ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ লাঘবে নিজ উদ্যোগে সাঁকো নির্মাণ ও রাস্তা সংস্কার করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী গোপালগঞ্জে আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ফরিদগঞ্জে ভুয়া চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় পঙ্গুতের পথে ৫টি শিশু, (ইউ,এন,ও) কাছে অভিযোগ সংবাদ প্রকাশের জেরে আর কত সাংবাদিক হবে হামলার শিকার? কোটালীপাড়ায় ১৫ দিনেই নতুন সড়কে ধস জাল সনদে চাকরি: জিয়ানগরের বাটাজোড় আলীম মাদ্রাসার দুই শিক্ষকের এমপিও বাতিল নরসিংদীতে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সাংবাদিক বাবুলসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা চাঁদপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ নরসিংদীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান

তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন

সাংবাদিক

হাসপাতালে আট মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন।

সোমবার (১ জুন) বিকাল ৪টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

তোফায়েলের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে স্যোশাল মিডিয়ায়।

চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দুদকের একটি মামলায় গত ৭ মে তোফায়েল আহমেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।  তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।

ওই সময় তোফায়েলের আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। বাস্তবিক অর্থে তোফায়েল আহমেদ কাউকে চিনতে পারেন না। তার স্মৃতি শক্তি লোপ পেয়েছে।

ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম  মামলাটি করেছিলেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন-ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপন করার উদ্দেশ্যে সহযোগীদের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন করেন। ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়। মামলাটি তদন্ত শেষে তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সম্প্রতি উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় মামলার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ছিলেন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তোফায়েল আহমেদ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।

 

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১১:২৯:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
৬২৮ Time View

তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন

আপডেটের সময় : ১১:২৯:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

হাসপাতালে আট মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন।

সোমবার (১ জুন) বিকাল ৪টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

তোফায়েলের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে স্যোশাল মিডিয়ায়।

চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দুদকের একটি মামলায় গত ৭ মে তোফায়েল আহমেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।  তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।

ওই সময় তোফায়েলের আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। বাস্তবিক অর্থে তোফায়েল আহমেদ কাউকে চিনতে পারেন না। তার স্মৃতি শক্তি লোপ পেয়েছে।

ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম  মামলাটি করেছিলেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন-ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপন করার উদ্দেশ্যে সহযোগীদের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন করেন। ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়। মামলাটি তদন্ত শেষে তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সম্প্রতি উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় মামলার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ছিলেন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তোফায়েল আহমেদ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।