ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ‘শীতার্তদের কম্বল দাও’ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনের ক্রাউড ফান্ডিং সমাপ্ত, কম্বল বিতরণ শক্রবার রাত ১০টায় নিখোঁজ সংবাদ যেখানে মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখান থেকে সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করব: তারেক রহমান খালেদা জিয়ার শোকের শক্তিকে জাতি বিনির্মাণে ব্যবহার করতে চাই: সালাহউদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হলেন ডা. সায়েদুর রহমান ঈশ্বরদীতে বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত অকৃত্রিম ভালোবাসায় আপসহীন নেত্রীকে শেষ বিদায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আজ দুপুর ২টায়

যেখানে মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখান থেকে সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করব: তারেক রহমান

সাংবাদিক

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তারেক রহমান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। গতকাল বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর জানাজা ঘিরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের ঢল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে উপচে পড়ে। ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মানুষ জানাজায় অংশ নেয়। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়াকে শেরেবাংলা নগরে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়।

গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় ভাস্বর হয়ে আমি আমার প্রিয় মা, জীবনের প্রথম শিক্ষক, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমার বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছি। তাঁর অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবু, এই কঠিন মুহূর্তে দেশের মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতি আমাকে একাকিত্বে ভুগতে দেয়নি।

অগণিত নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার ও দেশবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত। লক্ষ-লক্ষ মানুষ একসাথে এসে যেভাবে সম্মান জানিয়েছে, ভালোবাসা দিয়েছে, এবং এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে; তা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে: তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না; অনেক দিক থেকে, তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, বৈশ্বিক কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহোযোগীরা সশরীরে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান, এবং আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। যেসব দেশ সমবেদনা প্রকাশ করেছে, তাদের প্রতিও আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আপনাদের এই সহমর্মিতা আমাদের হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে।

শোকের এই মুহূর্তে আমি আমার প্রাণপ্রিয় বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করছি। আজ এত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে, পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।

আমার মা সারাজীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন। আজ তাঁর সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার আমি গভীরভাবে অনুভব করছি। একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি: যেখানে আমার মা’র পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করবো সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে। সেই মানুষদের জন্য, যাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস তাঁকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শক্তি দিয়েছে, প্রেরণা যুগিয়েছে।

আল্লাহ যেন আমার মা’র রূহকে শান্তি দান করেন, আর তিনি যে অসীম ভালোবাসা, ত্যাগ ও উদারতার উদাহরণ আমাদের সবাইকে দিয়ে গেছেন, সেখান থেকেই আমরা শক্তি, ঐক্য এবং দেশপ্রেম খুঁজে পাই।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ১২:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
৫১১ Time View

যেখানে মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখান থেকে সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করব: তারেক রহমান

আপডেটের সময় : ১২:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তারেক রহমান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। গতকাল বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর জানাজা ঘিরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের ঢল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে উপচে পড়ে। ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মানুষ জানাজায় অংশ নেয়। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়াকে শেরেবাংলা নগরে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়।

গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় ভাস্বর হয়ে আমি আমার প্রিয় মা, জীবনের প্রথম শিক্ষক, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমার বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছি। তাঁর অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবু, এই কঠিন মুহূর্তে দেশের মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতি আমাকে একাকিত্বে ভুগতে দেয়নি।

অগণিত নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার ও দেশবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত। লক্ষ-লক্ষ মানুষ একসাথে এসে যেভাবে সম্মান জানিয়েছে, ভালোবাসা দিয়েছে, এবং এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে; তা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে: তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না; অনেক দিক থেকে, তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, বৈশ্বিক কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহোযোগীরা সশরীরে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান, এবং আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। যেসব দেশ সমবেদনা প্রকাশ করেছে, তাদের প্রতিও আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আপনাদের এই সহমর্মিতা আমাদের হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে।

শোকের এই মুহূর্তে আমি আমার প্রাণপ্রিয় বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করছি। আজ এত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে, পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।

আমার মা সারাজীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন। আজ তাঁর সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার আমি গভীরভাবে অনুভব করছি। একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি: যেখানে আমার মা’র পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করবো সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে। সেই মানুষদের জন্য, যাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস তাঁকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শক্তি দিয়েছে, প্রেরণা যুগিয়েছে।

আল্লাহ যেন আমার মা’র রূহকে শান্তি দান করেন, আর তিনি যে অসীম ভালোবাসা, ত্যাগ ও উদারতার উদাহরণ আমাদের সবাইকে দিয়ে গেছেন, সেখান থেকেই আমরা শক্তি, ঐক্য এবং দেশপ্রেম খুঁজে পাই।