ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কম সিনেমা করেও যেভাবে বড় সাম্রাজ্য গড়ে তুলছেন এই বলিউড তারকারা

সাংবাদিক

দশকের পর দশক ধরে ভারতীয় সিনেমার শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রীদের কাছ থেকে রুপালি পর্দার জন্য নিয়মিত কাজের ব্যস্ততা প্রত্যাশা করা হতো। তবে ‘ভ্যারাইটি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলিউডের সেই সমীকরণ এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

দীপিকা পাড়ুকোন, কারিনা কাপুর, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, আনুশকা শর্মা ও ক্যাটরিনা কাইফের মতো তারকারা এখন তাদের কাজের ব্যাপারে আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্বাচনি হয়ে উঠেছেন।

তবে তাদের এই কাজের গতি কমার ফলে বলিউডে তরুণ প্রজন্মের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন সুযোগ। ফলে জাহ্নবি কাপুর, কৃতি স্যানন, রাশমিকা মান্দানা, অনন্যা পান্ডে ও তৃপ্তি দিমরির মতো তরুণ তারকারা অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করতে পারছেন।

বলিউডের গ্লোবাল আইকন প্রিয়াঙ্কাকে সর্বশেষ হিন্দি ছবি ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’-এ এবং আনুশকার শেষ বড় ছবি ছিল ‘জিরো’। অন্যদিকে, ক্যাটরিনাকে দেখা গেছে ‘মেরি ক্রিসমাস’-এ, আর কারিনা ‘জান জানে’ ও ‘সিংহাম এগেইন’-এর মতো কাজের পাশাপাশি নিজের অন্যান্য দায়িত্বও সামলেছেন।

অভিনেত্রীদের এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে তাদের পরিবর্তিত অগ্রাধিকার এবং অবাধ ব্যবসার সুযোগ। অথচ আগে ব্যক্তিগত জীবন বিসর্জন দিয়ে অভিনেত্রীদের অবিরাম কাজ করতে হতো।

বলা যায়, এই ধারার সূচনা করেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই। তিনি মূলধারার সিনেমার গতানুগতিক গতি থেকে কিছুটা দূরে থেকেও নিজের তারকাখ্যাতি ধরে রেখেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানের প্রতিষ্ঠিত তারকারাও ঠিক একই পথ অনুসরণ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তারা গড়ে তুলছেন নিজস্ব ব্যবসা ও ব্র্যান্ড।

এই যেমন, ক্যাটরিনা কাইফ সফল বিউটি ভেঞ্চার গড়ে তুলেছেন, দীপিকা পাড়ুকোন যুক্ত হয়েছেন নানা বিনিয়োগে, আর আলিয়া ভাট শিশুদের পোশাকের ব্র্যান্ডের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থানও এই পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো আরও জটিল ও ভিন্ন ধারার চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দিয়েছে এসব তারকাদের।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘সিটাডেল’ বা ‘দ্য ব্লাফ’-এর মতো কাজ করেছেন, কারিনা ‘জান জানে’ দিয়ে নতুন দর্শক অর্জন করেছেন, এবং আলিয়া ‘ডার্লিংস’-এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট ‘হার্ট অব স্টোন’-এ কাজ করেছেন।

তবে বক্স অফিসে বড় বাজেটের অ্যাকশন ঘরানার ছবির আধিক্য এবং মানসম্মত চিত্রনাট্যের অভাবও অনেক সময় প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীদের দূরে সরিয়ে রাখছে।

এ প্রসঙ্গে পরিচালক মুদাসসার আজিজ ‘পুষ্পা’ বা ‘অ্যানিমেল’-এর মতো ছবির উদাহরণ টেনে বলেন, এসব ছবিতে নারী চরিত্রগুলোর অবস্থা এতটাই করুণ যে অনেক অভিনেত্রী সচেতনভাবেই এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকছেন।

সব মিলিয়ে, বলিউডের শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রীরা সিনেমা থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না; বরং তারা এমন এক ক্ষমতার জগতে প্রবেশ করছেন যেখানে সিনেমা কেবল সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়, বরং একটি বড় ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অংশ মাত্র।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১০:১৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫৪৯ Time View

কম সিনেমা করেও যেভাবে বড় সাম্রাজ্য গড়ে তুলছেন এই বলিউড তারকারা

আপডেটের সময় : ১০:১৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দশকের পর দশক ধরে ভারতীয় সিনেমার শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রীদের কাছ থেকে রুপালি পর্দার জন্য নিয়মিত কাজের ব্যস্ততা প্রত্যাশা করা হতো। তবে ‘ভ্যারাইটি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলিউডের সেই সমীকরণ এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

দীপিকা পাড়ুকোন, কারিনা কাপুর, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, আনুশকা শর্মা ও ক্যাটরিনা কাইফের মতো তারকারা এখন তাদের কাজের ব্যাপারে আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্বাচনি হয়ে উঠেছেন।

তবে তাদের এই কাজের গতি কমার ফলে বলিউডে তরুণ প্রজন্মের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন সুযোগ। ফলে জাহ্নবি কাপুর, কৃতি স্যানন, রাশমিকা মান্দানা, অনন্যা পান্ডে ও তৃপ্তি দিমরির মতো তরুণ তারকারা অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করতে পারছেন।

বলিউডের গ্লোবাল আইকন প্রিয়াঙ্কাকে সর্বশেষ হিন্দি ছবি ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’-এ এবং আনুশকার শেষ বড় ছবি ছিল ‘জিরো’। অন্যদিকে, ক্যাটরিনাকে দেখা গেছে ‘মেরি ক্রিসমাস’-এ, আর কারিনা ‘জান জানে’ ও ‘সিংহাম এগেইন’-এর মতো কাজের পাশাপাশি নিজের অন্যান্য দায়িত্বও সামলেছেন।

অভিনেত্রীদের এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে তাদের পরিবর্তিত অগ্রাধিকার এবং অবাধ ব্যবসার সুযোগ। অথচ আগে ব্যক্তিগত জীবন বিসর্জন দিয়ে অভিনেত্রীদের অবিরাম কাজ করতে হতো।

বলা যায়, এই ধারার সূচনা করেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই। তিনি মূলধারার সিনেমার গতানুগতিক গতি থেকে কিছুটা দূরে থেকেও নিজের তারকাখ্যাতি ধরে রেখেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানের প্রতিষ্ঠিত তারকারাও ঠিক একই পথ অনুসরণ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তারা গড়ে তুলছেন নিজস্ব ব্যবসা ও ব্র্যান্ড।

এই যেমন, ক্যাটরিনা কাইফ সফল বিউটি ভেঞ্চার গড়ে তুলেছেন, দীপিকা পাড়ুকোন যুক্ত হয়েছেন নানা বিনিয়োগে, আর আলিয়া ভাট শিশুদের পোশাকের ব্র্যান্ডের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থানও এই পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো আরও জটিল ও ভিন্ন ধারার চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দিয়েছে এসব তারকাদের।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘সিটাডেল’ বা ‘দ্য ব্লাফ’-এর মতো কাজ করেছেন, কারিনা ‘জান জানে’ দিয়ে নতুন দর্শক অর্জন করেছেন, এবং আলিয়া ‘ডার্লিংস’-এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট ‘হার্ট অব স্টোন’-এ কাজ করেছেন।

তবে বক্স অফিসে বড় বাজেটের অ্যাকশন ঘরানার ছবির আধিক্য এবং মানসম্মত চিত্রনাট্যের অভাবও অনেক সময় প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীদের দূরে সরিয়ে রাখছে।

এ প্রসঙ্গে পরিচালক মুদাসসার আজিজ ‘পুষ্পা’ বা ‘অ্যানিমেল’-এর মতো ছবির উদাহরণ টেনে বলেন, এসব ছবিতে নারী চরিত্রগুলোর অবস্থা এতটাই করুণ যে অনেক অভিনেত্রী সচেতনভাবেই এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকছেন।

সব মিলিয়ে, বলিউডের শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রীরা সিনেমা থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না; বরং তারা এমন এক ক্ষমতার জগতে প্রবেশ করছেন যেখানে সিনেমা কেবল সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়, বরং একটি বড় ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অংশ মাত্র।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন