প্রতি কৃষক কার্ডের বিকাশে এলো আড়াই হাজার টাকা, কোটালীপাড়ায় স্বস্তির হাসি ১,২৫৫ কৃষকের
মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, গোপালগঞ্জ: কৃষক কার্ডের আনন্দে যোগ হলো সরাসরি আর্থিক সহায়তা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কোটালীপাড়ার কান্দি ইউনিয়নের তারাকান্দো গ্রামের সুমা বাড়ৈর মোবাইলে বিকাশ একাউন্টে এলো আড়াই হাজার টাকা। সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যে হঠাৎ পাওয়া এই অর্থে স্বস্তি ফিরেছে তাঁর মুখে।
শুধু সুমা নন, একই সময়ে কোটালীপাড়ার কান্দি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ২৫৫ কৃষকের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পৌঁছেছে এই অর্থ। ‘কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এ কার্যক্রম শুরু হয়। ফেনী জেলার ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন কোটালীপাড়ার কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুম থেকে কর্মকর্তারা, কৃষক প্রতিনিধি, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর কোটালীপাড়ার কান্দি ইউনিয়নের নির্ধারিত কৃষকদের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাঠানো হয়। কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর কান্দি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ২৫৫ জন কৃষক কৃষক কার্ডের আর্থিক সুবিধা হিসেবে প্রত্যেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছেন। তারাকান্দো গ্রামের সুমা বাড়ৈ বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আমার বিকাশে আড়াই হাজার টাকা এসেছে। আমি খুব আনন্দিত হয়েছি।
আমার স্বামী কাঠমিস্ত্রির সহকারির কাজ করেন। সংসারে অভাব-অনটন রয়েছে। এই টাকা আমাদের অনেক উপকারে আসবে।’ কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকউজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গোপালগঞ্জের উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরেফীন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায়, উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল আজম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া ও কোটালীপাড়া থানার ওসি মো. রিয়াদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষক প্রতিনিধি, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা কৃষি উপকরণ, সরকারি প্রণোদনা, সেচ, কৃষিঋণসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার আওতায় আসার সুযোগ পাবেন।



















২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ, বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ যারা