ঢাকা , শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ছয় মাসে ৫০ শয্যার হাসপাতাল হবে ১০০ শয্যার, সব উপজেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফরিদগঞ্জে যুব সমাজের উদ্যোগে শহীদ জিয়া স্মৃতি  ফুটবল  টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত কুমিল্লার পাঁচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা জামায়াতে ইসলামীর প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস চীনের দুর্নীতিতে শীর্ষে পাসপোর্ট অফিস, দ্বিতীয় বিআরটিএ যাকাতভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থার অনন্য দৃষ্টান্ত: ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন এর জীবিকা চাঁদপুর প্রকল্পের ৫ম পর্যায়ের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আজ এসিল্যান্ডসহ কোনো কর্মীর ‘দেখা পাননি’ সচিব, ৮ জনকে শোকজ

মিরপুরে মধ্যরাতে কবরস্থানের নামফলক চুরি: মরদেহের কঙ্কাল কতটুকু নিরাপদ?

সাংবাদিক

 

রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে গভীর রাতে একের পর এক কবরের নামফলক (নেমপ্লেট) চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকুও যখন এভাবে গায়েব হয়ে যাচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্বজনদের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—যেখানে মৃত মানুষের নামফলক নিরাপদ নয়, সেখানে মাটির নিচে তাদের কঙ্কাল ও মরদেহ কতটুকু নিরাপদ?

​রাতের আঁধারে তামার ও পাথরের নামফলক উধাও
​অভিযোগ উঠেছে, কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার পরও একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র গভীর রাতে এই অপকর্ম চালাচ্ছে। মূলত পিতল, তামা বা দামি পাথরের তৈরি নামফলকগুলো টার্গেট করা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ভাঙাড়ি দোকানে বা কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
​সকালে কবরস্থানে জিয়ারত করতে এসে অনেক স্বজনই দেখছেন তাদের প্রিয়জনের কবরের নামফলকটি উপড়ে ফেলা হয়েছে। এতে করে অনেক সময় চেনা কবর খুঁজে পেতেও বেগ পেতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের।
​কঙ্কাল চুরির আতঙ্ক: কেন এই সংশয়?
​নামফলক চুরির এই ধারাবাহিকতা কবরস্থানের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের গলদকে সামনে এনেছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে:
​নিরাপত্তার অভাব: রাতের বেলা বিশাল এই কবরস্থানে পর্যাপ্ত আলো ও নৈশপ্রহরীর অভাব রয়েছে।
​চক্রের সক্রিয়তা: সিসিটিভি ক্যামেরা ফাঁকি দিয়ে যেভাবে একের পর এক চুরি হচ্ছে, তাতে নিরাপত্তারক্ষী বা ভেতরের কারও যোগসাজশ থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
​অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা: দেশের বিভিন্ন স্থানে অতীতে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরির ঘটনার নজির রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী বা অসাধু চক্রের কাছে কঙ্কালের চড়া দাম থাকায় মিরপুরের এই চুরির ঘটনাকে কঙ্কাল চুরির “পূর্বাভাস” হিসেবে দেখছেন অনেকে।
​”বাবার কবরের নেমপ্লেটটা তামা দিয়ে বাঁধিয়ে দিয়েছিলাম। কদিন আগে এসে দেখি সেটা স্ক্রু দিয়ে খুলে নিয়ে গেছে। প্রশাসন যদি একটা নামফলক পাহারা দিতে না পারে, তবে রাতের আঁধারে ভেতর থেকে কঙ্কাল চুরি হয়ে গেলেও তো আমরা টের পাব না।”
— এক ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী স্বজন

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৫:৩১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
৬১৯ Time View

মিরপুরে মধ্যরাতে কবরস্থানের নামফলক চুরি: মরদেহের কঙ্কাল কতটুকু নিরাপদ?

আপডেটের সময় : ০৫:৩১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

 

রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে গভীর রাতে একের পর এক কবরের নামফলক (নেমপ্লেট) চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকুও যখন এভাবে গায়েব হয়ে যাচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্বজনদের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—যেখানে মৃত মানুষের নামফলক নিরাপদ নয়, সেখানে মাটির নিচে তাদের কঙ্কাল ও মরদেহ কতটুকু নিরাপদ?

​রাতের আঁধারে তামার ও পাথরের নামফলক উধাও
​অভিযোগ উঠেছে, কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার পরও একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র গভীর রাতে এই অপকর্ম চালাচ্ছে। মূলত পিতল, তামা বা দামি পাথরের তৈরি নামফলকগুলো টার্গেট করা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ভাঙাড়ি দোকানে বা কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
​সকালে কবরস্থানে জিয়ারত করতে এসে অনেক স্বজনই দেখছেন তাদের প্রিয়জনের কবরের নামফলকটি উপড়ে ফেলা হয়েছে। এতে করে অনেক সময় চেনা কবর খুঁজে পেতেও বেগ পেতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের।
​কঙ্কাল চুরির আতঙ্ক: কেন এই সংশয়?
​নামফলক চুরির এই ধারাবাহিকতা কবরস্থানের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের গলদকে সামনে এনেছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে:
​নিরাপত্তার অভাব: রাতের বেলা বিশাল এই কবরস্থানে পর্যাপ্ত আলো ও নৈশপ্রহরীর অভাব রয়েছে।
​চক্রের সক্রিয়তা: সিসিটিভি ক্যামেরা ফাঁকি দিয়ে যেভাবে একের পর এক চুরি হচ্ছে, তাতে নিরাপত্তারক্ষী বা ভেতরের কারও যোগসাজশ থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
​অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা: দেশের বিভিন্ন স্থানে অতীতে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরির ঘটনার নজির রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী বা অসাধু চক্রের কাছে কঙ্কালের চড়া দাম থাকায় মিরপুরের এই চুরির ঘটনাকে কঙ্কাল চুরির “পূর্বাভাস” হিসেবে দেখছেন অনেকে।
​”বাবার কবরের নেমপ্লেটটা তামা দিয়ে বাঁধিয়ে দিয়েছিলাম। কদিন আগে এসে দেখি সেটা স্ক্রু দিয়ে খুলে নিয়ে গেছে। প্রশাসন যদি একটা নামফলক পাহারা দিতে না পারে, তবে রাতের আঁধারে ভেতর থেকে কঙ্কাল চুরি হয়ে গেলেও তো আমরা টের পাব না।”
— এক ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী স্বজন