অনেক কষ্টে গড়ে তোলা নিজ কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালনার দায়িত্ব সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানি।

সম্প্রতি কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) কোম্পানিতে তিন সন্তানের ভূমিকা ঠিক করে দেন তিনি। পরিকল্পনা মতোই একমাত্র মেয়েকেও বড় দায়িত্ব দিয়েছেন ভারতের অন্যতম শীর্ষ এ ধনকুবের।

বিবিসির এক প্রতিবেদন মতে, প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের টেলিকমিউনিকেশন ও রিটেইল বিজনেস সামলাবেন যথাক্রমে আম্বানির বড় দুই সন্তান আকাশ আম্বানি ও ইশা আম্বানি। আর ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানিকে দেয়া হয়েছে নতুন জ্বালানি খাতের দায়িত্ব।

৬৫ বছর বয়সী মুকেশ আম্বানি এখনও রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কোম্পানি পরিচালনায় আগের মতোই সক্রিয় রয়েছেন। তবে এশিয়ার বেশিরভাগ ব্যবসায়ী বাবারা যেমন জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সম্পদ আকড়ে থাকেন, সেই পথে হাঁটছেন না মুকেশ। বরং পরপারে পাড়ি জমানোর আগেই তিনি নতুন প্রজন্ম তথা সন্তানদের ব্যবসার নেতৃত্বে নিয়ে আসছেন।

গত বছর মুকেশ ঘোষণা দেন, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে। পরের প্রজন্ম আরও দায়িত্ব নিচ্ছে। তিনি বলেন, সন্তানদের মধ্যে আমি সেই প্রতিভা ও সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি, যা রিলায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা আমার বাবা ধীরুভাই আম্বানির মধ্যে ছিল। আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ধীরুভাইয়ের মতোই ভারতের আর্থিক বিকাশে অবদান রাখবে আম্বানি পরিবারের আগামী প্রজন্ম।

সেই পরিকল্পনা মতোই চলতি বছরের জুন মাসেই বড় রদবদল হয় রিলায়েন্সে। টেলিকমিউনিকেশন খাতের চেয়ারম্যান পদে পুত্র আকাশ আম্বানিকে বসান মুকেশ। তখনই জানা যায়, রিলায়েন্স রিটেলের চেয়ারম্যান হতে পারেন কন্যা ইশা আম্বানি। গত মাসে (২৯ আগস্ট) বার্ষিক সাধারণ সভায় একমাত্র মেয়ে ইশা আম্বানিকে রিলায়েন্স রিটেলের দায়িত্ব দেন মুকেশ।

দায়িত্ব নিয়েই ইশা ঘোষণা করেন, এবার থেকে রিলায়েন্স গ্রোসারি গ্রাহকরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অর্ডার ও পেমেন্ট করতে পারবেন। তাছাড়া রিলায়েন্স রিটেল আগামীতে একটি এফএমসিজি (ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস) ব্যবসা শুরু করবে বলেও জানান তিনি।

ইশা বলেন, তার লক্ষ্য ভারতীয়দের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে উৎকৃষ্ট পণ্য উৎপাদন ও তা গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া। সবটাই হবে ন্যূনতম মূল্যে। চলতি বছরে নতুন ২ হাজার ৫০০টি স্টোর খুলেছে রিলায়েন্স রিটেইল। ফলে তাদের স্টোরের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫ হাজার। মূলত ২০১৫ সালেই পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন ইশা। তিনি জিও প্ল্যাটফর্ম, জিও লিমিটেড, আরভিএলের বোর্ড অব ডিরেক্টরসদের অন্যতম। বর্তমানে ভাই আকাশ আম্বানি রিলায়েন্স জিও’র চেয়ারম্যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x