ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন দিল একনেক হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু ৫১তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ১১ ডিসেম্বর এইচএসসি: ২ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ১ ডিসেম্বর ইরানে ফের হামলার পরিকল্পনা থেকে সরলেন ট্রাম্প ২০ বছর পর বাগেরহাটে যাচ্ছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা গাজীপুরে নিহত শ্রমিকের গায়েবানা জানাজা : সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ এনসিপি বড়দিন উপলক্ষে চাওয়া হয়েছিল ২ কোটি টাকা অনুদান, প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি ওয়াই আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের

সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা, বন্ধ হচ্ছে ইটভাটা

সাংবাদিক

বায়ুদূষণ গুরুতর আকার ধারণ করায় সরকার ঢাকা জেলার সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে টানেল ও হাইব্রিড হফম্যান কিলন ছাড়া ওই উপজেলায় সব ইটভাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এ তথ্য জানা‌নো হয়।

এতে বলা হয়, রবিবার পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রের মাধ্যমে এ ঘোষণা জারি করা হয়েছে। এটি বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫ অনুযায়ী করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে সাভার উপজেলায় টানেল ও হাইব্রিড হফম্যান কিলন ব্যতিত সকল ইটভাটা বন্ধ থাকবে। এছাড়া, উন্মুক্তভাবে কঠিন বর্জ্য পোড়ানো, নতুন বায়ুদূষণ সৃষ্টিকারী শিল্প কারখানার অবস্থানগত বা পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান, এবং অন্যান্য বায়ুদূষণজনিত কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির বর্ণনা বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাভারের বায়ুমানের বার্ষিক গড় মাত্রা জাতীয় নির্ধারিত মানমাত্রার প্রায় তিন গুণ বেশি। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে, উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত বায়ু সাভারের এই দূষণকে ঢাকায় নিয়ে আসে, যা রাজধানীর মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

সরকার আশা করছে, এই ঘোষণার ফলে সাভার ও ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিবর্তন আসবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ বলতে বোঝায় এমন একটি ভৌগোলিক এলাকা, যেখানে বাতাসের মান বা গুণমান জাতীয় নিরাপদ সীমার অনেক নিচে। বায়ুদূষণের মাত্রা এত বেশি যে জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই ধরনের এলাকায় সাধারণত শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদরোগ ও ফুসফুসের রোগ বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১২:৩২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫
১৩৭০ Time View

সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা, বন্ধ হচ্ছে ইটভাটা

আপডেটের সময় : ১২:৩২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫

বায়ুদূষণ গুরুতর আকার ধারণ করায় সরকার ঢাকা জেলার সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে টানেল ও হাইব্রিড হফম্যান কিলন ছাড়া ওই উপজেলায় সব ইটভাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এ তথ্য জানা‌নো হয়।

এতে বলা হয়, রবিবার পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রের মাধ্যমে এ ঘোষণা জারি করা হয়েছে। এটি বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫ অনুযায়ী করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে সাভার উপজেলায় টানেল ও হাইব্রিড হফম্যান কিলন ব্যতিত সকল ইটভাটা বন্ধ থাকবে। এছাড়া, উন্মুক্তভাবে কঠিন বর্জ্য পোড়ানো, নতুন বায়ুদূষণ সৃষ্টিকারী শিল্প কারখানার অবস্থানগত বা পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান, এবং অন্যান্য বায়ুদূষণজনিত কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির বর্ণনা বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাভারের বায়ুমানের বার্ষিক গড় মাত্রা জাতীয় নির্ধারিত মানমাত্রার প্রায় তিন গুণ বেশি। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে, উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত বায়ু সাভারের এই দূষণকে ঢাকায় নিয়ে আসে, যা রাজধানীর মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

সরকার আশা করছে, এই ঘোষণার ফলে সাভার ও ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিবর্তন আসবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ বলতে বোঝায় এমন একটি ভৌগোলিক এলাকা, যেখানে বাতাসের মান বা গুণমান জাতীয় নিরাপদ সীমার অনেক নিচে। বায়ুদূষণের মাত্রা এত বেশি যে জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই ধরনের এলাকায় সাধারণত শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদরোগ ও ফুসফুসের রোগ বাড়ার ঝুঁকি থাকে।