ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ধানমন্ডিতে আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান, আটক ৪০ মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার টানা ২ দফা বাড়ার পর দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম আসছে পুলিশের নতুন ইউনিট, শাখা থাকবে যেসব এলাকায় দুর্গাপূজায় ৫ দিনের ছুটি স্কুল-কলেজে, সাপ্তাহিক ছুটিতে হচ্ছে ৭ দিন চুক্তি করে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের আ.লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার নেবে: যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক যুক্তরাষ্ট্র সব শর্ত মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় নয়: ইরান

বহিষ্কার, পুনর্বহাল; ফের বিতর্কে কোটালীপাড়ার যুবদলের দুই নেতা

সাংবাদিক

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার, পরে পুনর্বহাল—এরপর আবারও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন মোল্লার বিরুদ্ধে। এবার একই ঘটনায় নাম এসেছে ইউনিয়ন যুবদলের প্রস্তাবিত দপ্তর সম্পাদক নাজমুল মোল্লারও।

সরকারি খালে বাঁধ নির্মাণ এবং ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক যুবককে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন ইউনিয়ন যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী।

স্থানীয় যুবদলের একাধিক সূত্র জানায়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি সুজন মোল্লাকে বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ৪ এপ্রিল সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে পুনর্বহাল করা হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পুনর্বহালের পর এলাকায় তাঁর প্রভাব আরও বেড়ে যায়। এরপরই নতুন করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাঁর নাম জড়াতে শুরু করে। সম্প্রতি সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে বান্ধাবাড়ী ইউনিয়নের তুলাতলা এলাকার একটি সরকারি খালে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, খালের একটি অংশে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি খালের জায়গা এভাবে আটকে দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়ভাবে সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। তবে খালে বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে সুজন মোল্লা বলেন, “খালের সঙ্গে আমাদের প্রায় ২০ বিঘা জমি রয়েছে। জমিগুলো পতিত থাকে। অন্যদিকে খালটিও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। যে কারণে বাঁধ দিয়ে পুরো জায়গাটি মাছ চাষের আওতায় আনতে চাচ্ছি। তবে সরকারি জায়গা এভাবে আটকানোটা ঠিক হয়নি।” এদিকে রিফাত বিশ্বাস নামে এক যুবককে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আটকে রেখে টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে। বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের কয়েকজন নেতার দাবি, রিফাতকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে তাঁর পরিবারের কাছে ৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলেও তাঁদের দাবি।

এ ঘটনার মধ্যস্থতাকারী বাচ্চু হাওলাদার বলেন, “রাত ১০টার দিকে রিফাতের বাবা আমাকে জানান, তাঁর ছেলেকে নাকি ডিবি পুলিশ আটক করেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি কোন ডিবি পুলিশ না সুজন মোল্লাসহ কয়েকজন ছেলেটাকে আটকে রেখেছে। পরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে রিফাতকে ছাড়িয়ে দিই। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় পরে ওই টাকা রিফাতের পরিবারের হাতে পৌঁছে দিই।” তবে ডিবি পুলিশ পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লা। তাঁদের দাবি, মাদকসহ রিফাতকে আটক করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতার অভিযোগ, ব্যক্তিবিশেষের এমন কর্মকাণ্ডের প্রভাব পুরো সংগঠনের ভাবমূর্তিতে পড়ছে। তাঁদের দাবি, সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি উপজেলা পর্যায়ের সিনিয়র নেতাদের জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মান্নান শেখ বলেন, “সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো দলীয় ফোরামে আলোচনা করা হবে। আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১১:২৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৫ Time View

বহিষ্কার, পুনর্বহাল; ফের বিতর্কে কোটালীপাড়ার যুবদলের দুই নেতা

আপডেটের সময় : ১১:২৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার, পরে পুনর্বহাল—এরপর আবারও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন মোল্লার বিরুদ্ধে। এবার একই ঘটনায় নাম এসেছে ইউনিয়ন যুবদলের প্রস্তাবিত দপ্তর সম্পাদক নাজমুল মোল্লারও।

সরকারি খালে বাঁধ নির্মাণ এবং ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক যুবককে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন ইউনিয়ন যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী।

স্থানীয় যুবদলের একাধিক সূত্র জানায়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি সুজন মোল্লাকে বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ৪ এপ্রিল সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে পুনর্বহাল করা হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পুনর্বহালের পর এলাকায় তাঁর প্রভাব আরও বেড়ে যায়। এরপরই নতুন করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাঁর নাম জড়াতে শুরু করে। সম্প্রতি সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে বান্ধাবাড়ী ইউনিয়নের তুলাতলা এলাকার একটি সরকারি খালে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, খালের একটি অংশে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি খালের জায়গা এভাবে আটকে দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়ভাবে সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। তবে খালে বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে সুজন মোল্লা বলেন, “খালের সঙ্গে আমাদের প্রায় ২০ বিঘা জমি রয়েছে। জমিগুলো পতিত থাকে। অন্যদিকে খালটিও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। যে কারণে বাঁধ দিয়ে পুরো জায়গাটি মাছ চাষের আওতায় আনতে চাচ্ছি। তবে সরকারি জায়গা এভাবে আটকানোটা ঠিক হয়নি।” এদিকে রিফাত বিশ্বাস নামে এক যুবককে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আটকে রেখে টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে। বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের কয়েকজন নেতার দাবি, রিফাতকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে তাঁর পরিবারের কাছে ৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলেও তাঁদের দাবি।

এ ঘটনার মধ্যস্থতাকারী বাচ্চু হাওলাদার বলেন, “রাত ১০টার দিকে রিফাতের বাবা আমাকে জানান, তাঁর ছেলেকে নাকি ডিবি পুলিশ আটক করেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি কোন ডিবি পুলিশ না সুজন মোল্লাসহ কয়েকজন ছেলেটাকে আটকে রেখেছে। পরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে রিফাতকে ছাড়িয়ে দিই। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় পরে ওই টাকা রিফাতের পরিবারের হাতে পৌঁছে দিই।” তবে ডিবি পুলিশ পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লা। তাঁদের দাবি, মাদকসহ রিফাতকে আটক করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতার অভিযোগ, ব্যক্তিবিশেষের এমন কর্মকাণ্ডের প্রভাব পুরো সংগঠনের ভাবমূর্তিতে পড়ছে। তাঁদের দাবি, সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি উপজেলা পর্যায়ের সিনিয়র নেতাদের জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মান্নান শেখ বলেন, “সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো দলীয় ফোরামে আলোচনা করা হবে। আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”