ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস চীনের দুর্নীতিতে শীর্ষে পাসপোর্ট অফিস, দ্বিতীয় বিআরটিএ যাকাতভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থার অনন্য দৃষ্টান্ত: ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন এর জীবিকা চাঁদপুর প্রকল্পের ৫ম পর্যায়ের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আজ এসিল্যান্ডসহ কোনো কর্মীর ‘দেখা পাননি’ সচিব, ৮ জনকে শোকজ হিউম্যান রাইটস এলাইভ বরিশাল জেলা শাখার উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জিয়ানগরে উপজেলার নাম পরিবর্তন না করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ আশুলিয়ায় গভীররাতে দোকানসহ বাসাবাড়িতে আগুন সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

ফের রাজপথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

সাংবাদিক

রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে রাজপথে ফের সোচ্চার হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শনিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় সংগঠনটি শাহবাগ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত মশাল মিছিল করে।

শাহবাগ মোড় থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ছাত্রনেতারা চাঁদাবাজি, দখলদারি ও হত্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, “মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটি ছাত্র রাজনীতিকে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার পৃষ্ঠপোষক বানানোর রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। বিএনপি বা যেই হোক—যদি সন্ত্রাসের প্রশ্রয় দেয়, তারও প্রতিরোধ হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “যুবদল নেতা কর্তৃক একজন ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলেও ঘটনার ভিডিও মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় প্রকাশ পায়নি। ফলে প্রমাণ হয়, গণমাধ্যম একটি রাজনৈতিক পক্ষকে সুবিধা দিচ্ছে।”

সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে—এই দেশের ছাত্র ও জনতা অন্যায় ও দখলবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। এখন আবার সেই ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তাকে রড, ইট ও পাথর দিয়ে আঘাত করে মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়, পরে বিবস্ত্র করে শরীরের ওপর লাফিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িত চারজনকে বহিষ্কার করেছে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
৮৩৯ Time View

ফের রাজপথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

আপডেটের সময় : ০৪:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে রাজপথে ফের সোচ্চার হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শনিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় সংগঠনটি শাহবাগ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত মশাল মিছিল করে।

শাহবাগ মোড় থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ছাত্রনেতারা চাঁদাবাজি, দখলদারি ও হত্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, “মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটি ছাত্র রাজনীতিকে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার পৃষ্ঠপোষক বানানোর রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। বিএনপি বা যেই হোক—যদি সন্ত্রাসের প্রশ্রয় দেয়, তারও প্রতিরোধ হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “যুবদল নেতা কর্তৃক একজন ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলেও ঘটনার ভিডিও মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় প্রকাশ পায়নি। ফলে প্রমাণ হয়, গণমাধ্যম একটি রাজনৈতিক পক্ষকে সুবিধা দিচ্ছে।”

সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে—এই দেশের ছাত্র ও জনতা অন্যায় ও দখলবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। এখন আবার সেই ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তাকে রড, ইট ও পাথর দিয়ে আঘাত করে মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়, পরে বিবস্ত্র করে শরীরের ওপর লাফিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িত চারজনকে বহিষ্কার করেছে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল।