ঢাকা , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

বিদেশি ঋণ ছাড়ের আড়াই গুণ পরিশোধ

সাংবাদিক

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে গত তিন অর্থবছর গড়ে ৮০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়া গেছে। দায় পরিশোধ হয়েছে বছরে গড়ে ৪০০ কোটি ডলারের মতো। বাজেটে চলতি অর্থবছর উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় ৯০০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ প্রাক্কলন করা হয়েছে। তবে প্রাক্কলন অনুযায়ী ঋণের অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে কিছু মেগা প্রকল্পসহ অনেক প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় উন্নয়ন বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ বাড়ছেই।

এই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস গত জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে যে পরিমাণ ঋণ পাওয়া গেছে, তার চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও বাড়ায়নি উন্নয়ন সহযোগীরা। অর্থাৎ প্রত্যাশিত পরিমাণে অর্থছাড় পাওয়া যাচ্ছে না।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছর বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল বাবদ ৪৪৯ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। দেশের মুদ্রায় পরিশোধের পরিমাণ ৫৪ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ছিল ৪০৮ কোটি ডলার বা ৪৯ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৪১ কোটি ডলার বা ছয় হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় ও নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দুই ক্ষেত্রেই মন্দাবস্থা দেখা গেছে। অন্যদিকে আগের নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে মোট বৈদেশিক ঋণ-অনুদান ছাড় হয়েছে প্রায় ২৯ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এই অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৫ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এই দুই মাসে ছাড় হওয়া অর্থের মধ্যে অনুদান হিসেবে এসেছে প্রায় ৩৩ লাখ ডলার এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে এসেছে প্রায় ২৯ কোটি ১৩ লাখ ডলার। খাদ্য সহায়তা খাতে এ সময়ে কোনো অর্থছাড় হয়নি।

প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রেও বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। গত দুই মাসে মোট ২৪ কোটি তিন লাখ ৯০ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অনুদান ৯ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং প্রকল্প ঋণ ১৪ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে মোট প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার।

ইআরডির প্রতিবেদন বলছে, অর্থছাড় ও নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমলেও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। জুলাই ও আগস্টে মোট ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। দেশের মুদ্রায় এর পরিমাণ আট হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ করা হয়েছিল ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার বা আট হাজার ১৩১ কোটি টাকা।

গত দুই মাসে পরিশোধ করা অর্থের মধ্যে মূল ঋণ বাবদ ছিল ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা প্রায় ছয় হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা। আর সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা প্রায় দুই হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে ইআরডির বৈদেশিক সাহায্যের বাজেট ও হিসাব বিভাগের (ফাবা) একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ছোট-বড় অনেক প্রকল্পে নেওয়া ঋণের সুদাসলসহ কিস্তি শুরু হওয়া ছাড়াও স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের শেষ পর্যায়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য ঋণের সুদের হার বাড়িয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা। অন্যদিকে বাজার চাহিদা অনুযায়ী বিনিময় হার নমনীয় করা হয়েছে। এতে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা কমে আসে। এসব কারণে বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধে অর্থনীতিতে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। পুরোনো ঋণের কিস্তি যে হারে পরিশোধ করা হচ্ছে, সে হারে ঋণের অর্থছাড় পাওয়া যাচ্ছে না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৫:৩৪:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৫ Time View

বিদেশি ঋণ ছাড়ের আড়াই গুণ পরিশোধ

আপডেটের সময় : ০৫:৩৪:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে গত তিন অর্থবছর গড়ে ৮০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়া গেছে। দায় পরিশোধ হয়েছে বছরে গড়ে ৪০০ কোটি ডলারের মতো। বাজেটে চলতি অর্থবছর উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় ৯০০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ প্রাক্কলন করা হয়েছে। তবে প্রাক্কলন অনুযায়ী ঋণের অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে কিছু মেগা প্রকল্পসহ অনেক প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় উন্নয়ন বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ বাড়ছেই।

এই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস গত জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে যে পরিমাণ ঋণ পাওয়া গেছে, তার চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও বাড়ায়নি উন্নয়ন সহযোগীরা। অর্থাৎ প্রত্যাশিত পরিমাণে অর্থছাড় পাওয়া যাচ্ছে না।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছর বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল বাবদ ৪৪৯ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। দেশের মুদ্রায় পরিশোধের পরিমাণ ৫৪ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ছিল ৪০৮ কোটি ডলার বা ৪৯ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৪১ কোটি ডলার বা ছয় হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় ও নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দুই ক্ষেত্রেই মন্দাবস্থা দেখা গেছে। অন্যদিকে আগের নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে মোট বৈদেশিক ঋণ-অনুদান ছাড় হয়েছে প্রায় ২৯ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এই অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৫ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এই দুই মাসে ছাড় হওয়া অর্থের মধ্যে অনুদান হিসেবে এসেছে প্রায় ৩৩ লাখ ডলার এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে এসেছে প্রায় ২৯ কোটি ১৩ লাখ ডলার। খাদ্য সহায়তা খাতে এ সময়ে কোনো অর্থছাড় হয়নি।

প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রেও বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। গত দুই মাসে মোট ২৪ কোটি তিন লাখ ৯০ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অনুদান ৯ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং প্রকল্প ঋণ ১৪ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে মোট প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার।

ইআরডির প্রতিবেদন বলছে, অর্থছাড় ও নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমলেও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। জুলাই ও আগস্টে মোট ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। দেশের মুদ্রায় এর পরিমাণ আট হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ করা হয়েছিল ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার বা আট হাজার ১৩১ কোটি টাকা।

গত দুই মাসে পরিশোধ করা অর্থের মধ্যে মূল ঋণ বাবদ ছিল ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা প্রায় ছয় হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা। আর সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা প্রায় দুই হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে ইআরডির বৈদেশিক সাহায্যের বাজেট ও হিসাব বিভাগের (ফাবা) একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ছোট-বড় অনেক প্রকল্পে নেওয়া ঋণের সুদাসলসহ কিস্তি শুরু হওয়া ছাড়াও স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের শেষ পর্যায়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য ঋণের সুদের হার বাড়িয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা। অন্যদিকে বাজার চাহিদা অনুযায়ী বিনিময় হার নমনীয় করা হয়েছে। এতে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা কমে আসে। এসব কারণে বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধে অর্থনীতিতে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। পুরোনো ঋণের কিস্তি যে হারে পরিশোধ করা হচ্ছে, সে হারে ঋণের অর্থছাড় পাওয়া যাচ্ছে না।