ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘লার্ন অ্যান্ড গ্রো’-এর রোবটিক্স কর্মশালা অনুষ্ঠিত সফলভাবে সম্পন্ন হলো “Study & Career Opportunities in Japan” শীর্ষক সেমিনার সময় টিভি দখলে ‘মাস্টারপ্ল্যান’: নেপথ্যে সিআরআই সিন্ডিকেট, গুলশান কার্যালয় উত্তাল! বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএইর নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি মামুনুর রশীদ, সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল শাহীন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয় আর কোনো স্বৈরাচার যেন পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে বিআইএমএএসসি ও প্যান সলিউশনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন ৪১৩ রানে প্রথম ইনিংস থামল বাংলাদেশের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি

ফের রাজপথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

সাংবাদিক

রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে রাজপথে ফের সোচ্চার হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শনিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় সংগঠনটি শাহবাগ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত মশাল মিছিল করে।

শাহবাগ মোড় থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ছাত্রনেতারা চাঁদাবাজি, দখলদারি ও হত্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, “মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটি ছাত্র রাজনীতিকে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার পৃষ্ঠপোষক বানানোর রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। বিএনপি বা যেই হোক—যদি সন্ত্রাসের প্রশ্রয় দেয়, তারও প্রতিরোধ হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “যুবদল নেতা কর্তৃক একজন ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলেও ঘটনার ভিডিও মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় প্রকাশ পায়নি। ফলে প্রমাণ হয়, গণমাধ্যম একটি রাজনৈতিক পক্ষকে সুবিধা দিচ্ছে।”

সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে—এই দেশের ছাত্র ও জনতা অন্যায় ও দখলবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। এখন আবার সেই ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তাকে রড, ইট ও পাথর দিয়ে আঘাত করে মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়, পরে বিবস্ত্র করে শরীরের ওপর লাফিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িত চারজনকে বহিষ্কার করেছে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
৮০৪ Time View

ফের রাজপথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

আপডেটের সময় : ০৪:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে রাজপথে ফের সোচ্চার হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শনিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় সংগঠনটি শাহবাগ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত মশাল মিছিল করে।

শাহবাগ মোড় থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ছাত্রনেতারা চাঁদাবাজি, দখলদারি ও হত্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, “মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটি ছাত্র রাজনীতিকে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার পৃষ্ঠপোষক বানানোর রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। বিএনপি বা যেই হোক—যদি সন্ত্রাসের প্রশ্রয় দেয়, তারও প্রতিরোধ হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “যুবদল নেতা কর্তৃক একজন ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলেও ঘটনার ভিডিও মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় প্রকাশ পায়নি। ফলে প্রমাণ হয়, গণমাধ্যম একটি রাজনৈতিক পক্ষকে সুবিধা দিচ্ছে।”

সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে—এই দেশের ছাত্র ও জনতা অন্যায় ও দখলবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। এখন আবার সেই ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তাকে রড, ইট ও পাথর দিয়ে আঘাত করে মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়, পরে বিবস্ত্র করে শরীরের ওপর লাফিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িত চারজনকে বহিষ্কার করেছে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল।