জ্বালানি সরবরাহ ধীরে ধীরে সহজ হলে এবং সংস্কার গতি পেলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যে পড়েছে। কর্মসংস্থান থমকে গেছে, নারীরা চাকরি হারিয়েছেন। খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জিডিপির ৮ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব আহরণ বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর একটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে ব্যাংকিং, রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার দরকার। দরিদ্রদের সুরক্ষা ও ভালো কর্মসংস্থানের জন্য এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষিতে ভর্তুকি থাকলেও সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক কোনো সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই। প্রতিবেদনে ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি বাস্তবায়নকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একীভূত করা এবং ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে নগদ সহায়তা কর্মসূচির উন্নত লক্ষ্যনির্ধারণ যুক্ত করলে আরও ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে তোলা সম্ভব।

একই দিন প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ, আর ২০২৭ সালে তা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হবে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, এআই মূল্য শৃঙ্খলার সুযোগ কাজে লাগাতে দক্ষতা, অবকাঠামো ও সহায়ক পরিবেশে বিনিয়োগ করতে হবে।

এশিয়াবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসর্গে বলেন, এআই শ্রম উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে পারে, তবে এজন্য মৌলিক ঘাটতিগুলো দূর করতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০১:৫২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
৫০৩ Time View

প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে আটকে থাকার পূর্বাভাস, জরুরি সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের

আপডেটের সময় : ০১:৫২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। জ্বালানি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং কম রাজস্ব আহরণে ২০২৩ সাল থেকে প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে আছে। আজ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এ বিশ্বব্যাংক এ কথা জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বিনিয়োগ কমেছে, রপ্তানি গতি হারিয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, বেড়েছে ব্যবসার খরচ। তবে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ উন্নত হওয়ায় বাহ্যিক খাত স্থিতিশীল ছিল। জ্বালানি সরবরাহ ধীরে ধীরে সহজ হলে এবং সংস্কার গতি পেলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যে পড়েছে। কর্মসংস্থান থমকে গেছে, নারীরা চাকরি হারিয়েছেন। খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জিডিপির ৮ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব আহরণ বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর একটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে ব্যাংকিং, রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার দরকার। দরিদ্রদের সুরক্ষা ও ভালো কর্মসংস্থানের জন্য এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষিতে ভর্তুকি থাকলেও সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক কোনো সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই। প্রতিবেদনে ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি বাস্তবায়নকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একীভূত করা এবং ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে নগদ সহায়তা কর্মসূচির উন্নত লক্ষ্যনির্ধারণ যুক্ত করলে আরও ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে তোলা সম্ভব।

একই দিন প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ, আর ২০২৭ সালে তা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হবে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, এআই মূল্য শৃঙ্খলার সুযোগ কাজে লাগাতে দক্ষতা, অবকাঠামো ও সহায়ক পরিবেশে বিনিয়োগ করতে হবে।

এশিয়াবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসর্গে বলেন, এআই শ্রম উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে পারে, তবে এজন্য মৌলিক ঘাটতিগুলো দূর করতে হবে।