ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোকসানের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, দাবি বিপিসির

সাংবাদিক

আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন– চার ধরনের তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার হলো। এটা দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রোল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বেড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) দাবি,  ২০২৫ সালের এপ্রিলের চার হাজার ১৯৫ কোটি টাকার আমদানি ব্যয় চলতি বছরের এপ্রিলে বেড়ে আট হাজার ১৩৫ কোটি টাকা হয়। মে মাসের খরচ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চার হাজার ১৮২ কোটি থেকে বেড়ে ১৩ হাজার ৪৮৫ কোটি এবং আগস্টে দুই হাজার ৭৪০ কোটি ৬২ লাখ থেকে সাত হাজার ৬০৩ কোটি টাকা হয়েছে।

মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির নিজস্ব তহবিলের লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে এপ্রিলে লোকসান সাত হাজার ৮৬৬ কোটি এবং জুনে ছয় হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে লোকসান পাঁচ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয় বিপিসি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত লোকসানের অর্থ সরকারি সহায়তা হিসেবে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত শুল্ককর কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এরপর বিপিসির অর্থ সংকট নিয়ে গত সপ্তাহে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিপিসির হাতে জ্বালানি আমদানির জন্য মাত্র ১৫ দিনের অর্থ থাকার বিষয়টি উঠে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপিসিকে চার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে তা এখনও দেওয়া হয়নি। বিপিসি জানিয়েছে, তারা আমদানি ব্যয় মেটাতে চলতি বছর ব্যাংক থেকে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তুলেছে। বর্তমানে ব্যাংক হিসাবে রয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। অথচ দুই মাসের আমদানি ব্যয়ের জন্য প্রয়োজন প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

গতকালের প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানো হলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৭:০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৭ Time View

লোকসানের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, দাবি বিপিসির

আপডেটের সময় : ০৭:০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন– চার ধরনের তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার হলো। এটা দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রোল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বেড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) দাবি,  ২০২৫ সালের এপ্রিলের চার হাজার ১৯৫ কোটি টাকার আমদানি ব্যয় চলতি বছরের এপ্রিলে বেড়ে আট হাজার ১৩৫ কোটি টাকা হয়। মে মাসের খরচ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চার হাজার ১৮২ কোটি থেকে বেড়ে ১৩ হাজার ৪৮৫ কোটি এবং আগস্টে দুই হাজার ৭৪০ কোটি ৬২ লাখ থেকে সাত হাজার ৬০৩ কোটি টাকা হয়েছে।

মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির নিজস্ব তহবিলের লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে এপ্রিলে লোকসান সাত হাজার ৮৬৬ কোটি এবং জুনে ছয় হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে লোকসান পাঁচ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয় বিপিসি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত লোকসানের অর্থ সরকারি সহায়তা হিসেবে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত শুল্ককর কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এরপর বিপিসির অর্থ সংকট নিয়ে গত সপ্তাহে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিপিসির হাতে জ্বালানি আমদানির জন্য মাত্র ১৫ দিনের অর্থ থাকার বিষয়টি উঠে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপিসিকে চার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে তা এখনও দেওয়া হয়নি। বিপিসি জানিয়েছে, তারা আমদানি ব্যয় মেটাতে চলতি বছর ব্যাংক থেকে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তুলেছে। বর্তমানে ব্যাংক হিসাবে রয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। অথচ দুই মাসের আমদানি ব্যয়ের জন্য প্রয়োজন প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

গতকালের প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানো হলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।