ঢাকা , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

সালমানের হয়ে বিদেশি আইনজীবী লড়তে পারবেন কিনা, জানা যাবে ২৬ অক্টোবর

সাংবাদিক

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসিকিউশনের পক্ষে সময় চান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মঈনুল করিম, মামুনুর রশিদ ও মার্জিনা রায়হান। সালমান এফ রহমানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরীসহ অন্য আইনজীবীরা।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে জানান, বিদেশি আইনজীবী নিয়ে বার কাউন্সিলকে নির্দেশনা দেওয়ার আবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে শুনানির সময় চিফ প্রসিকিউটরের উপস্থিতি প্রয়োজন। বর্তমানে তিনি ছুটিতে রয়েছেন। এছাড়া মামলাটিও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাই অক্টোবরের শেষের দিকে শুনানির তারিখ দিলে ভালো হয়।

এ সময় ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, আবেদনটি অনেক পুরোনো। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল একটি আদেশও দিয়েছেন। তবে মামলার বিচার চলাকালে বিদেশি আইনজীবীর উপস্থিতি প্রয়োজন।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

সালমান এফ রহমানের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে লড়তে চেয়ে গত ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন করেন লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের কাউন্সেল গ্রায়েম এল হল। আবেদনটি ২৪ আগস্ট গ্রহণ করে বার কাউন্সিল।

গ্রায়েম এল হল জানান, সালমান ফজলুর রহমানের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে তাকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হোক। আবেদনের সঙ্গে নিজের প্রোফাইল ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রও সংযুক্ত করেন তিনি।

এর আগে, ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে আবেদন করেন মুনসুরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করতে হলে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিতে হয়। পরে বার কাউন্সিলে আবেদন করতে হয়। তাদের অনুমতি পেলে আইনজীবী নিয়োগে কোনো বাধা থাকবে না। তবে তার আবেদনে আপত্তি জানিয়েছিল প্রসিকিউশন।

এ মামলায় সালমান এফ রহমান ছাড়াও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১২ জন সাক্ষী।

চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর এসব অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগের প্রথমটিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন সালমান ও আনিসুল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই ফোনে কথা বলেন তারা। তাদের কথোপকথনের একপর্যায়ে ‘ওদের শেষ করে দেওয়া’ এবং ওই রাতেই কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দেওয়ার কথা বলা হয়। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনায় বহু ছাত্র-জনতা প্রাণ হারান।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, সালমান ও আনিসুলের জ্ঞাতসারে ২৩ জুলাই মিরপুরে হত্যাকাণ্ড ঘটে। তাদের প্ররোচনা ও উসকানিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় বাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালায়। তৃতীয় অভিযোগে মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, তাদের উসকানি ও সহায়তায় ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় হত্যাযজ্ঞ ঘটে।

চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, কারফিউ জারি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনার মাধ্যমে ৪ আগস্ট মিরপুর-১ এলাকায় আকাশ, সেতু, আলভীসহ ১২ জনকে হত্যা করা হয়। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জড়িত ছিলেন।

পঞ্চম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকাতে পরিকল্পনা করেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। তাদের নির্দেশে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের হামলায় মিরপুর-২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আল-আমিন, আশরাফুল, সাব্বির, রিতাসহ ১৬ জন নিহত হন।

ট্যাগ :

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৮:২১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৪ Time View

সালমানের হয়ে বিদেশি আইনজীবী লড়তে পারবেন কিনা, জানা যাবে ২৬ অক্টোবর

আপডেটের সময় : ০৮:২১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসিকিউশনের পক্ষে সময় চান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মঈনুল করিম, মামুনুর রশিদ ও মার্জিনা রায়হান। সালমান এফ রহমানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরীসহ অন্য আইনজীবীরা।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে জানান, বিদেশি আইনজীবী নিয়ে বার কাউন্সিলকে নির্দেশনা দেওয়ার আবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে শুনানির সময় চিফ প্রসিকিউটরের উপস্থিতি প্রয়োজন। বর্তমানে তিনি ছুটিতে রয়েছেন। এছাড়া মামলাটিও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাই অক্টোবরের শেষের দিকে শুনানির তারিখ দিলে ভালো হয়।

এ সময় ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, আবেদনটি অনেক পুরোনো। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল একটি আদেশও দিয়েছেন। তবে মামলার বিচার চলাকালে বিদেশি আইনজীবীর উপস্থিতি প্রয়োজন।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

সালমান এফ রহমানের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে লড়তে চেয়ে গত ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন করেন লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের কাউন্সেল গ্রায়েম এল হল। আবেদনটি ২৪ আগস্ট গ্রহণ করে বার কাউন্সিল।

গ্রায়েম এল হল জানান, সালমান ফজলুর রহমানের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে তাকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হোক। আবেদনের সঙ্গে নিজের প্রোফাইল ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রও সংযুক্ত করেন তিনি।

এর আগে, ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে আবেদন করেন মুনসুরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করতে হলে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিতে হয়। পরে বার কাউন্সিলে আবেদন করতে হয়। তাদের অনুমতি পেলে আইনজীবী নিয়োগে কোনো বাধা থাকবে না। তবে তার আবেদনে আপত্তি জানিয়েছিল প্রসিকিউশন।

এ মামলায় সালমান এফ রহমান ছাড়াও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১২ জন সাক্ষী।

চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর এসব অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগের প্রথমটিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন সালমান ও আনিসুল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই ফোনে কথা বলেন তারা। তাদের কথোপকথনের একপর্যায়ে ‘ওদের শেষ করে দেওয়া’ এবং ওই রাতেই কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দেওয়ার কথা বলা হয়। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনায় বহু ছাত্র-জনতা প্রাণ হারান।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, সালমান ও আনিসুলের জ্ঞাতসারে ২৩ জুলাই মিরপুরে হত্যাকাণ্ড ঘটে। তাদের প্ররোচনা ও উসকানিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় বাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালায়। তৃতীয় অভিযোগে মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, তাদের উসকানি ও সহায়তায় ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় হত্যাযজ্ঞ ঘটে।

চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, কারফিউ জারি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনার মাধ্যমে ৪ আগস্ট মিরপুর-১ এলাকায় আকাশ, সেতু, আলভীসহ ১২ জনকে হত্যা করা হয়। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জড়িত ছিলেন।

পঞ্চম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকাতে পরিকল্পনা করেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। তাদের নির্দেশে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের হামলায় মিরপুর-২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আল-আমিন, আশরাফুল, সাব্বির, রিতাসহ ১৬ জন নিহত হন।