ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ফরিদগঞ্জ আষ্টা মহামায়া পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডক কমিটির সভাপতি ডা: আবুল কালাম আজাদ। ফরিদগঞ্জ আষ্টা মহামায়া পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডক কমিটির সভাপতি ডা: আবুল কালাম আজাদ। কুয়াকাটাগামী ডাবল ডেকার বাস পুকুরে, ১৫ যাত্রী আহত বুয়েট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মারা গেছেন লংমার্চে বাধা দিলে সরকার জনরোষে পড়বে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা বাণী বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ কুমিল্লা দেবিদ্বারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা পেলো বল্লভপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা! অবসরের পরও আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফিরতে পারেন মেসি

“সাভারের সিএন্ডবি আবাসিকে সরকারি সম্পদের মহালুট: গ্যাস লাইন থেকে গাছ—সবই বিক্রির হাটে!”

সাংবাদিক

ঢাকার সাভারে গণপূর্ত অধিদফতরের (PWD) আওতাধীন সিএন্ডবি আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে সরকারি সম্পদের প্রকাশ্য লুটপাট। অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সরকারি বাসাবাড়িগুলো এখন চোরচক্র ও অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে এক ধরনের অবৈধ বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবাসিক এলাকার বহু সরকারি বাসা দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিতভাবে বাসাগুলো থেকে দরজা-জানালা, টিন, লোহার রড, গ্যাস লাইন, চুলা, রাইজার, পানির পাইপলাইনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যাচ্ছে। এসব সামগ্রী স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুধু বাসাবাড়ির ভেতরের সামগ্রীই নয়, আবাসিক এলাকার সরকারি গাছপালাও রেহাই পাচ্ছে না। রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে ট্রলি ও ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি সম্পদের বড় ধরনের অপচয় ঘটছে।
এ ঘটনায় আবাসিক এলাকায় অবস্থানরত কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় পরিসরে এ ধরনের লুটপাট সম্ভব নয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মচারী চোরচক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আজহার আলী বলেন,
“প্রায়ই রাতের বেলা ট্রলি আর ভ্যান ঢুকে মালামাল নিয়ে যায়। সবাই দেখলেও কিছু বলার সাহস পায় না। এখানে যারা দায়িত্বে আছে, তারাই সব জানে।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এখানে এখন সরকারি সম্পদের কোনো হিসাব নেই। গাছ কাটা থেকে শুরু করে গ্যাস লাইন পর্যন্ত বিক্রি হয়ে গেছে। মনে হয় দেখার কেউ নেই।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, বিক্রি বা বিনষ্ট করার অপরাধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ (বিশ্বাসভঙ্গ করে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ) ও ৪২০ (প্রতারণা) ধারায় মামলা করা যেতে পারে। এসব অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমরা এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং গণপূর্ত অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তবে এখনো পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদফতরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন—সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এমন লুটপাট চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন নীরব? দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই লুটপাট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:২৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৬৬১ Time View

“সাভারের সিএন্ডবি আবাসিকে সরকারি সম্পদের মহালুট: গ্যাস লাইন থেকে গাছ—সবই বিক্রির হাটে!”

আপডেটের সময় : ০৪:২৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকার সাভারে গণপূর্ত অধিদফতরের (PWD) আওতাধীন সিএন্ডবি আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে সরকারি সম্পদের প্রকাশ্য লুটপাট। অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সরকারি বাসাবাড়িগুলো এখন চোরচক্র ও অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে এক ধরনের অবৈধ বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবাসিক এলাকার বহু সরকারি বাসা দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিতভাবে বাসাগুলো থেকে দরজা-জানালা, টিন, লোহার রড, গ্যাস লাইন, চুলা, রাইজার, পানির পাইপলাইনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যাচ্ছে। এসব সামগ্রী স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুধু বাসাবাড়ির ভেতরের সামগ্রীই নয়, আবাসিক এলাকার সরকারি গাছপালাও রেহাই পাচ্ছে না। রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে ট্রলি ও ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি সম্পদের বড় ধরনের অপচয় ঘটছে।
এ ঘটনায় আবাসিক এলাকায় অবস্থানরত কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় পরিসরে এ ধরনের লুটপাট সম্ভব নয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মচারী চোরচক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আজহার আলী বলেন,
“প্রায়ই রাতের বেলা ট্রলি আর ভ্যান ঢুকে মালামাল নিয়ে যায়। সবাই দেখলেও কিছু বলার সাহস পায় না। এখানে যারা দায়িত্বে আছে, তারাই সব জানে।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এখানে এখন সরকারি সম্পদের কোনো হিসাব নেই। গাছ কাটা থেকে শুরু করে গ্যাস লাইন পর্যন্ত বিক্রি হয়ে গেছে। মনে হয় দেখার কেউ নেই।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, বিক্রি বা বিনষ্ট করার অপরাধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ (বিশ্বাসভঙ্গ করে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ) ও ৪২০ (প্রতারণা) ধারায় মামলা করা যেতে পারে। এসব অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমরা এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং গণপূর্ত অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তবে এখনো পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদফতরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন—সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এমন লুটপাট চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন নীরব? দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই লুটপাট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।