সিসি ক্যামেরায় নজরদারি, তবুও রক্ষা পেল না কোটালীপাড়ার মাদক সম্রাট সজিব; ৩,৯৫০ পিস ইয়াবাসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার
নিজ বাড়িতে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ ছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার কথিত মাদক সম্রাট সজিব মিয়ার (৩৬)।
অবশেষে র্যা ব-৬ এর অভিযানে ৩ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন মাদক সম্রাট সজিব মিয়া।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে র্যা ব-৬, সদর কোম্পানি (ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প) এর একটি আভিযানিক দল কোটালীপাড়া পৌরসভার ডহরপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত সজিব কোটালীপাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ডহরপাড়া এলাকার মজিদ মিয়ার ছেলে।
র্যা ব সূত্রে জানা যায়, সজিবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রির অভিযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতেন এবং সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যা ব তার বসতবাড়িতে অভিযান চালায়।
অভিযানকালে সজিবকে তার নিজ ঘর থেকে আটক করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৩ হাজার ৯৫০ পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
র্যা বের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজিব দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই হবে।
ভাটিয়াপাড়া র্যা ব ক্যাম্পের কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম রেজাউল হক জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কোটালীপাড়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে জব্দকৃত আলামতসহ কোটালীপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক নির্মূল ও মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে র্যা বের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন বলেন, “সজিব দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল বলে অভিযোগ ছিল। উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশেষে র্যা বের অভিযানে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। আমরা চাই, কোটালীপাড়ার সকল মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা হোক।”





















