লাল-সবুজে নতুনের জয়গান/ ফিফা আসিয়ান কাপে চার ফুটবলারের অভিষেক
একচিলতে রোদ্দুর দেখেই যেমন বসন্ত এসে গেছে বলা যায় না, তেমনই প্রথম দুই ম্যাচের হার দিয়ে বাংলাদেশে সদ্য অভিষেক হওয়া চার ফুটবলারের ভবিষ্যৎ লিখে দেওয়া যায় না। কোচ থমাস ডুলির মগজাস্ত্রে প্রবাসী আর নতুনদের নিয়ে এক মহাপরীক্ষা চলছে ফিফা আসিয়ান কাপ। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ফারহান আলী ওয়াহিদ, শুকি ইতোফুসা, জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ আর মিনহাজুল করিম স্বাধীনরা যখন প্রথম আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখলেন, তখন এক বুক প্রত্যাশা নিয়ে টিভির সামনে বসেছিল গোটা দেশ। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলের রুক্ষ বাস্তবতা বড় কঠিন, বড় নির্মম।
মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ এবং সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলের হার সেই নির্মমতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। তবুও এই অন্ধকারের বুকেও কি চার নবাগত কোনো আশার আলো দেখাতে পারলেন? নাকি তারা কেবলই ডুলির এক-একটি ক্ষণস্থায়ী তাসের ঘর হয়ে রইলেন? এরই মধ্যে দুই ম্যাচে ইংল্যান্ড প্রবাসী জিদান ইউসুফ ভরসার জায়গা বাড়িয়েছেন, সেখানে ফারহান ও শুকিদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের গতি ও ফিজিক্যালিটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে আরও কিছুটা সময় দিতে হবে। ১ অক্টোবরের ইন্দোনেশিয়া ম্যাচই হয়তো ঠিক করে দেবে, এই নতুনদের ওপর ডুলির বাজি কতটা সফল হলো!
আপাতত পুরো দল নিয়ে একটা কানাঘুষা জোর বাতাস পেয়েছে। জাকার্তার হোটেল লবি থেকে ঢাকার সোশ্যাল মিডিয়ার দেয়াল– সবখানেই গতকাল একটা নাম ঘুরে বেড়িয়েছে, তা হলো ফারহান আলী ওয়াহিদ। প্রথম ম্যাচে ৪৫ মিনিট খেলেছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে সাইডবেঞ্চের এক কোনায় জবুথবু হয়ে বসে রইলেন, পেলেন না একটি মিনিটের ‘ম্যাচ টাইম’। বাতাসে জোর গুঞ্জন– কোচের সঙ্গে নাকি মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন এই নবাগত ব্রিটিশ প্রবাসী। ফিসফাস আরও গভীর, ম্যাচ শেষে নাকি ফারহানের বাবার সঙ্গে ডুলির তুমুল বচসা হয়েছে! অবশ্য কোনো পক্ষ থেকেই এমন ঘটনার স্বীকারোক্তি আসেনি। দলের ম্যানেজারও সটান জানিয়ে দিয়েছেন এমন কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ তাঁর ডেস্কে আসেনি। বরং নতুন খবর হলো গতকাল মঙ্গলবার জার্কাতায় ফারহান আর শুকিকে সেট পিসের অনুশীলন করিয়েছেন কোচ। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের দুজনকেই খেলানোর পরিষ্কার পরিকল্পনা রয়েছে কোচের।
হামজা-জামালদের এই দলে নবাগতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ম্যাচিউরড ফুটবল খেলেছেন সেন্টার-ব্যাক জিদান ইউসুফ। প্রথম ম্যাচে ৩১ মিনিটে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল ও ২টি ইন্টারসেপশন করেন তিনি। সিঙ্গাপুর ম্যাচে যখন বাংলাদেশ ১-০ গোলে পিছিয়ে, তখন পুরো ম্যাচে জিদান ছিলেন রক্ষণের অতন্দ্র প্রহরী। পুরো ম্যাচে তিনি প্রায় ৩৮ বার বল স্পর্শ করেন। সিঙ্গাপুরের স্ট্রাইকারদের বেশ কয়েকটি কাউন্টার-অ্যাটাক তিনি চমৎকার পজিশনিং ও ফিজিক্যাল ট্যাকল দিয়ে নস্যাৎ করে দেন। সিঙ্গাপুর ম্যাচের রক্ষণাত্মক ডিসিপ্লিনের পেছনে এই ব্রিটিশ প্রবাসীর বড় ভূমিকা ছিল। স্থানীয়দের মধ্যে অভিষেক হওয়া স্বাধীনও অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নামা মিনহাজুল করিম স্বাধীন ৩৩ মিনিটে বল টাচ করেছেন ১৫ বার। উইং দিয়ে দুটি চমৎকার ক্রস বক্সে ফেলেছিলেন। আক্রমণের ক্ষেত্রে তাঁর গতি ডুলির কৌশলে কিছুটা ইতিবাচক ইমপ্যাক্ট ফেলেছিল।
তবে আক্রমণ ভাগের দুই নবাগত প্রবাসীর মধ্যে শুকি যতটা আস্থা অর্জন করেছেন ডুলির, ফারহান সেটা পারেননি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ডুলি যাঁকে ‘নাম্বার নাইন’ বা ফিনিশারের অভাব পূরণের যোগ্য একজন ভাবছিলেন, সেই ফারহান আলী ওয়াহিদ প্রথম ম্যাচে বড্ড একা হয়ে রইলেন। প্রথমার্ধে তিনি বল টাচ করতে পেরেছেন মাত্র ১১ বার। মিডফিল্ড থেকে বলের জোগান না থাকায় বক্সে বিপজ্জনক আক্রমণ শানাতে পারেননি, অন-টার্গেট শটও নিতে পারেননি। অন্যদিকে লেফট-উইংয়ে খেলা শুকি ইতোফুসা বলের ছোঁয়া পান ১৮ বার। তাঁর পাসিং অ্যাকুরেসি সন্তোষজনক হলেও ওয়ান-অন-ওয়ান ড্রিবলিংয়ে মালয়েশিয়ান ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করতে পারেননি। তবে সিঙ্গাপুর ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি কিছুটা ইতিবাচক ছিল।






















২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৭ কোটি টাকা, মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ /মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম বরখাস্ত