ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার বিক্রি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন দিল একনেক হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু ৫১তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ১১ ডিসেম্বর এইচএসসি: ২ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ১ ডিসেম্বর ইরানে ফের হামলার পরিকল্পনা থেকে সরলেন ট্রাম্প ২০ বছর পর বাগেরহাটে যাচ্ছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা গাজীপুরে নিহত শ্রমিকের গায়েবানা জানাজা : সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ এনসিপি বড়দিন উপলক্ষে চাওয়া হয়েছিল ২ কোটি টাকা অনুদান, প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি ওয়াই আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার বিক্রি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সাংবাদিক

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে নিলাম প্রক্রিয়ায় আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি করলো বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘ সময় পর গত সপ্তাহে বিক্রি করা হয় আরও ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার। জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ার এ সময়ে বাজার ঠিক রাখতে ডলার বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বুধবারের নিলামে একটি ব্যাংক একক বিডে ন্যূনতম ৫ লাখ ডলার কেনার আবেদন করতে বলা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবারও ১০ কোটি ডলার বিক্রির জন্য নিলাম ডাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে অনেক ব্যাংক অংশ নিলেও শেষ সময়ে তা বাতিল করা হয়। কেন ওই নিলাম বাতিল করা হয়েছিল ব্যাংকগুলোকে তা জানানো হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগ পর্যন্ত তিন বছর রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করা হয়। যে কারণে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর পেরোনো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তবে ড. আহসান এইচ মনসুর গভর্নরের দায়িত্ব নিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন এক ডলারও বিক্রি করা হবে না। বর্তমান গভর্নর দায়িত্ব নিয়েও একই অবস্থান বজায় রাখেন। এতে করে রিজার্ভ বেড়ে গত ২৯ জুন ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। গত ১ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ উঠে ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে আবার কমে গত মঙ্গলবার ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ইসরাইলে ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। যে কারণে বুধবার বিশ্ববাজারে তেল ও ডলারের দর কমেছে। বাংলাদেশেও চলমান পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।

দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর গত কয়েকদিন ধরে ডলারের দর বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে আন্তঃব্যাংকে ১২৪ টাকা ছাড়িয়ে যায়। গত দুই দিন আন্তঃব্যাংকে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা। এর আগের দুই দিন বিক্রি হয় ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা। এর আগে গত অক্টোবরের শুরুতে ডলারের দর ১২৩ টাকা ছিল। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে শেষ কর্মদিবসে তা ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সা হয়। আওয়ামী লীগ পতনের পর থেকে দেড় বছর ধরে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দর ১২১ থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে স্থিতিশীল ছিল। চলতি বছরের মার্চের পর বাড়তে–বাড়তে এ পর্যায়ে এসেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১০:৫২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
৫০৯ Time View

রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার বিক্রি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেটের সময় : ১০:৫২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে নিলাম প্রক্রিয়ায় আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি করলো বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘ সময় পর গত সপ্তাহে বিক্রি করা হয় আরও ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার। জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ার এ সময়ে বাজার ঠিক রাখতে ডলার বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বুধবারের নিলামে একটি ব্যাংক একক বিডে ন্যূনতম ৫ লাখ ডলার কেনার আবেদন করতে বলা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবারও ১০ কোটি ডলার বিক্রির জন্য নিলাম ডাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে অনেক ব্যাংক অংশ নিলেও শেষ সময়ে তা বাতিল করা হয়। কেন ওই নিলাম বাতিল করা হয়েছিল ব্যাংকগুলোকে তা জানানো হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগ পর্যন্ত তিন বছর রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করা হয়। যে কারণে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর পেরোনো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তবে ড. আহসান এইচ মনসুর গভর্নরের দায়িত্ব নিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন এক ডলারও বিক্রি করা হবে না। বর্তমান গভর্নর দায়িত্ব নিয়েও একই অবস্থান বজায় রাখেন। এতে করে রিজার্ভ বেড়ে গত ২৯ জুন ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। গত ১ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ উঠে ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে আবার কমে গত মঙ্গলবার ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ইসরাইলে ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। যে কারণে বুধবার বিশ্ববাজারে তেল ও ডলারের দর কমেছে। বাংলাদেশেও চলমান পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।

দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর গত কয়েকদিন ধরে ডলারের দর বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে আন্তঃব্যাংকে ১২৪ টাকা ছাড়িয়ে যায়। গত দুই দিন আন্তঃব্যাংকে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা। এর আগের দুই দিন বিক্রি হয় ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা। এর আগে গত অক্টোবরের শুরুতে ডলারের দর ১২৩ টাকা ছিল। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে শেষ কর্মদিবসে তা ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সা হয়। আওয়ামী লীগ পতনের পর থেকে দেড় বছর ধরে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দর ১২১ থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে স্থিতিশীল ছিল। চলতি বছরের মার্চের পর বাড়তে–বাড়তে এ পর্যায়ে এসেছে।