ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিএনপির শূন্য সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ৭০ জন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করাই হবে বিএনপির প্রজ্ঞার পরিচয়: সাইফুল হক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মানুষকে হেনস্তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে: আইনমন্ত্রী সর্বোচ্চ পূজামণ্ডপ, বরাদ্দ, ছুটি ও নিরাপত্তায় দুর্গাপূজা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১ নভেম্বর থেকে অপরিচিত কলেও দেখা যাবে নাম ও নাম্বার রাজবাড়ীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ১৫ মামলার আসামী ৮০ লাখ টাকার কাপড় নিয়ে উধাও, চারদিন পর খালি ট্রাক উদ্ধার; গ্রেপ্তার ২ ‘আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে দেশে প্রতিনিয়ত হত্যাকাণ্ড ঘটছে’ বাজারে কম দামি সবজি কেবল পেঁপে-মিষ্টি কুমড়া ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট লাগানোর নির্দেশ

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করাই হবে বিএনপির প্রজ্ঞার পরিচয়: সাইফুল হক

সাংবাদিক

জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরকে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ দেশে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যের সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে। ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

সাইফুল হক বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে ইতিবাচকভাবে ধারণ করে বিএনপির সংবিধান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। নবনির্বাচিত সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিলে তা বিএনপির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক অর্জন ও গৌরবের বিষয় হতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ গ্রহণ না করে বিএনপি তার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিজেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের সুযোগ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, গত এক বছরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। এই নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গণভোটের প্রশ্নমালায় জুলাই সনদের বিভিন্ন বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি ও সমালোচনা ছিল। তা সত্ত্বেও আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছি এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছি। জনগণও বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করেছে। এই রায়কে যথাযথভাবে ধারণ করা ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি যদি নির্বাচিত সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিত, তাহলে তা দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক অর্জন হতে পারত। কিন্তু বিএনপি কেন সেই সুযোগ গ্রহণ করল না, তার কোনো যুক্তিসংগত ও পরিষ্কার ব্যাখ্যা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেনি। ফলে বিএনপি জুলাই সনদ মানে না, মৌলিক সংস্কার চায় না- এমন প্রচারণা জোরালো হয়েছে। এসব প্রচারণা অযৌক্তিক ও এক ধরনের রাজনৈতিক অপপ্রচার হলেও বিএনপির ব্যাখ্যার দুর্বলতার কারণে তা মানুষের মধ্যে বিএনপির অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি সংসদে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটি গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এখন যা করছে; সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেও একই কাজ করা যেত। ২৪৮ জন সংসদ সদস্য নিয়ে বিএনপির যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাতে সংসদে দলটির অবস্থানের বাইরে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। তারপরও রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির এইটুকু ঝুঁকি নেওয়া উচিত ছিল। তবে এখন অতীতের সিদ্ধান্ত নিয়ে পড়ে থাকার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- চলমান সংস্কার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা।

বিবৃতিতে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী জানুয়ারিতে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হিসেবে জুলাই সনদের প্রস্তাবসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সংশোধনী বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে এসব প্রস্তাব গৃহীত হবে।

সাইফুল হক বলেন, সংসদের বিরোধী দল সংশ্লিষ্ট কমিটিতে অংশ না নেওয়ায় সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে। বিরোধী দল তাদের অবস্থানকে নীতিগত প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরলেও এর মধ্যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিবেচনাও রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১১:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
৫০৭ Time View

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করাই হবে বিএনপির প্রজ্ঞার পরিচয়: সাইফুল হক

আপডেটের সময় : ১১:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরকে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ দেশে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যের সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে। ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

সাইফুল হক বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে ইতিবাচকভাবে ধারণ করে বিএনপির সংবিধান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। নবনির্বাচিত সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিলে তা বিএনপির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক অর্জন ও গৌরবের বিষয় হতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ গ্রহণ না করে বিএনপি তার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিজেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের সুযোগ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, গত এক বছরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। এই নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গণভোটের প্রশ্নমালায় জুলাই সনদের বিভিন্ন বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি ও সমালোচনা ছিল। তা সত্ত্বেও আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছি এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছি। জনগণও বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করেছে। এই রায়কে যথাযথভাবে ধারণ করা ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি যদি নির্বাচিত সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিত, তাহলে তা দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক অর্জন হতে পারত। কিন্তু বিএনপি কেন সেই সুযোগ গ্রহণ করল না, তার কোনো যুক্তিসংগত ও পরিষ্কার ব্যাখ্যা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেনি। ফলে বিএনপি জুলাই সনদ মানে না, মৌলিক সংস্কার চায় না- এমন প্রচারণা জোরালো হয়েছে। এসব প্রচারণা অযৌক্তিক ও এক ধরনের রাজনৈতিক অপপ্রচার হলেও বিএনপির ব্যাখ্যার দুর্বলতার কারণে তা মানুষের মধ্যে বিএনপির অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি সংসদে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটি গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এখন যা করছে; সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেও একই কাজ করা যেত। ২৪৮ জন সংসদ সদস্য নিয়ে বিএনপির যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাতে সংসদে দলটির অবস্থানের বাইরে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। তারপরও রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির এইটুকু ঝুঁকি নেওয়া উচিত ছিল। তবে এখন অতীতের সিদ্ধান্ত নিয়ে পড়ে থাকার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- চলমান সংস্কার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা।

বিবৃতিতে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী জানুয়ারিতে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হিসেবে জুলাই সনদের প্রস্তাবসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সংশোধনী বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে এসব প্রস্তাব গৃহীত হবে।

সাইফুল হক বলেন, সংসদের বিরোধী দল সংশ্লিষ্ট কমিটিতে অংশ না নেওয়ায় সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে। বিরোধী দল তাদের অবস্থানকে নীতিগত প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরলেও এর মধ্যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিবেচনাও রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।