ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ফরিদগঞ্জ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রিয়াদ বাহীনির অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকায় বাসী চাঁদপুরস্থ কচুয়া উপজেলা আইনজীবী কল্যাণ সমিতির-২০২৬ কার্যকরী কমিটি গঠন এপেক্স ক্লাব অফ চাঁদপুরের ডিনার মিটিং অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ের আউলিয়াপুরে ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণ সম্পন্ন প্রবাসীদের ভালোবাসায় সিক্ত মাসুদ সাঈদী এমপি কুয়ালালামপুরে Istanbul Hotel & Resort Limited-এর সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আরব দেশগুলোর অনুরোধে ইরানে নতুন হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের মালয়শিয়া রাষ্ট্র সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও প্রবাসীদের ভাবনা শীর্ষক আলোচনা সভা শোকের ছায়া হাজীগঞ্জে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান খানের ইন্তেকালে বাকিলাজুড়ে শোকের মাতম জাতীয় সংসদে সাবেক প্রতিমন্ত্রী সিনহার জানাজা, অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী মানবতা, ন্যায়বিচার ও বৈশ্বিক সেবার প্রত্যয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যালাইভ’ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের শুভ উদ্বোধন

“সাভারের সিএন্ডবি আবাসিকে সরকারি সম্পদের মহালুট: গ্যাস লাইন থেকে গাছ—সবই বিক্রির হাটে!”

সাংবাদিক

ঢাকার সাভারে গণপূর্ত অধিদফতরের (PWD) আওতাধীন সিএন্ডবি আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে সরকারি সম্পদের প্রকাশ্য লুটপাট। অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সরকারি বাসাবাড়িগুলো এখন চোরচক্র ও অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে এক ধরনের অবৈধ বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবাসিক এলাকার বহু সরকারি বাসা দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিতভাবে বাসাগুলো থেকে দরজা-জানালা, টিন, লোহার রড, গ্যাস লাইন, চুলা, রাইজার, পানির পাইপলাইনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যাচ্ছে। এসব সামগ্রী স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুধু বাসাবাড়ির ভেতরের সামগ্রীই নয়, আবাসিক এলাকার সরকারি গাছপালাও রেহাই পাচ্ছে না। রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে ট্রলি ও ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি সম্পদের বড় ধরনের অপচয় ঘটছে।
এ ঘটনায় আবাসিক এলাকায় অবস্থানরত কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় পরিসরে এ ধরনের লুটপাট সম্ভব নয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মচারী চোরচক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আজহার আলী বলেন,
“প্রায়ই রাতের বেলা ট্রলি আর ভ্যান ঢুকে মালামাল নিয়ে যায়। সবাই দেখলেও কিছু বলার সাহস পায় না। এখানে যারা দায়িত্বে আছে, তারাই সব জানে।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এখানে এখন সরকারি সম্পদের কোনো হিসাব নেই। গাছ কাটা থেকে শুরু করে গ্যাস লাইন পর্যন্ত বিক্রি হয়ে গেছে। মনে হয় দেখার কেউ নেই।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, বিক্রি বা বিনষ্ট করার অপরাধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ (বিশ্বাসভঙ্গ করে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ) ও ৪২০ (প্রতারণা) ধারায় মামলা করা যেতে পারে। এসব অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমরা এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং গণপূর্ত অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তবে এখনো পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদফতরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন—সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এমন লুটপাট চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন নীরব? দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই লুটপাট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:২৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৫৯১ Time View

“সাভারের সিএন্ডবি আবাসিকে সরকারি সম্পদের মহালুট: গ্যাস লাইন থেকে গাছ—সবই বিক্রির হাটে!”

আপডেটের সময় : ০৪:২৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকার সাভারে গণপূর্ত অধিদফতরের (PWD) আওতাধীন সিএন্ডবি আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে সরকারি সম্পদের প্রকাশ্য লুটপাট। অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সরকারি বাসাবাড়িগুলো এখন চোরচক্র ও অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে এক ধরনের অবৈধ বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবাসিক এলাকার বহু সরকারি বাসা দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিতভাবে বাসাগুলো থেকে দরজা-জানালা, টিন, লোহার রড, গ্যাস লাইন, চুলা, রাইজার, পানির পাইপলাইনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যাচ্ছে। এসব সামগ্রী স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুধু বাসাবাড়ির ভেতরের সামগ্রীই নয়, আবাসিক এলাকার সরকারি গাছপালাও রেহাই পাচ্ছে না। রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে ট্রলি ও ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি সম্পদের বড় ধরনের অপচয় ঘটছে।
এ ঘটনায় আবাসিক এলাকায় অবস্থানরত কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় পরিসরে এ ধরনের লুটপাট সম্ভব নয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মচারী চোরচক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আজহার আলী বলেন,
“প্রায়ই রাতের বেলা ট্রলি আর ভ্যান ঢুকে মালামাল নিয়ে যায়। সবাই দেখলেও কিছু বলার সাহস পায় না। এখানে যারা দায়িত্বে আছে, তারাই সব জানে।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এখানে এখন সরকারি সম্পদের কোনো হিসাব নেই। গাছ কাটা থেকে শুরু করে গ্যাস লাইন পর্যন্ত বিক্রি হয়ে গেছে। মনে হয় দেখার কেউ নেই।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, বিক্রি বা বিনষ্ট করার অপরাধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ (বিশ্বাসভঙ্গ করে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ) ও ৪২০ (প্রতারণা) ধারায় মামলা করা যেতে পারে। এসব অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমরা এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং গণপূর্ত অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তবে এখনো পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদফতরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন—সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এমন লুটপাট চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন নীরব? দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই লুটপাট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।