ঢাকা , সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিএনপির ত্যাগী নেতাদের চাকরি, ডিলারশিপ ও ঠিকাদারি দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী বাঁচার জন্য আ.লীগ-ছাত্রলীগের অনেকে এখন জামায়াত হয়ে যাচ্ছে: রাশেদ খাঁন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন আগামী বছরের ২৬ জানুয়ারি দুর্গাপূজার ছুটিতে এবারও বিশেষ ট্রেন, বাড়তি বগি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে কমিটি অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন নভেম্বরের শেষেই রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা রোসাটমের হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য: তাজমীন কীভাবে কক্সবাজারে গেল, জানালেন মা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সোবহানার ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি, জুটিতেও রেকর্ড

সাউথইস্ট ব্যাংকের ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, কারাগারে বিএনপি নেতা

সাউথইস্ট ব্যাংকের ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় পাবনার ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্যসচিব ইমরুল কায়েস সুমনের স্থায়ী জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন ইমরুল কায়েস সুমন। শুনানি শেষে বিচারক শাহিন কবির তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাউথইস্ট ব্যাংকের ঈশ্বরদী শাখার করা মামলাটি জিআর ২০৩/১৯ নম্বরে নথিভুক্ত। এতে ইমরুল কায়েস সুমন অন্যতম প্রধান আসামি। রোববার আদালতে হাজির হয়ে তিনি স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তা নামঞ্জুর করলে তাকে পুলিশি পাহারায় পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের ব্যবসায়িক ক্যাশ ক্রেডিট (সিসি) সীমার বিপরীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার পর তা পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে ইমরুল কায়েস সুমনের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে তিনি সপরিবার আত্মগোপনে চলে যান বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল সাউথইস্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করা হয়।

পরে মামলাটির তদন্তে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশের অভিযোগও উঠে আসে। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের জুনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাউথইস্ট ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে। ওই মামলায় প্রায় ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাতে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তে ব্যাংকের নিয়ম না মেনে কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই ইমরুল কায়েস সুমনকে ওভারড্রাফট ও ঋণ সুবিধা দেওয়ার তথ্য উঠে আসে।

এদিকে ব্যাংক ঋণ ও চেক জালিয়াতিসংক্রান্ত মামলায় ইমরুল কায়েস সুমনের বিরুদ্ধে আদালতের রায়ের বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি তাকে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্যসচিব পদে মনোনীত করা হয়। এরপর বিচারাধীন ও আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত মামলার আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, এ নিয়ে বিএনপির তৃণমূলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

সাউথইস্ট ব্যাংক পাবনা শাখার জোনাল ম্যানেজার এ কে এম মতিউর রহমান সমকালকে বলেন, ‘ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা নেওয়া হয়েছিল। সেই মামলায় আসামিকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৭:১৭:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
৫৫২ Time View

সাউথইস্ট ব্যাংকের ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, কারাগারে বিএনপি নেতা

আপডেটের সময় : ০৭:১৭:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

সাউথইস্ট ব্যাংকের ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় পাবনার ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্যসচিব ইমরুল কায়েস সুমনের স্থায়ী জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন ইমরুল কায়েস সুমন। শুনানি শেষে বিচারক শাহিন কবির তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাউথইস্ট ব্যাংকের ঈশ্বরদী শাখার করা মামলাটি জিআর ২০৩/১৯ নম্বরে নথিভুক্ত। এতে ইমরুল কায়েস সুমন অন্যতম প্রধান আসামি। রোববার আদালতে হাজির হয়ে তিনি স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তা নামঞ্জুর করলে তাকে পুলিশি পাহারায় পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের ব্যবসায়িক ক্যাশ ক্রেডিট (সিসি) সীমার বিপরীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার পর তা পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে ইমরুল কায়েস সুমনের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে তিনি সপরিবার আত্মগোপনে চলে যান বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল সাউথইস্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করা হয়।

পরে মামলাটির তদন্তে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশের অভিযোগও উঠে আসে। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের জুনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাউথইস্ট ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে। ওই মামলায় প্রায় ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাতে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তে ব্যাংকের নিয়ম না মেনে কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই ইমরুল কায়েস সুমনকে ওভারড্রাফট ও ঋণ সুবিধা দেওয়ার তথ্য উঠে আসে।

এদিকে ব্যাংক ঋণ ও চেক জালিয়াতিসংক্রান্ত মামলায় ইমরুল কায়েস সুমনের বিরুদ্ধে আদালতের রায়ের বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি তাকে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্যসচিব পদে মনোনীত করা হয়। এরপর বিচারাধীন ও আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত মামলার আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, এ নিয়ে বিএনপির তৃণমূলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

সাউথইস্ট ব্যাংক পাবনা শাখার জোনাল ম্যানেজার এ কে এম মতিউর রহমান সমকালকে বলেন, ‘ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা নেওয়া হয়েছিল। সেই মামলায় আসামিকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন।’